| | বুধবার, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করতে প্রার্থী হয়েছি- জলি

প্রকাশিতঃ ৯:৩২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : আসন্ন ২৪ মার্চ পটিয়া উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট নারী নেত্রী বর্তমান উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি বলেছেন, বর্তমান সরকার যখনই সরকার গঠন করেছে তখনই দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করেছে।

তিনি বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে তার নিজ বাসভবনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, এ গভীর উপলব্ধি থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর নারী সমাজের উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

ভাইস চেয়ারম্যান জলি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে উপহার দেন ‘৭২-এর অনন্য সংবিধান। যাতে কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির কথাই বলা হয়নি, অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে এতে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম জাতির পিতা নারীদের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষিত করেন। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। যার ফলে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সংসদেই নারীরা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।

জলি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নারী উন্নয়নকে যুক্ত করা হয়। ১৯৯৭ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই বছর ২৮ মে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯৮ সালে নারীর উন্নয়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সন্তানের পরিচিতির সঙ্গে বাবার নামের পাশে মায়ের নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম সামরিক বাহিনীতে অফিসার পদে নারীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করে। এ সময় বাংলাদেশে প্রথম মহিলা সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০০০ সালে বাংলাদেশ ‘সিইডিএডব্লিউ’ সনদের ‘অপশনাল প্রটোকল’ অনুস্বাক্ষর করে। একই বছর সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) সনদে স্বাক্ষর করে নারী উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় পটিয়ার এমপি মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী পটিয়া ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে পটিয়াবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি আগামী ২৪ মার্চ পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে চেয়ারম্যান পদে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে পটিয়ার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকল দল ও সব শ্রেণীর পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান।

তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১১ সালে যে জাতীয় নারী উন্নয়ননীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, তা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা-২০১৩, ডিএনএ আইন-২০১৪ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ল্যাকটেটিং মাদার ভাতা চালু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সিনিয়র সচিব বা সচিব পদে, ব্যাংকিং সেক্টরে উচ্চ পদ, রাষ্ট্রদূত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নারীদের নিয়োগ বা দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে নারী উন্নয়নে মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সব মন্ত্রণালয়ের নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৭১ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একজন নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা নারীর ক্ষমতায়ন বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পটিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী জলি বলেন, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অবৈতনিক শিক্ষা প্রদানের ফলে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্রীদের স্কুলে ভর্তির হার শতভাগে উন্নীত হয়েছে। নারীর উচ্চশিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে একটি বাড়ি একটি খামার, ভিজিডি, আশ্রয়ণ, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রসূতি মায়েদের ভাতা, আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণসহ অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীদের আত্ম-বিশ্বাসের উৎস তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা দেশে-বিদেশে চাকরি করছেন। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঢাকায় বিপণন কেন্দ্র ‘জয়িতা’ চালু করা হয়েছে।

আফরোজা বেগম জলি আরো বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে ও জেন্ডার সমতা নির্ধারণে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নারীর সামর্থ্য উন্নীতকরণ, নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি বৃদ্ধিকরণ, নারীর মতপ্রকাশ ও মতপ্রকাশের মাধ্যম সম্প্রসারণ এবং নারীর উন্নয়নে একটি সক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টিকরণ এ ৪টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬’ অনুযায়ী ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২তম যা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে ভালো অবস্থান নির্দেশ করছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী অংশগ্রহণের মান হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ স্থানে।

পটিয়ায় উপজেলার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নারী নেএী আপরোজা বেগম জলি বলেন, মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির জন্য বাংলাদেশ ২০১১ সালে ‘ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সাউথ-সাউথ পুরস্কারেও ভূষিত হয়। নারী শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি ও শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ইউনেসকো থেকে ‘পিস ট্রি’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে।

তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর ক্ষমতায়নে ও জেন্ডার সমতা আনায় উন্নতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ‘ওমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ ছাড়া প্লানেট ফিফটি ফিফটি এওয়ার্ড এবং এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার প্রাপ্তি বাংলাদেশের সকল নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ। অর্জিত সাফল্যে নারীরা আজ সমাজকে আলোকিত করেছে। এ পুরস্কার এ দেশের সব নারীর। তাই সকল দিক বিবেচনা করে অবাধ সুষ্ট নিরপেক্ষ জবাব দিহিতা মূলক উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কামনা করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার ধারাবাহিকতায় আমি পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল দলের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। পটিয়ার মানুষের সুখে-দুঃখে সেবার ব্রত নিয়ে উন্নয়ন কর্মযোগ্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও আর্শিবাদ কামনা করে বলেন, জনগণের ভালোবাসা পাথেয় করে বিগত দিনে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।

পটিয়ার জনগণ ২৪ মার্চ সুষ্টু ভোট হলে তার পক্ষে নিরব ব্যালট বিপ্লব ঘটে তিনি বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সে এব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা পটিয়ার মাননীয় এমপি আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী সু-দৃষ্টি কামনা করেছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares