| | মঙ্গলবার, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

প্রতিকূলতা ও সমালোচনার মধ্যেও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে : সিইসি

প্রকাশিতঃ ৯:২২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

নিউজ ডেস্কঃ রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নানা প্রতিকূলতা ও সমালোচনার মধ্যেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। দেশে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি মেয়রের শূন্য পদে স্থগিত নির্বাচন, উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে স্থগিত নির্বাচন এবং উত্তর সিটির ৯ ও ২১ নং সাধরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের শূন্য পদে নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সিটি উপ-নির্বাচনে মেয়াদ যতই কম হোক না কেন- তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঢাকা সিটিতে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকসহ যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে পারেনি। কারণ আপনাদের মধ্যে সততা ছিল। যে যাই বলুক না কেন- অনেকেই নেতিবাচক কথা বলবে, এখান থেকে যতটুকু দরকার তা করবেন গ্রহণ করবেন। নিজের মেধা, নিরপেক্ষতা ও আস্থা সবচেয়ে বড় বিষয়। নিজের যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রির্টানিং ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সিইসি।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করলেই সেটি সুষ্ঠু হয়ে যাবে, এমন কোনও কথা নেই। জনতার চোখ বলে একটা কথা আছে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মূলত দুই প্রধান শক্তির ওপর নির্ভরশীল। একদিকে নির্বাচন কর্মকর্তা বা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমি এখন পর্যন্ত যেসব কাগজপত্র দেখেছি, তাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষক পর্যন্ত সবার প্রতিবেদনে দুটি শব্দ অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হয়েছে। একটি শব্দ হচ্ছে সন্তোষজনক এবং অন্য শব্দটি হচ্ছে স্বাভাবিক। তার মানে কি আমাদের নির্বাচন খুবই সন্তোষজনক হয়েছে? এ ক্ষেত্রে পাবলিক পারসেপশন কী, তা নিজেদের কাছেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাকে আমি নাতিশীতোষ্ণ নির্বাচন বলব। কারণ এই নির্বাচনের মেয়র পদে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল, যে উত্তাপ ও উষ্ণতা থাকার কথা ছিল, এখন পর্যন্ত অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তা হবে না। কেবল কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিছুটা উষ্ণতা আশা করা যায়। আসন্ন নির্বাচনের শৈত্যপ্রবাহ তাতে কেটে যাবে বলে আমরা মনে করতে পারি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয়ে আমি সবসময় গুরুত্বারোপ করেছি। এ গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। আমাদের ও আপনাদের সবার কর্মকাণ্ড জনতার চোখে পরীক্ষিত হবে। সুতরাং যথার্থ একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তারা অনেকেই বেশ অভিজ্ঞ। এর আগেও অনেকেই নির্বাচনে কাজ করেছেন। আপনাদের যা প্রয়োজন হবে সে ব্যবস্থা কমিশন করবে। তবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনানুগ নির্বাচন করার প্রত্যাশা ইসির। কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হোক- তা আমরা চাই না। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নির্লিপ্ততা বা অতি উৎসাহী না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ভোটে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ দেয়া যাবে না। সবাইকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ভোটে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ইসির ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কাজ করবেন না। কোনো প্রলোভনে না পড়ে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares