| | রবিবার, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী |

চট্টগ্রাম হাসপাতালে ৪ বছর ধরে সিটি স্ক্যান সেবা বন্ধ : জনভোগান্তি

প্রকাশিতঃ ১১:২৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চমেক হাসপাতালে চার বছর ধরে সিটি স্ক্যান সেবা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিটি স্ক্যান সেবা গত বছরের নভেম্বরে হাসপাতালে নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন আনা হলেও এখনো সেবা চালু হয়নি। ফলে অসহায়-গরিব রোগীদের বাইরে থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে বেশি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩৫ জন রোগীর সিটি স্ক্যান সেবা প্রয়োজন হয়। ২০১৪ সালের আগস্টে হাসপাতালের মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোনো রোগী সেবা পাচ্ছেন না। পটিয়ার বাসিন্দা মোঃ দিদারুল আলম (৪০) সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগ নিরূপণের জন্য চিকিৎসক তার সিটি স্ক্যান করাতে বলেন। হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে তার সিটি স্ক্যান করতে হয়েছে। চমেক হাসপাতালে নতুন আসা সিটি স্ক্যান মেশিন গত বুধবার (২৩ জানুয়ারি) নিউরো মেডিসিন ওয়ার্ডে কথা হয় মোঃ দিদারুল আলমের ছেলে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে।

তিনি জানান, অভাবের সংসার কৃষিকাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে আমাদের সংসার চলে। টাকা না থাকায় দুদিন পর সিটি স্ক্যান করাতে হয়েছে। হাসপাতালে সিটি স্ক্যানের জন্য দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে চার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সচ্ছল রোগীদের ক্ষেত্রে এ ব্যয় বহন সম্ভব হলেও বিপাকে পড়েন অসচ্ছলরা সেবা নিতে আসা রোগীরা। যদিও বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল চমেক হাসপাতাল। জটিল ও মুমূর্ষ রোগীরা এ হাসপাতালেই ছুটে আসেন। গড়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য আসেন ৭শ থেকে ১০০০ রোগী। রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে একটি মেশিন দিয়ে সিটি স্ক্যান সেবা চালু হয়। চার বছর আগে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী সিটি স্ক্যান সেবা নিতো।

তবে আশার কথা হচ্ছে, ইতোমধ্যে একটি নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন আনা হয়েছে। প্রায় সাত কোটি টাকা দামের জাপানি হিটাচি ব্র্যান্ডের এ মেশিনটি নভেম্বরের শেষ দিকে হাসপাতালে পৌঁছে। স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ার ফলে সেবা চালু হতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের প্রধান ডা. সুভাষ মজুমদার জানান, নতুন মেশিন এসেছে, স্থাপনের কাজ চলছে, আশাকরি দ্রুত সেবা পাবেন রোগীরা। নষ্ট মেশিনটি ২০০৬ সালে আনা হয়, ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এর আগে একাধিকবার মেশিনটি সমস্যা করেছিল।

বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তখন জানিয়েছি। কিন্তু নতুন মেশিন বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় রোগীদের বাইরে থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম জানান, নতুন মেশিন স্থাপনের কাজ শেষ। ৪ বছর পর সেবা চালু হতে যাচ্ছে। আশা করি রোগীদের কষ্ট লাঘব হবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares