| | সোমবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণ মামলার ৭ আসামি রিমান্ডে

প্রকাশিতঃ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নে ভোটের রাতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার ৭ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আমলি আদালতের বিচারক নবনিতা গুহ তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন মেম্বার, বাদশা আলম, স্বপন, সোহেল, বেচু, জসিম উদ্দিন ওরফে প্রকাশ জইস্যা ও হাসান আলী বুলু। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। চরজব্বর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দেয়া নিয়ে নৌকার এজেন্টদের সঙ্গে ওই নারীর তর্ক হয়। সে সময়ে তারা তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

পরে রাতে পেশায় অটোচালকের স্ত্রী ও চার সন্তানের জননীকে তাদের বাড়িতে এসে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে ক্ষমতাসীন দলের নেতা রুহুল আমিন মেম্বারের নেতৃত্বে গণধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে মারধরে আহত স্বামীও চিকিৎসাধীন।

ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. খলিল উল্যাহ। পরে এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ইতোমধ্যে গণধর্ষণের মূলহোতা চরজুবলী ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন (৪০), প্রধান আসামি মো. সোহেল (৪০), মো. বেচু (২৫), মো. স্বপন (৩৫), বাদশা আলম ওরফে কুড়াইল্যা বাসু (৪০), জসিম উদ্দীন ওরফে প্রকাশ জইস্য (৩৫), হাসান আলী ভুলু (৬০) ও সালাউদ্দিনকে (৩৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

ভোটের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মধ্যম বাগ্যা গ্রামে গণধর্ষণের মামলার আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রোববার রাত ২টার দিকে মামলার ৯নম্বর আসামি ছালাউদ্দিনকে (৩২) ফেনী জেলার সুলতানপুর গ্রামের তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

ছালাউদ্দিনের বাড়ি সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে। ছালাউদ্দিন সহ এই মামলায় মোট ৮জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩০ ডিসেম্বর ওই গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতে মোবাইল ফোন ট্র্র্যাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামী সিরাজ মিয়ার দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘর ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে গণধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুহুল আমিন এবং তার ‘প্রধান সহযোগী’ হাসান আলী বুলুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ বলছে, বুলু ওই ঘটনার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’। ভোটকেন্দ্রে তার সঙ্গেই ওই নারীর ঝামেলা হয়েছিল। পরে সে ১০হাজার টাকায় কয়েকজন ইটভাটা শ্রমিককে ভাড়া করে ওই নারীকে ‘শায়েস্তা’ করার জন্য।

এদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার বাসু, সোহেল ও স্বপনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরজব্বর থানার পুলিশ পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল। তিনি জানান, রবিবার জেলার দুই নম্বর আমলি আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares