| | বৃহস্পতিবার, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

চট্টগ্রাম রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে চলছে পণ্য পরিবহন

প্রকাশিতঃ ৮:৫০ অপরাহ্ণ | মার্চ ১১, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রাম রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে ২ হাজার সিরিজের ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে, যাহা পাকিস্তান আমলে শুরুর শুরু হয়েছিল। পাকিস্তান আমল শেষ হলে নতুন বাংলাদেশ হয়ে এর বয়স হতে চললো ৪৮ বছর। কিন্তু এখনও সেই পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে চলছে পণ্য পরিবহন আনা-নেওয়ার কাজ।

যার ফলে ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে গ্রাহককে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ দিতে না পারায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতি মাসে আয় কমেছে প্রায় ২ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, একটি ইঞ্জিনের ইকোনমিক লাইফ বা কার্যক্ষমতা থাকে ২০ বছর। পূর্বাঞ্চলে যে ৬টি ২০০০ সিরিজের ইঞ্জিন আছে সেগুলোর মেয়াদ চলে গেছে সেই ১৯৭১-৭৩ সালের দিকে। কিন্তু এরপরও ৪৮ বছর ধরে চলছে এসব ইঞ্জিন। মেরামত করে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে ইঞ্জিনগুলো। কোন রকমে একপ্রকার জোর করেই কাজ চালানো হচ্ছে।

যার ফলশ্রুতিতে যেখানে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার চলার কথা, সেখানে এসব ইঞ্জিন দিয়ে চলছে মাত্র ১৫/২০ কিলোমিটার। চলন্ত অবস্থায় প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে ইঞ্জিনগুলো। একটু চললেই ইঞ্জিন গরম হয়ে যায়। মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়ে পণ্য পরিবহনের ট্রেন চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন সচেতন ব্যবসায়ী মহল। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে। রেলওয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় সবচেয়ে লাভজনক হলো পণ্য পরিবহন ট্রেন।

সূত্র জানায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে তেলবাহী ট্যাংকের জন্য দুটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদা ছিলো ২১টি ট্রিপ। প্রতি ট্রিপের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলো। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে তেল দিতে না পারায় মাসে আয় কমেছে প্রায় কোটি টাকা।
এছাড়াও সিলেট, শ্রীমঙ্গল, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, রংপুরসহ কিছু কিছু জায়গায় তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এরমধ্যেও সিলেটে ১৬টি ট্রিপের চাহিদার বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে ১০ ট্রিপ। যেখানে প্রতি ট্রিপ তেল সরবরাহের জন্য ৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা রেলওয়ে আয় করলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে বাকি ৬ ট্রিপ দিতে না পারায় প্রতি মাসে আয় কমেছে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা।

রংপুরে চাহিদা রয়েছে ১০ ট্রিপ। কিন্তু সেখানেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ৪ ট্রিপ। প্রতি ট্রিপ সরবরাহের জন্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা আয় হলেও বাকি ৬ ট্রিপ দিতে না পারায় আয় কমেছে ৫৭ লাখ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরকারি গম এই রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে ৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার টন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে দু’হাজার সিরিজের যে ইঞ্জিন গুডস ট্রেনে ব্যবহার করা হয় সেগুলো একেবারে বাদ দিতে হবে। ২৯০০ বা ২৬০০ সিরিজের ইঞ্জিন এখানে প্রয়োজন। এই মানের ইঞ্জিন যুক্ত করা হলে বা ইঞ্জিন সংকট মিটলে রেলওয়ের আয় আরও কয়েক কোটি টাকা বাড়বে।

ইঞ্জিন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সৈয়দ ফারুক আহমদ বলেন, ইঞ্জিন সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য ইতোমধ্যে সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইঞ্জিন কেনার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি তহবিলে এতো টাকা নেই, এডিবি এরইমধ্যে এগিয়ে এসেছে, ৭০টি ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। এগুলো যুক্ত হলে এ সংকট আর থাকবে না বলে তিনি অভিমত দেন।’

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares