| |

পটিয়া উপজেলা নির্বাচনে আগাম মাঠে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থীরা

প্রকাশিতঃ 12:26 am | January 10, 2019

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই পটিয়ায় আগাম মাঠে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের সম্ভাব্যপ্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনার আগামী মার্চ মাসে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করার পরিকল্পনা ঘোষনা করায় উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে আগাম বার্তা ভোটারদের কাছে দিচ্ছেন। তারা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজেদের কথা তুলে ধরতে শুরু করেছেন।

অনেকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে লবিং শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ ও দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগও শুরু করে দিয়েছেন। তবে এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একতরফা ভোটের অভিযোগ তুলে বিএনপি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন না করারও পরিকল্পনা করছে।

তবে নির্বাচন কমিশনার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্বচ্ছভাবে করার জন্য পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পটিয়া থেকে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ তিমির বরণ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান নাছির আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ছৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি, উপজেলা মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদিকা ইউপি সদস্যা সাজেদ বেগম, দক্ষিণ জেলা মহিলা লীগ নেত্রী জীবন আরা রুবী এবং দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পটিয়া উপজেলার সভাপতি আবু ছালেহ মো. শাহরিয়ার, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ার চৌধুরী মুরাদ, পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এম,এ রহিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ঋষি বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আশিষ তালুকদার ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের নেতা মোরশেদুল আলম খোরশেদ।

দলীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে পটিয়া থেকে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু। এতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইসলামী ফ্রন্টের পটিয়া উপজেলার সভাপতি এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, বঙ্গবন্ধু ফজিলতুন নেছা ফাউন্ডেশনের পটিয়ার সভাপতির পদ ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারমান নির্বাচিত হন আফরোজা বেগম জলি।

২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। দলের অভ্যন্তরিন কোন্দলের কারণে ওই সময় নির্বাচিত হন উপজেলা বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিন হন আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ তিমির বরণ চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সিপিবি সমর্থিত মাজেদা বেগম শিরু। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরীসহ ৯জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও ১ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ ভোট পেয়ে নৌকা প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারনা চালাতে গিয়ে সামশুল হক চৌধুরী বিভিন্ন ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেযারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর নাম ঘোষনাও করেন।

অথচ এবার নির্বাচন করতে কোমড় বেঁধে আগাম মাঠে নেমেছেন দক্ষিণ জেলা আ’লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ তিমির বরণ চৌধুরী ও জেলা আ’লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির আহমদ। তিমির ও নাছির ঐক্যবদ্ধ। তাদের দুইজনের একজন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি চান।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকার সুষ্ঠ ও সুন্দর উপজেলা নির্বাচন উপহার দেবেন। এতে স্বস্ফুর্তভাবে জনগণ তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ তিমির বরণ চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও শোভনদন্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিটি এলাকায় প্রচারনা চালিয়েছিল। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। যার কারণে উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনি নির্বাচন করতে চান।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পটিয়া উপজেলার সভাপতি আবু ছালেহ মো. শাহরিয়ার বলেন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অংশগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে দলীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি চেয়ারম্যান মো. সেলিম ভাইকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এবার তিনি অবশ্যই নির্বাচন করবেন।

পটিয়া উপজেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাক গোলাম মাওলানা মুরাদ বলেন, তিনি নিজ এলাকা খরনা ইউনিয়নের মুজাফরাবাদ এন,জে উচ্চ বিদ্যালয় পরিচারনা কমিটির সভাপতি ছাড়াও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান।

পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী মাজেদা বেগম শিরু বলেন, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সকলের সহযোগিতা পেলে আগামী নির্বাচনেও তিনি মহিলা ভাইস পদে লড়তে চান।

পটিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনরায় নির্বাচন করবেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত মেনেই আগামী উপজেলা নির্বাচন করতে চান।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares