| | বৃহস্পতিবার, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

খুলনা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সুন্দরবন

প্রকাশিতঃ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

আতিয়ার রহমান খুলনা : খুলনা প্রতিবছর ডিসেম্বর শুরর সাথে সাথে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুর করে সুন্দরবন। কিন্তু এবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতোদিন পর্যটকশূন্য ছিল সুন্দরবন। গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে। জমে উঠতে শুর করেছে এ খাতসংশি¬ষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকা।

পর্যটন সংশি¬ষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রায় দুইমাসের ‘খরা’ কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্বের একক ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে মার্চ পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকদের আনাগোনা অনেক বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রেটি দূরত্বের দিক দিয়ে লোকালয়ের সবচেয়ে কাছের ও দর্শনীয় হওয়াতে এখানে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিবেশ-পর্যটকের লেগেই আছে। করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ফুট টেইলার, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, লবণ পানির কুমির, মায়া ও চিত্রল হরিণ, বানর ও বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপসহ বিভিন্ন পশু-পাখি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দেখে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন পর্যটকরা।

এছাড়া পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর, হাড়বাড়িয়াসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বল্প সংখ্যক বন বিভাগের কর্মচারীকে।

(৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবীর বলেন, প্রতিবছর ডিসেম্বর শুরর সাথে সাথে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুর করে সুন্দরবন। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে জাতীয় নির্বাচনের কারণে। গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে সুন্দরবনে।

তিনি বলেন, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় । কেননা এ দর্শনীয় স্থানে হরিণ ও কুমিরের প্রজনন, লালন-পালন, ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এবং পায়ে হেঁটে বনের সৌন্দর্য দেখা যায়। প্রতিদিন প্রায় ৫শতাধিক দেশি ও বিদেশি পর্যটক আসছেন।

সুন্দরবনে ভ্রমনে আসা শেরপুর জেলার নকলা থানার মনির হোসেন বলেন, ৭দিনের ভ্রমনে ছোট ভাইকে নিয়ে এসেছি। করমজল, হারবাড়িয়াসহ বেশ কিছু এলাকা দেখা হয়েছে। শীত কম থাকায় ঘুরে মজা লাগছে। শীত মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে সুন্দরবনে ভীড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা এমনটি দাবী করছেন ট্যুর অপারেটাররা।

মোংলা বন্দরের বাদাবন ইকো-কটেজের পরিচালক মোঃ লিটন জমাদ্দার বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষ একটু আতঙ্কে ছিলো। যার কারণে শীত মৌসুমে আশানুরূপ পর্যটক ছিলো না। জানুয়ারির শেষ থেকে ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়তে শুর করেছে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত এখন সুন্দরবন।

তিনি জানান, অনেকে সুন্দরবন ভ্রমনে এসে হোটেল কিংবা লঞ্চে রাত্রি যাপন করেন না। ঘরে বসে সুন্দরবনের পাক-পাখালির ডাক। পায়ে হেঁটে সুন্দরবনের অপার সেীন্দর্য্য উপভোগ। নিরাপত্তার সাথে রাত্রি যাপন। মান সম্মত খাবার গ্রহন। স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই বিশ্বের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ থাকায় পর্যটকরা এখন অনেকে কটেজে রাত্রি যাপন করেন।

খুলনা মহানগরীর অভিজাত হোটেল ক্যাসল সালামের অপারেশনস ম্যানেজার আজম মালিক বলেন, হাল্কা শীতের আমেজ গায়ে মেখেই সুন্দরী সুন্দরবন কে দেখতে বেড়িয়ে পড়ছেন ভ্রমণ পিপাসু বাঙালী। ইতিমধ্যেই বহু পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন সুন্দরবনে। যারা অনেকেই বিশেষ করে বিদেশী পর্যটকরা অনেকে এসে উঠেছেন আমাদের হোটেলে। মঙ্গলবার বাঘ, কুমির, হরিণের পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে চাক্ষুষ দেখতে হোটেলে উঠেছেন ১২ জন বিদেশী পর্যটক।

ট্যুর অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন খুলনার সভাপতি এম নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, শীতের শেষে খরা কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেতে শুর করেছে সুন্দরবন। পর্যটকদের আনাগোনায় খুশি পর্যটন সংশি¬ষ্ট ব্যবসায়ীরা।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares