| |

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

প্রকাশিতঃ 10:56 pm | March 07, 2019

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ আমাদের ইতিহাস ও জাতীয় জীবনের এক অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য অধ্যায়, যার আবেদন চিরঅম্লান। কালজয়ী এ ভাষণ বিশ্বের শোষিত-বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষের কাছে সব সময় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এমন এক সময় তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন, যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনায় অতিষ্ঠ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল গোটা বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর এই দিনের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি পায় সংগ্রামের দিকনির্দেশনা। স্বাধীনতার যে ডাক বঙ্গবন্ধু সেদিন দিয়েছিলেন, তা বিদ্যুৎগতিতে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

ময়দানজুড়ে স্লোগান ছিল ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা।’ প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সৃষ্টির পরের ইতিহাস তুলে ধরেন। আশা-আকাক্সক্ষার বিপরীতে সীমাহীন শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেছিলেন তিনি। সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান বঙ্গবন্ধু। তেজদীপ্ত ভাষণে জনতাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাড়া-মহল্লায় সংগ্রাম কমিটি গঠন করে প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন তিনি। প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এর পরই মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এর আগে লেখক ও ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস : দ্য স্পিসেস দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি’ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পায়। অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই ভাষণ।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে ৭ মার্চ ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে রয়েছে আলোচনাসভা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!