| | মঙ্গলবার, ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪১ হিজরী |

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বদলে গেছে সেবার মান

প্রকাশিতঃ ৩:২৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

সানোয়ারুল ইসলাম রনি, মীরসরাই : সারা দেশের মতো মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও (মস্তাননগর হাসপাতাল) উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। একসময় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি নিজেই রুগ্ন হয়ে পড়েছিল। মীরসরাইয়ের সাংসদ ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন হাসপাতালটির উন্নয়নে নিজেই উদ্যোগ নেন। তাঁর উদ্যোগের ফলে বর্তমানে এটি পূর্ণাঙ্গ একটি হাসপাতাল রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. কফিল উদ্দিন ও ডা. সুমন ঘোষ পল্লব জানান, শেখ হাসিনার সরকারের উদ্যোগে সমগ্র উপজেলা এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় মোট ১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩১ থেকে ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে পুরোনো ভবন, সার্বক্ষণিক জেনারেটর সার্ভিস, দুই দুইটি অত্যাধুনিক এম্বুলেন্স সার্ভিস, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে স্থাপন করা হয়েছে গভীর নলকূপ।

সংযোজন করা হয়েছে শিশু ওয়ার্ড, স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা বিভাগ, মাতৃ স্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম (ডিএসএফ) হেলথ এমআইএস আওতায় প্রতি মাসে উপজেলার ৩শ দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের বিনা খরচে নরমাল ও সিজারিয়ান ডেলিভারী প্রকল্প, আছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ২৪ ঘন্টা খোলা জরুরী বিভাগ, প্যাথলজি সেবা, বিনামূল্যে ৯৭ প্রকারের ঔষধ, ইনজেকশন সরবরাহ, যক্ষ¥া রোগের ঔষধ, ম্যালেরিয়া রোগের বিনামূল্যে ঔষধ ও মশারি প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপারে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা নাছিমা আক্তার ও আছমা বেগম জানান, একসময় নিয়মিত চিকিৎসক ও ঔষধ না পেলেও বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসক পাচ্ছি। পাশাপাশি কিছু ঔষধও সরবরাহ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেবা পেয়ে আমরা খুশি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, প্রতিবছর ৬মাস থেকে ৫মাস বয়সি সকল শিশুকে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচী সফলভাবে চালু রয়েছে। প্রতিবছর ৫ থেকে ১৫বছর বয়সী সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় দশ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হয়। একসময় ঝোপ জঙ্গলে আবৃত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চারপাশে এখন গড়ে উঠেছে ফুলের বাগান।

নির্মাণ করা হয়েছে হাসপাতালের প্রধান ফটক। নির্মাণ করা হয়েছে হাসপাতাল অভিমুখের পাকা সড়ক, পরিশোধ করা হয়েছে পুরোনো বকেয়া বিদ্যুৎ বিল। নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স। তবে নষ্ট হয়ে অন্ধকারে পড়ে আছে হাসপাতালটির এক্সরে মেশিন।

এ ব্যাপারে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ নুরুল আফছার জানান, নিয়মিত চিকিৎসকের পাশাপাশি ২৪ঘন্টা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং হাসপাতালের পরিবেশ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে আগের থেকে সুন্দর করেছি। যাতে করে রোগীরা অস্বস্তিবোধ না করে।

তবে এখানে ৩৬জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৭জন। আর এক্সরে মেশিন নষ্ট থাকায় নতুনভাবে এক্সরে মেশিন বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য সিএমএইচডি ( সেন্ট্রাল মেডিকেল ষ্টোরেজ ডিপার্টমেন্ট) এর পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি সকলে মিলে হাসপাতালের রোগীদের সেবা দানের জন্য সকলে নিরলসভাবে কাজ করছি।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares