| |

কীটনাশক বিক্রিতে লাগবে কৃষি কর্মকর্তার প্রেসক্রিপশন

প্রকাশিতঃ 12:22 am | February 24, 2019

কৃষি ও সম্ভাবনা ডেস্ক : সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের প্রধান লক্ষ্য হলো মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকি প্রশমন। ফসল উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে, এর সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। মানবদেহে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থাকে নিয়ে বিশ্বমানের একটি সিস্টেম প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্দেশনা দিয়েছে।

যাতে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয় সে জন্য মাঠপর্যায়ে কীটনাশক ক্রয়-বিক্রয়ে কৃষি কর্মকর্তার প্রেসক্রিপশন লাগবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রাথমিকভাবে কৃষি কর্মকর্তাদের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে কীটনাশক ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরবর্তী সময়ে এটি সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) অভীষ্ট ৩-এ বলা হয়েছে, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের প্রধান লক্ষ্য হলো মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকি প্রশমন। ফসল উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে, এর সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। মানবদেহে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থাকে নিয়ে বিশ্বমানের একটি সিস্টেম প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্দেশনা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজনীয়। আর সেটা করা সম্ভব হয়েছে উন্নতমানের সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবহারের মাধ্যমে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত বালাই নাশকের ব্যবহার আমাদের নানান ঝুঁকির সম্মুখীন করেছে। তাই এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কৃষি কর্মকর্তাদের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে কীটনাশক ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে একটি পাইলট প্রকল্প নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইংকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবীর বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে ল্যাব টেস্ট করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমদানিকারকরা যে কীটনাশক আমদানির ঘোষণা দিয়েছে তা বাস্তবে আসছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয় না। তাই কীটনাশক পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন ও বিদ্যমান ল্যাবে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার কথা বলেছি আমরা।’

ন্যূনতম কোনো উপজেলা বা কোনো ইউনিয়নে পাইলট আকারে কৃষি কর্মকর্তাদের প্রেসক্রিপশের মাধ্যমে কীটনাশক বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সার পরীক্ষার জন্য যে কমিটি আছে সেই কমিটিকে কীটনাশক পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়ারও প্রস্তাব দেন মাহবুব কবীর।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বালাইনাশকের ব্যবহার কমেছে বলা হচ্ছে। আসলে কীটনাশকে একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট কমেছে কি না, সেটা যাচাই করা দরকার। ট্রাইকোর্ডেমা হার্গা অত্যন্ত বিষাক্ত। এ ধরনের কীটনাশকের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

কীটনাশক ফসলে স্প্রে করার পর ৮ থেকে ১০ দিন বাজারে তোলা বা খাওয়া যাবে না। অর্থাৎ সর্বশেষ স্প্রে করার পর প্রায় সব কীটনাশকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৮/১০ দিন গ্যাপ দিতে হবে বাজারজাত করতে বা খাবার জন্য। এ সময়ের মধ্যে কীটনাশকের ক্ষতিকর উপাদান দূর হয়ে যায়। এটি হচ্ছে পিএইচআই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বালাইনাশক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবকে কার্যকর করা হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ল্যাবের সহায়তা নেব আমরা। এ ছাড়া আমদানি করা বালাইনাশক পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে ল্যাব স্থাপনে দ্রম্নত ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ উইং থেকে জানা গেছে, কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য গবেষণার মাধ্যমে আরও ‘জৈব বালাইনাশক’ উদ্ভাবন বা উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ, কীটনাশকের ব্যবহার ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি তথ্য সার্ভিস। বন্দরে সারের নমুনা পরীক্ষার যে কমিটি রয়েছে সে কমিটিকে কীটনাশক পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া যায় কি না- এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে। বিদ্যমান আইন ও বিধি যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করা হবে। ক্ষতিকর কীটনাশকের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন ও মাঠপর্যায়ে সমন্বিত বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!