| |

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে প্রান্তিক কৃষকদের মিশ্র ফসল চাষ

প্রকাশিতঃ 11:34 pm | March 22, 2019

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ১৩,২৯৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিশাল ও রূপময় ভূ-খন্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রমন্ডিত বনভুমি-পাহাড়-হ্রদ-ঝর্ণা নিয়ে প্রকৃতির নিজ রূপে সজ্জিত। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর। তবে এখানে পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদের উপযোগী জায়গার পরিমাণ খুবই কম।

এর ফলে এখানকার প্রান্তিক মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে এবং তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এর ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের মাঝে কমলা ও মিশ্রফসল চাষ কর্মসূচীর মাধ্যমে পুর্ণবাসন প্রকল্প হচ্ছে একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যান ফসলের ব্যাপক সম্প্রসারনের লক্ষ্যে কমলা ও মিশ্রফসল চাষ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। এসব মিশ্রফসলের মধ্যে হচ্ছে কমলা, আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও মাল্টা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও মাঝে মধ্যে ড্রাগন ফল চাষও চোখে পড়ে।

প্রকল্পের মুল লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য হচ্ছে ১৩০০টি প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষক পরিবারকে স্বাবলম্বী করা।পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রচলিত জুম চাষের বিকল্প হিসেবে পাহাড়ী ভূমিতে স্থায়ী ফল বাগান সৃজন করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কমলা ও মিশ্র চাষ প্রকল্পটি ২০০৮-২০০৯ সাল থেকে শুরু করে আগামী ২০১৯-২০২০ সাল পর্যন্ত ১২ বছর মেয়াদী এ প্রকল্প তিন পার্বত্য জেলার ২৬ উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কমলা ও মিশ্রফসল চাষ কর্মসূচীর মাধ্যমে পুর্ণবাসন প্রকল্পের বাজেট হচ্ছে ৯ কোটি ৫০ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। প্রকল্পে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে এ পর্যন্ত কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে ৯০০ প্রান্তিক কৃষক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে।

এদিকে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে প্রাপ্ত বরাদ্দের মাধ্যমে গ্যাপ-ফিলিং এর জন্য ২৩৭৫০টি কমলার চারা এবং ৩০০০ টি আম্রপালী (আমের চারা) জাতের আমের কলম উপকারভোগী কৃষকের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের মাঝে ৩৫ হাজার কেজি ইউরিয়া টিএসপি,১৭৫০ কেজি এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ৭০০ কৃষককে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে।
অপদিকে, ২০১৪-২০১৫ সালে প্রাপ্ত বরাদ্দের মাধ্যমে কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি সদরে ১০০ টি কৃষক পরিবারের মাঝে ১০ হাজার কমলার চারা, ১০ হাজার আম্রপালীর চারা, ১০ হাজার মাল্টার কলম (বারি) ৫ হাজার লিচু (চায়রা-৩) চারা উপকারভোগী কৃষকের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।

এছাড়াও তাদের মাঝে ১৭ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া, ১৭হাজার ৫০০ কেজি টিএসপি ও ৭ হাজার কেজি এমওপি সার বিতরন করা হয়েছে এবং ৭০০ জন কৃসখকে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, ২০১৫-২০১৬ সালে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ৬০০ একর জায়গায় বাগান সৃজনের জন্য ২০০ পরিবারের মাঝে ফলজ চারা, রাসায়নিক সার,কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

২০১৬-২০১৭ সালে বান্দরবার পার্বত্য জেলায় ৪০ পরিবার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৩০ পরিবার সর্বমোট ৭০ কৃষককে নির্বাচন করার কাজ করা হয়েছে। নির্বাচিত ৭০ জন কৃষককে বরাদ্ধ অনুযায়ী বিভিন্ন মিশ্র ফলজ চারা কলম প্রয়োজনমত ট্যাবলেট সার ও প্রতিজনকে কৃষি উপকরন প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৭০ জন কৃষককে ইতোমধ্যে উদ্যান উন্নয়নের উপর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ সালে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ৩০ পরিবার, খাগড়াছড়ি উপজেলা সদরে ২০ পরিবার বান্দরবান জেলায় রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় ৩০ পরিবার সর্বমোট ৮০ কৃষক পরিবারকে ইতোমধ্যে উদ্যান উন্নয়নের উপর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে।

অপরদিকে, কমলা ও মিশ্র ফসল ফসল চাষ প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলাসহ মোট ২৬ টি উপজেলায় ২০০৮-২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭-২০১৮ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন পরিবারের সংখ্যা হচ্ছে ৯০০ পরিবার। এর মধ্যে ২০০৮-২০০৯ সালে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার ৫০ পরিবার।

২০০৯-২০১০ সালে ১৫০ পরিবার এর মধ্যে রুমা উপজেলায় ১০০ পরিবার ও থানছি উপজেলায় ৫০ পরিববার, ২০১০-২০১১ সালে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৭৫ পরিবার, বান্দরবান জেলার সদর উপজেলায় ৬০ পরিবার, থানছি উপজেলায় ২৫ পরিবার, লামা উপজেলায় ৪০ পরিবার, ২০১১-২০১২ সালে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় ৫০ পরিবার।

(২০১২-২০১৩ ও ২০১৩-২০১৪) অর্থ সালে বাগান রক্ষনাবেক্ষন কার্যক্রম ছিল) এদিকে, ২০১৪-২০১৫ সালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৫০ পরিবার, বান্দরবান সদর উপজেলায় ৫০ পরিবার, ২০১৫-২০১৬ সালে ২০০ পরিবারের মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ৮০ পরিবার,বান্দরবান সদর উপজেলায় ৮০ পরিবার, রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ৪০ পরিবার।২০১৬-১৭ সালে ৭০ পরিবারের মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ৩০ পরিবার, বান্দরবান সদর উপজেলায় ৪০ পরিবারএবং ২০১৭-২০১৮ সালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ২০ পরিবার,বান্দরবান জেলার রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় ৩০ পরিবার ও রাঙামাটির নাননিয়ারচর উপজেলায় ৩০ পরিবার।

এদিকে, মিশ্র ফলের মধ্যে মুলত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে পাহাড়ের উৎপাদিত কমলা বাজারে পাওয়া যায়। সুস্বাদু এ পাহাড়ী কমলাগুলোর দাম রয়েছে সহনশীল পর্যায়ে। এখানে ছোট এবং বড় দুই সাইজের কমলা উৎপাদন হয়ে থাকে । ছোট সাইজ কমলা বাজার মুল্য কেজি প্রতি ১০০টাকা এবং বড় সাইজের কমলা কেজি প্রতি ১২০ টাকা। এদিকে, কমলা চাষ প্রসঙ্গে রাঙামাটির নানিয়ারচরের বামে সাবেক্ষং ইউনিয়নের কমলা বাগান চাষী মধুসুধন তালুকদার ও জুয়েল চাকমা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের বাগানে এবার ভাল কমলা চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড়ের এ কমলাগুলো সমতলের কমলার চেয়ে সাইজে বড় এবং সুস্বাদু হওয়ার কারনে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

কমলা:- রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে কমলা উৎপাদন হয়েছে ৭৬৩৯ মেট্রিক টন কমলা। এর মধ্যে রাাঙামাটি সদর উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে ৮১০ মেট্রিক টন,নানিয়ারচর উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে ১৫০০ মেট্রিক টন, কাউখালী উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে ৬০ মেট্রিক টন, ৭৫ হেক্টর জমিতে ৪৫০ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৪ হেক্টর জমিতে ১১০ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ৩৩০ মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে ৩৪২০ মেট্রিক টন, কাপ্তাই উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে ৬৪ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে ১৫ মেট্রিক টন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে ৮৮০ মেট্রিক টন কমলা উৎপাদন হয়ছে। রাঙামাটিতে ২০১৬-১৭ অর্থ সালে উৎপাদিত কমলার বাজর মুল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৯১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮০হাজার টাকা। অপরদিকে, রাঙামাটিতে ২০১৭-২০১৮ সালে ৭৯০ হেক্টর জমিতে পাহাড়ী কমলা উৎপাদন হয়েছে ৭৭৫৭মেট্রিক টন। এর বাজার মূল্য হচ্ছে প্রায় ৯৩ কোটি ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। অপরদিকে, রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে কমলা বিক্রয় করতে আনা হেম কুমার চাকমা বলেন, ছোট-বড় কমলা দুইটারই মোটামুটি ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে।তিনি বলেন, এ কমলাগুলো রাঙামাটির বাজার ছাড়াও বাইরেও নিয়ে যাচ্ছে অনেকে।

অপরদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে ৫৭৯ মেট্রিক টন কমলা উৎপাদন হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উৎপাদিত কমলার বাজর মুল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬৯ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে ৭২৩ মেট্রিকটন কমলা উৎপাদন হয়েছে। এর বাজার মুল্য প্রায় ৮৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। এদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ২০৮০ হেক্টর জমিতে ২৯১২০ মেট্রিক টন কমলা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত কমলার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩৪৯ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ২০৯৩ হেক্টর জমিতে ৩১৩৯৫ মেট্রিক টন কমলা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত কমলার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৭৬ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।

অপরদিকে, পাহাড়ে আমের মধ্যে আম্রপালি ও রাঙ্গুয়াই জাতের আম উৎপাদন ভালো ফলন হয় বলে জানিয়েছে রাঙামাটি কৃষি বিভাগ। বাজারে কৃষকরা এ আম বিক্রয় করা হয় কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকায়।এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের কামিলাছড়ি এলাকার বাগান চাষী নবেন্দু চাকমা জানান, আমি বাগানে আম চারা লাগিয়েছিলাম। এবার বাগানে আম্রপালি জাতের আমের ফলন ভালো হয়েছে । আশা করছি আগামী জুন-জুলাই মাসেও ভাল ফলন পাব। রাঙামাটির সদর উপজেলার সাপছড়ির আরেক আম বাগান চাষী মৃনাল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এখানে আমি বিভিন্ন জাতের আমের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে আম্রপালি ও রাঙ্গুয়াই উল্লেখযোগ্য।

আম:- এদিকে, রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ৩৩৭০ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে ২৩৪১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে ৩৩০১ মেট্রিক টন, নানিয়ারচর উপজেলায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ২৬১০ মেট্রিক টন, কাউখালী উপজেলায় ২১৫ হেক্টর জমিতে ১৫০৩ মেট্রিক টন, বরকল উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে ১৮০২ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৩১৫ হেক্টর জমিতে ২১৮৬ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ২৬৮৭ মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে ১৯৫২ মেট্রিক টন, কাপ্তাই উপজেলায় ৭০০ হেক্টর জমিতে ৪৮৩০ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে ৯৭৩ মেট্রিক টন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ২২৫ হেক্টর জমিতে ১৫৬৬ মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উৎপাদিত আমের বাজর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা।

অপরদিকে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ৩০৫৬ হেক্টর জমিতে ২৯৬৩১ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে।
এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ৩৩২৫ মেট্রিক টন, নানিয়ারচর উপজেলায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ৪৫০০ মেট্রিক টন, কাউখালী উপজেলায় ২১৮ হেক্টর জমিতে ২৮৩৪ মেট্রিক টন, বরকল উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে ১৩৫০ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে ২২২০ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ১৯০ হেক্টর জমিতে ২৮৫০মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর জমিতে ২৩০৬ মেট্রিক টন, কাপ্তাই উপজেলায় ৫৩৩ হেক্টর জমিতে ৬৩৯৬ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে ২১০০ মেট্রিক টন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে ১৭৫০ মেট্রিক টন। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে উৎপাদিত আমের বাজর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৩৭কোটি ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। অপরদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ২৯৩০ হেক্টর জমিতে হেক্টর জমিতে ২০১৯৪ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উৎপাদিত আমের বাজর মুল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৬১ কোটি ৫৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।

২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ৩১৫০ হেক্টর জমিতে ৩৩৩১০ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়েছে। এর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৬ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। এদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ৬৮২০হেক্টর জমিতে ৮১৮৪০ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত আমের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫৪ কোটি৭২ লক্ষ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ৭০৬৬ হেক্টর জমিতে ৯৯৩৬৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত আমের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৭৯৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আম, কমলার ফলনের মতো লিচুর ফলন ও ভালো হয় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ প্রসঙ্গে লিচু বাগান চাষী রঞ্জিত চাকমা বলেন, আমি বাগানে চায়না-২ লিচুর চাষ করছি। আমি বাগানে প্রায় ৮০ টির মতো চায়না-২ও ৩ এর লিচুর গাছ আছে। আশা করি আগামী জুলাই মাসে লিচুর ভাল ফলন পাবো। লিচু বাজারে কেজি প্রতি ১২০ টাকা বিক্রয় করা হয় বলে তিনি জানান।
লিচু:- রাঙামাটি কৃষি বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ১৭৪২ হেক্টর জমিতে ১৩২৮৬ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন করা হয়েছে।

এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর জমিতে ১০২৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে ১৬৬৫ মেট্রিক টন, কাউখালী উপজেলায় ১১৫ হেক্টর জমিতে ৮৫০ মেট্রিক টন, বরকল উপজেলায় ৯১ হেক্টর জমিতে ৪০৯.৫ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে ২০৪০ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ১৫২ হেক্টর জমিতে ৩০৪মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে ৯০০ মেট্রিক টন, কাপ্তাই উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে ৪৪৫০ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ৯৪ হেক্টর জমিতে ৫১৭ মেট্রিক টন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে ১১২৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে।

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় উৎপাদিত লিচুর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৯ কোটি ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
অপরদিকে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ১৮২৮ হেক্টর জমিতে ১২৫৭০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর জমিতে ২০৫০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে ১৬৬৫ মেট্রিক টন, কাউখালী উপজেলায় ১১৮ হেক্টর জমিতে ১১৮০ মেট্রিক টন, বরকল উপজেলায় ৯২ হেক্টর জমিতে ৩৬৮ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ২১১৩ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে ৩৯০মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর জমিতে ৯৫০ মেট্রিক টন, কাপ্তাই উপজেলায় ৪৫৪ হেক্টর জমিতে ৩১৭৮ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ৯৪ হেক্টর জমিতে ২২৬ মেট্রিক টন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে ৪৫০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রাঙামাটিতে উৎপাদিত লিচুর বাজর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫০কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা। অপরদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ২০০৫ হেক্টর জমিতে হেক্টর জমিতে ১৫০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উৎপাদিত লিচুর বাজর মুল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১কোটি ৮০লক্ষ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ২১৩২ হেক্টর জমিতে ৩০২০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। এর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

এদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায়১১৭০হেক্টর জমিতে ৪৬৮০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত লিচুর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ১২০৩ হেক্টর জমিতে ৫২২৮ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত লিচুর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি ৭৩ লক্ষ৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মাল্টা চাষের জন্য সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে মন্তব্য করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এদিকে, মাল্টারও বাজার প্রায় কেজি প্রতি ১০০ টাকা করে।

মাল্টা:- রাঙামাটি কৃষি বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ৫৪ হেক্টর জমিতে ৬৩৬ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে ২৪০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে ৩০০ মেট্রিক টন, কাউখালী উপজেলায় ৩ হেক্টর জমিতে ১২ মেট্রিক টন, বরকল উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে ৪ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে ৩২ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে ১০মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে ১২.৫ মেট্রিক টন, কাপ্তাই উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ১০ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে ১৫ মেট্রিক টন।

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় উৎপাদিত মাল্টার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৬লক্ষ টাকা। অপরদিকে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলায় ১৯২ হেক্টর জমিতে ৬৮৪ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে ১৭৫ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। কাউখালী উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে ১২ মেট্রিক টন, বরকল উপজেলায় ৬ হেক্টর জমিতে ২৪ মেট্রিক টন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ৯০ মেট্রিক টন, লংগদু উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ৪৫মেট্রিক টন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে ২৭৮ মেট্রিক টন, রাজস্থলী উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ২৭ মেট্রিক টন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে ৩৩ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে।২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রাঙামাটিতে উৎপাদিত মাল্টার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা।

অপরদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ২৮৪ হেক্টর জমিতে হেক্টর জমিতে ১২৩৮ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উৎপাদিত মাল্টার বাজর মুল্য ধরা হয়েছে ১২কোটি ৩৮লক্ষ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় ৩২৪ হেক্টর জমিতে ১৪৪১মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। এর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৪কোটি ৪১ লক্ষ টাকা।

এদিকে, কৃষি বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চল অফিস জানিয়েছে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ৩৩০হেক্টর জমিতে ৩৩০০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত মাল্টার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ৩৫৩ হেক্টর জমিতে ৩৪৮৮ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত মাল্টার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করা আমাদের লক্ষ্য। এবং প্রচলিত জুম চাষের বিকল্প হিসেবে পাহাড়ী ভূমিতে স্থায়ী ফল বাগান সৃজন করা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের এ প্রকল্পের ফলে পাহাড়ের বেশিরভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ বলেন, কমলা ও মিশ্র ফলের বাগান সৃজনের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার ১৩০০ টি পরিবারকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্প পাহাড়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। তরুন কান্তি ঘোষ আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন পশ্চাৎপদতা দূর করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares