| | মঙ্গলবার, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে জনবল সংকট ১ হাজার ২শত ২৫ পদই শূন্য

প্রকাশিতঃ ৮:২১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : এক লাইন থেকে আরেক লাইনে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া রেলের পয়েন্টম্যানের কাজ। ট্র্যাক (রেললাইন) পরিবর্তন করতে হলে তারাই সেটা করে দেন। তারা ক্লিয়ারেন্স দিলেই চালক ট্রেন চালাতে পারেন।
মাঠ পর্যায়ে যারা ট্রেন পরিচালনা করেন, তাদের অর্ধেক পদই খালি রয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল পরিবহন বিভাগে। যার ফলে স্বাভাবিক ট্রেন পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে রেলের আয়। ঠিক সময়ে স্টেশনে ট্রেন না পৌঁছানোয় যাত্রীরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

স্টেশন মাস্টার (এসএম), সহকারী স্টেশন মাস্টার (এএসএম), পয়েন্টম্যান, গেটম্যান ও সান্টিংম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোই বেশিরভাগ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এর খেসারত দিতে হচ্ছে রেলওয়েকে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট জনবল থাকার কথা ২৫৩৭ জন। এরমধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৩শত ১২ জন জন। বাকি ১ হাজার ২ শত ২৫ জনের শূন্য পদই খালি রয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এএও) রেলওয়ের প্রধান ট্রেন নিয়ন্ত্রক (সিটিএনএল), সুপারিনটেনডেন্ট(এসএস) ও রেলওয়ে ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) পদে মোট জনবলের সংখ্যা ১৭। এরমধ্যে এসএস পদে একজন ও টিআই পদে চারজনসহ মোট পাঁচজনের পদ শূন্য রয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির এসএম, এএসএম’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদসহ মোট পদের সংখ্যা ৩০ (গ্রেডসহ)। এসব পদে জনবল থাকার কথা এক হাজার ২৯৫ জন। কিন্তু এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৭৩৯ জন। বাকি ৫৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

স্টেশন মাস্টারের (গ্রেড-২, ৩ ও ৪) ৪২৮টি পদের বিপরীতে খালি আছে ২১৫টি। সহকারী স্টেশন মাস্টার (এএসএম) পদে ২২০ জনের বিপরীতে খালি আছে ৯২টি।

চতুর্থ শ্রেণির পয়েন্টম্যান, গেটম্যান ও সান্টিংম্যানসহ ৯টি পদে জনবল থাকার কথা এক হাজার ২২৫ জন। কিন্তু আছে ৫৬১ জন। বাকি ৬৬৪টি পদ শূন্য রয়েছে।এর মধ্যে পয়েন্টম্যান পদে ৭৫০ জনের বিপরীতে খালি আছে ২৯৩, গেটম্যান পদে ২৪২ জনের বিপরীতে খালি আছে ২১৫ ও সান্টিংম্যান পদে ১১৬ জনের বিপরীতে খালি আছে ৯৯টি পদ।

একটি স্টেশনের সার্বিক দায়িত্ব স্টেশন মাস্টারের (এসএম)। স্টেশনের অন্য কর্মচারীরা তার অধীনে কাজ করেন। সান্টিংম্যানের কাজ একটি বগির (কোচ) সঙ্গে আরেকটি বগি সংযুক্ত করা এবং কোনো বগির ত্রুটি থাকলে তা অন্য লাইনে সরিয়ে নিয়ে নতুন বগি সংযুক্ত করা। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে লেভেল ক্রসিংগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেটম্যানের কাজ। এসব লোকবল ছাড়া ট্রেন পরিচালনা করা যায় না।

জনবলের অভাবে ট্র্রেন পরিচালনায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শুধু স্টেশন মাস্টারের অভাবে রেলের পূর্বাঞ্চলে ১০৭টি স্টেশনের মধ্যে বন্ধ স্টেশনের সংখ্যা স্থায়ী ও অস্থায়ীসহ ৩৩টি। এরমধ্যে ঢাকার ১৯টি স্থায়ী ও ১টি অস্থায়ী এবং চট্টগ্রামের ১২টি স্থায়ী ও ১টি অস্থায়ী।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা রশিদা সুলতানা গণি বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী অনেক কম। যার ফলে ট্রেন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। জনবল সংকটের কারণে ট্রেন যেখানে ৫ ঘণ্টায় পৌঁছার কথা সেখানে দেরিতে পৌঁচেছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares