| | শুক্রবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী |

অন্ধকার ঘরে বন্দি দুই বছর, অবশেষে ইউএনও এর হস্তক্ষেপে উদ্ধার

প্রকাশিতঃ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

জাকিরুল ইসলাম,বিরামপুর  (দিনাজপুর)প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের রাঘবিন্দুপুর গ্রামের মৌলভী রোস্তম আলীর মেয়ে সুমি খাতুন কে প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহে শাস্তি হিসেবে স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল তাঁর পরিবার।
বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে মেয়েটিকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীটির মা বলছেন, কবিরাজ ও স্বপ্নে দেখা এক ব্যক্তির পরামর্শে মেয়েকে ওইভাবে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই পরিবারের সঙ্গে বিরোধ আছে এমন এক পরিবারের ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহে ওই ছাত্রীকে তাঁর পরিবার আটকে রেখেছিল। বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকলেও যে ঘরে মেয়েটিকে আটকে রাখা হয়, সেই ঘরে কোনো বিদ্যুৎ-সংযোগ ছিল না। এমনকি ঘরের দরজা-জানালা সব সময় তালা মেরে রাখা হতো।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রীর চাচা দুই বছর আগে ছাত্রীকে আটক রাখার বিষয়টি আমাকে জানান তখন তিনি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গেলে তাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলেননি। পারিবারিক ইস্যু দেখালে তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন।
গতকাল ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রীটির মুখ ও পা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।বন্দিদশায় তাঁর হাত-পায়ের আঙুলগুলো গেছে কুঁকড়ে। জীর্ণ-শীর্ণ শরীর, রক্তশূন্যতাসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত মেয়েটি কিছুতেই বসে থাকতে বা দাঁড়াতে পারছেন না। কথা বলতে গেলে শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে। প্রচন্ড-দুর্গন্ধ বের হচ্ছে তাঁর শরীর থেকে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন অপচিকিৎসায় ও বদ্ধ ঘরে থাকায় ছাত্রীটির রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছে। সূর্যের আলোয় না আসায় এবং হাঁটাচলা না করায় দেখা দিয়েছে হাড়ক্ষয় রোগ। পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে চর্মরোগ, আর মুখে ফাঙ্গাস। ছাত্রীটি শারীরিক
সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এভাবে কিছুদিন থাকলে যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারত ছাত্রীটির। এখন তাঁকে সুস্থ করতে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী বলেন, রংপুরের একটি স্কুলে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি ২০১১ সালে এসএসসি ও নবাবগঞ্জের একটি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান বলেন, দুই বছরের বেশি সময় আটকে রাখার খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর মাদ্রাসা শিক্ষক বাবাকে
ডেকে পাঠান। ছাত্রীর বাবা ইউএনওকে জানান, ছাত্রীর মা একক কর্তৃত্বে ছাত্রীটিকে আটক রেখেছেন। এরপর ইউএনও পুলিশ পাঠিয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
উদ্ধারে যাওয়া নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারে গেলে প্রতিবেশীরা জানান, দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওই ছাত্রীকে আটকে রাখা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান বলেন, এই সভ্য সমাজে কোনো পরিবার তার সুস্থ–স্বাভাবিক সন্তানকে এভাবে বন্দী করে রেখে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, তা ভেবে অবাকই হচ্ছেন। ছাত্রীটির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় তিনি বহন করবেন। ছাত্রীটিকে সুস্থ করে আবারও লেখাপড়া শুরু করাবেন।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares