| |

খুলনায় গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ

প্রকাশিতঃ 10:21 pm | February 04, 2019

আতিয়ার রহমান খুলনা অফিস ; খুলনা সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের মন কারা ঘ্রাণ। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুন গুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসেছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে খুলনা মহানগরীর শের-এ-বাংলা রোডের একটি আম গাছে। এ দৃশ্যের আকর্ষণ যে কেউকে কাছে টানবে।

প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ এবার কিছুটা কম থাকায় বেশ আগেভাগেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে খুলনা শহর থেকে শুর করে গ্রামের আম বাগানগুলো। থোকা থোকা হলুদ রংয়ের মুকুলের ভারে ঝুলে পড়েছে আম গাছের ডালপালা।  বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ভাল ফলনের স্বপ্ন বুনছেন। শহরের সবচেয়ে বেশি আমের মুকুল দেখা যাচ্ছে নিরালা, শের-এ-বাংলা রোড, বি কে রায় রোড, নর্থ খাল ব্যাংক রোড, খান জাহান আলী রোড, খালিশপুর,দৌলতপুর এলাকার গাছগুলোতে। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়ে এসেছে ছোট ছোট আম।

এছাড়া শহরের বাইরে পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, রূপসা, কয়রা, ফুলতলা, তেরখাদা, দিঘলিয়া উপজেলায় গাছে গাছে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমের বাগান। গাছে মুকুলের সাথে গুটি আমের দেখা মিলছে। বাগান মালিকরা আমের ভাল ফলন পেতে ছত্রাক নাশক প্রয়োগ সহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়রা উপজেলার মসজিদকুড় গ্রামের আম বাগানের মালিক আলগীর হান্নান বলেন, বাগানের অধিকাংশ গাছে আগেভাগেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালো ভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের আম চাষী আব্দুর রহমান বলেন, আম বাগানে এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভাল ফলন পেতে ছত্রাক নাশক প্রয়োগ সহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুলনায় গাছে গাছে এখন প্রচুর আমের মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর সুগন্ধ। শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জ সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। গাছে গাছে অজস্র মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। তারা বলছেন, প্রাকৃতিক কারণেই এবার আগেভাগেই আম গাছে মুকুল এসেছে। পরিচর্যা আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমের উৎপাদন বাড়ছে।

(৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমের মুকুল আসার আগে-পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এ বছর তা বিরাজ করছে। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সম্পুর্ণ প্রস্ফুটিত হচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। পাইকাগাছার আম চাষীরাদের অর্জন ভাল। ২০১৮ সালে তিনদিনব্যাপি জাতীয় ফল প্রদর্শনী তে ব্যক্তি পর্যায়ে পাইকগাছার আম চাষী শেখ শাখাওয়াত হোসেন সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন। তার ৩২ বিঘা আমের বাগান রয়েছে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, উপজেলার প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। গাছে গাছে অজস্র মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।  পাইকগছা ও ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ন্যায় জেলার অন্যান্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares