| | রবিবার, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

পরীক্ষার আগে অনৈতিক পথের খোঁজ করবেন না : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ৩:১৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২২, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক : শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কাজ করছেন উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সেটি আমাদের সবার জন্যই কিন্তু পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় সবাই যেন ভালোভাবে উত্তীর্ণ হতে পারি। প্রশ্নফাঁসমুক্ত, নকলমুক্ত সুষ্ঠু, সুন্দর পরীক্ষা যেন হয়।

অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে আপনারা কোনো ধরনের অনৈতিক পথের খোঁজে নামবেন না। পরীক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পড়াশোনা করবে, ঠিকভাবে পরীক্ষা দেবে, ভালো ফলাফল করবে। সেটিই আমরা চাই। অনৈতিকতার পথে হেঁটে কখনো ভালো ফল পাওয়া যায় না। আমরা চেষ্টা করবো কোনোভাবেই যেন কোনো দুর্বৃত্ত এ প্রক্রিয়ায় এটিকে নষ্ট করবার কোনো অপচেষ্টা চালাতে না পারে। একই ভাবে যদি প্রশ্নপত্র পাওয়ার ব্যাপারে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের একাংশেরও বিশাল আগ্রহ না থাকে, চেষ্টা না থাকে পাবার তবে অপকর্মটি যারা করে তাদের সেই চেষ্টা থাকবে না। কারণ তারা লাভবান হতে পারবে না। কাজেই করণীয় আছে সকলেরই। সবাই মিলে এ প্রক্রিয়াটি সুন্দর, সফল ও ত্রুটিমুক্ত করতে চাই।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সকালে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ৪৮তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিগুলো কানায় কানায় ভরে যায়। ‘আমরা দুরন্ত দুর্বার’ থিম সং, মুহুর্মুহু করতালি, বেলুন, বর্ণিল সাজ, বাদক দলের অনবদ্য পরিবেশনা আর সারা দেশের মেধাবীদের উচ্ছ্বাসে প্রতিযোগিতার আসর পরিণত হয় উৎসবে। ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধান অতিথি বেলুন-ফেস্টুন, পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

এবার মশাল প্রজ্বালন করেন বাংলানিউজের সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট দৌড়বিদ সরওয়ারুল আলম সোহেল ও দৌড়বিদ রেশমী তঞ্চ্যঙ্গা।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মূল কথা শিশুর অফুরন্ত সম্ভাবনা তুলে ধরা। সবাই মিলে চেষ্টা করবো আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে। তারা যেন উদ্যমী হয়।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় ভাবি ক্লাসে কী করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হবো। সেটি নিশ্চয় জরুরি। ভালো করা নিশ্চয় জরুরি। জিপিএ-৫ পাওয়া জরুরি। কিন্তু সেটিই একমাত্র বিষয় হতে পারে না। আমি ভালো মানুষ হলাম কি না। আমার মধ্যে মানবিকতাবোধ, আমার মধ্যে নৈতিকতা সেগুলো ঠিকমতো আছে কি না। আমি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠলাম কি না। সুস্থ, সুন্দর মন নিয়ে বড় হচ্ছি কিনা সেটি কিন্তু জরুরি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ করতে হলে আমাদের সুনাগরিক লাগবে, সোনার মানুষ লাগবে। এর জন্য শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র পথ হতে পারে না। তার সঙ্গে সুস্থ মানুষ চাই। যে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বস্ত হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হবে, দেশ, পরিবেশ ও মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে তেমন মানুষ গড়ে তুলতে চাই।

শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে চাই। আমরা শিক্ষার মানে মনোযোগী হয়েছি। সেই জন্য মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। এক্ষেত্রে খেলাধুলার বিকল্প নেই। আমাদের জনসংখ্যার চাপ আছে, খেলার মাঠের অভাব আছে। আমাদের মেয়েরা এখন বিশ্ব মাত করছে। ছেলেরাও তা পারবে। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। শারীরিক, মানসিক, আত্মিক বিকাশের দিকে, পুষ্টির দিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যারা আমার বাম পাশে জাতির জনকের বিশাল ছবিটি দেখছো, আমরা যখন তোমাদের বয়সী ছিলাম তখন এ ছবি দেখতে দেয়নি। আমাদের জাতির জনক সম্পর্কে জানতে দেওয়া হয়নি। তোমাদের বয়সী রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা স্লােগান দিতাম, ‘আমরা সবাই রাসেল হবো, রাসেল হত্যার বদলা নেবো।’ তোমরা দেশের ইতিহাস, জাতির জনক সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা শিক্ষা, ক্রীড়ায় এগিয়ে যাবো। কিন্তু ইতিহাসও জানতে হবে। খেলাধুলা মানসিক বিকাশ করে। শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকে। মন ভালো থাকলে পড়াশোনা ভালো হয়। বিকেল হলে খেলাধুলায় মেতে উঠবে। খেলার সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক আছে বলেই রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন গড়ে তুলেছিলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। প্রধানমন্ত্রী দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসবে গড়তে কাজ করছেন। ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে। শিক্ষার্থীরা আগামীতে নেতৃত্ব দেবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যাতে তারা বড় হয় সেই প্রয়াসের অংশ এ প্রতিযোগিতা।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের প্রশ্নফাঁস, গুজবসহ অভিভাবকদের অসাধু পন্থা থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বলেন, প্রকৃতির অপূর্ব উপহার চট্টগ্রাম। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। দেশের মেধারীরা চট্টগ্রাম থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, প্রেরণা পাবে।

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, বীর চট্টলার মানুষ ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি, আন্দোলন-সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। বঙ্গবন্ধুর কাছে থেকে চট্টগ্রামের নেতারা দেশের জন্য ভূমিকা রেখেছেন। মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, এমএ আজিজ, এমএ হান্নানসহ অনেক নেতার স্মৃতিধন্য এ চট্টগ্রামে ৪৮তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ভ্যেনু নির্বাচন করায় শিক্ষার্থীরা উদ্দীপ্ত হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, নগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার কুসুম দেওয়ান, রাজশাহীর প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ, যশোরের প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, বরিশালের প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একেএম ছায়েফ উল্যা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন ড. অরুণা বিশ্বাস, রওনক মাহমুদ, সালমা জাহান, শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুল হুদা, মোজাম্মেল হোসেন খান প্রমুখ।

ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সীমা হোড়ের পরিচালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে ছাত্রীরা।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares