| |

চট্টগ্রামে বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

প্রকাশিতঃ 11:31 pm | February 23, 2019

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ ছাড়াই ছড়িয়ে পড়েছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের হাজার হাজার দোকান। সরকারের আইন কানুন না মেনে শুধু মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জ্বালানী ব্যবসা চলছে জমজমাট ভাবে। এই সব দোকানে নেই কোন আগুন নির্বাপক যন্ত্র।

বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটলে নাই কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূণ এই ব্যবসার কারণে প্রায় ঘটছে দূর্ঘটনা। অনেক সময় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বান্দরবান জেলা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচুর এলপি গ্যাস বিক্রেতারা সংশ্লিষ্ট আইন না মেনেই এ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছে অবাধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহর্দ্দারহাট, তুলাতলি ব্রিজ, শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকায় একটি সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কথিত সংবাদ কর্মীদের মাসোহারা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর সাথে পটিয়ার কথিত সংবাদকর্মী জড়িত রয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদে আইন অনুসরণ করছেন না। খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের বেশির ভাগই আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অবগত নয়। তারপরও তদারকির অভাবে ঝুঁকি জেনেও তারা সনদ ও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়তই।

কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রাপ্তির দীর্ঘ সূত্রিতা এড়াতে এবং বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলারদের বিপনন কৌশলে প্ররোচিত হয়েও তারা আইন অনুসরণ থেকে পিছিয়ে আছেন। এছাড়াও পটিয়ার কয়েকটি গ্যাসপাম্প থেকে সিন্ডিকেট কর্তৃক রাতের অন্ধকারে প্রশাসন ও কথিত সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করে তারা এলপি গ্যাস বোতল জাত করণ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করছেন বলে বাঁশখালীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ চৌধুরী, কর্ণফুলী চরপাথর ঘাটার ইউপির সদস্য সাইফুদ্দিন মানিক, পটিয়ার কচুয়াই ইউপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান।

তাছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ ছাড়াই স্থান ভেদে ৩০ থেকে শতাধিক এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিভিন্ন দোকানে মজুদ করেছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। এসব দোকানে বিভিন্ন ব্রান্ডের এলপি গ্যাস বোঝাই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা বিস্ফোরক অধিদপ্তরে সনদের আবেদন করলেও সেটি পাওয়ার অপেক্ষা না করেই যেখানে সেখানে দোকান ভাড়া নিয়ে সিলিন্ডার বেচা-কেনা শুরু করেছে।

বিভিন্ন স্থানে হার্ডওয়্যার সামগ্রী বিক্রেতা, মুদি দোকান, লন্ড্রি দোকান, পানের দোকান সহ বিভিন্ন দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। দেশে সাধারণত উৎপাদনকারীর কারখানা থেকে ডিলার হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার পৌঁছায়।

এক্ষেত্রে উৎপাদনকারীরা ডিলারদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সনদের বিষয়টি যাচাই করে থাকেন। কিন্তু সরবরাহ আইনের দূর্বলতার কারণে সাধারণত এসব তদারকি হয়না। যদিও আইন অনুযায়ী ১০টির বেশি এলপি গ্যাস পূর্ণ সিলিন্ডার রাখলে যেকোন ব্যবসায়ীর বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিষ্ফোরক পরিদর্শক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানায়, ১০টির বেশি এলপি গ্যাস পূর্ণ সিলিন্ডার রাখলে যেকোন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বে-আইনী এবং দেশের অনেকে তা মানছেন না।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া আছে। অবৈধ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দোকানের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য পেলে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করব এমনটাই দাবী তার।

তবে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ ছাড়াই ছড়িয়ে পড়েছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের হাজার হাজার দোকান। এর সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে কথিত সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এব্যাপারে সচেতন মহল ঝুঁকিপূর্ণ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares