| |

পটিয়া বাইপাস সড়কের ৯০ ভাগ কাজ শেষ, পরীক্ষামূলক যানবাহন চলাচল শুরু

প্রকাশিতঃ 12:21 am | January 10, 2019

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসভার ইন্দ্রপুল থেকে উপজেলা কচুয়াই ইউনিয়নের গিরিশচৌধুরী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ ৯০ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এ সড়কের বাকি অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কের শ্রীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন।

জানাযায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাওয়া আসার পথে পটিয়া পৌরসভার ইন্দ্রপোল থেকে উপজেলার কমলমুন্সি হাট পর্যন্ত ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। পটিয়া ইন্দ্রপোল থেকে উপজেলার গিরিশচৌধূরী বাজার পর্য়ন্ত ৫ কিলোমিটার এ বাইপাস সড়ক নির্মিত হলে চট্টগ্রাম-কক্্রবাজার মহাসড়কের বিশেষ করে পটিয়া পৌরসভা এলাকায় গাড়ি চলাচলের যানজট থাকবে না। চট্টগ্রাম-কক্্রবাজার, টেকনাফ সহ দুরপাল্লার যাত্রীরা দ্রুত সময়ে যাতাযত করতে পারবে। এতে যাত্রীদের দূর্ভোগ লাগব হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ২০১৬ সালের ১ জুন সওজ চট্টগ্রাম বিভাগীয় দফতরে পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দাখিলকৃত দরপত্র খোলা হয়েছে। ঢাকা র‌্যাব আরসি এন্ড রিলেয়াভেল বিন্ডাস নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সড়ক নির্মাণের টেন্ডার গ্রহন করে কার্যাদেশ পায়। ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরী। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০০৮ সালের প্রকল্প অনুযায়ী পটিয়া পৌরসদর ইন্দ্রপোল থেকে ভাটিখাইন-কচুয়াই ইউনিয়ন হয়ে গিরিশ চৌধুরীর বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম- কক্্রবাজার সড়কের মিলিত হয়। সড়কের দৈর্ঘ্য হয়ে ৫ কিলো মিটার।

এতে ব্যয় করার হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। এ বাইপাস সড়ক প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি ৭৮ লাখ চার হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮.৬১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বাইপাস ছাড়া দোহাজারী ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক প্রস্তকরণ ও ৪৯টি বিপজ্জনক বাঁক সোজাকরণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন বাবদ আরো ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। পরে নিয়োজিত ঠিকাদার চার বছরেও কাজ শেষ করতে না পারায় ওই প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার সাথে পটিয়া বাইপাস নির্মাণ প্রকল্পটিও থমকে যায়। পরে পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরীর প্রচেষ্টায় শুধুমাত্র পটিয়ার বাইপাস সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অবশেষে ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়ে এ কজের উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ পটিয়া মনসার টেক থেকে দোহাজারী সাঙ্গু ব্রিজ পর্যন্ত ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। ওই বছর ২৫ জুন ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড (আইটিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ওই প্রকল্পের মধ্যে পটিয়া শহর এলাকাকে যানজট মুক্ত করণের লক্ষ্যে পটিয়া ইন্দ্রপোল থেকে গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫.০২ কিলোমিটার পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করা ছিল।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম-দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন জানান, পটিয়া বাইপাস সড়কের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ সড়কে ৫কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার কাপেটিং কাজ করা হয়েছে। বাকী ৩ কিলোমিটারের মেকার্ডাম কাজ শেষ করা হয়েছে।

বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলাচল চালু করা হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে তা বন্ধ করে পুনরায় অসমাপ্ত কাজ গুলো কাপেটিং কাজ সমাপ্ত করা হবে। আশাকরি, আগামী জুন মাসের নিদিষ্ট কাজের মেয়াদের পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কের গাড়ি চলাচল উদ্বোধন করা হবে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares