| | রবিবার, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী |

এক দশকে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ৩৯ লাখ টন

প্রকাশিতঃ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ০২, ২০১৯

নিউজ ডেক্স এক দশকে দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়ছে। এতে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে বৃদ্ধি পায় ইস্পাতের চাহিদা। আর এ চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত ইস্পাতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। বর্তমানে ছোট-বড় আড়াইশ মিলের ইস্পাত পণ্য উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫৫ লাখ টন। ২০০৮ সালে ছিল মাত্র ১৬ লাখ টন। এক দশকের ব্যবধানে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ৩৯ লাখ টন। পাশাপাশি বেড়েছে কর্মসংস্থান, বিলেট উৎপাদন সক্ষমতাসহ দক্ষতা। বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, গত এক দশকে দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বেড়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বৃদ্ধি পায় ইস্পাতের চাহিদা। আর এ চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত ইস্পাতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। বর্তমানে ছোট-বড় আড়াইশ মিলের ইস্পাত পণ্য উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫৫ লাখ টন। আর সক্ষমতা বাড়ায় কর্মসংস্থান হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার। ২০০৮ সালে কর্মসংস্থান ছিল মাত্র ৬০ হাজার। এক দশকের ব্যবধানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বিলেট উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ৪০ লাখ টন। ফলে বিলেটের আমদানি-নির্ভরতা কমেছে। ইস্পাতশিল্পে মূলত দুই ধরনের পণ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে আছে ফ্ল্যাট স্টিল (সিআই শিট ও সিআর কয়েল) এবং লং স্টিল (এমএস রড/টিএমটি বার)। এ খাতে সক্রিয় ২৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মোট চাহিদার অর্ধেকের বেশি মেটায় শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো আবুল খায়ের স্টিল, বিএসআরএম, কেএসআরএম, জিপিএইচ ও আরএসআরএম। এর মধ্যে আবুল খায়ের স্টিল রি-রোলিং মিলস একক কোম্পানি হিসেবে ইস্পাত খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। লং স্টিলে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ লাখ টনের বেশি। এছাড়া বিএসআরএম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন ১৪ লাখ টন। আর দেশের অন্যতম বৃহত্তম কবির স্টিল রি-রোলিং মিলের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা আট লাখ টন, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলসের (আরএসআরএম) বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা এক লাখ ৮৭ হাজার টন এবং জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা এক লাখ ২০ হাজার টন। তবে ভবিষ্যতের বাজার সম্ভাবনা মাথায় রেখে কয়েক বছর আগে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের সম্প্রসারণে যায় জিপিএইচ ইস্পাত। এ কাজে তারা ব্যয় করছে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সব ঠিক থাকলে নতুন প্লান্টটি ২০১৯ সালের জুনে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে। এতে এমএস বিলেটের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ১০ লাখ আট হাজার টনে। এমএস রডের উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে সাত লাখ ৬০ হাজার টনে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হুসেন আলী আকবর বলেন, ২০০৮ সালে আমাদের ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ৫০০ টন। বর্তমানে আমাদের সক্ষমতা পাঁচ হাজার টন। আর ২০২১ সালে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে সাড়ে সাত হাজার টনে। তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কারণে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর আগামীতে বড় বড় সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে অবশ্যই ইস্পাতের চাহিদা বাড়বে। আর দেশের যত বেশি শিল্পায়ন হবে তত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশে ইস্পাতের বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ চাহিদার নেপথ্যে রয়েছে সরকারের উন্নয়নযজ্ঞ। তবে বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫৫ লাখ টন হলেও এখন চাহিদা ৪০ লাখ টনের মতো। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা পূর্ণাঙ্গরূপে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ছোট-বড় সেতু, শিল্প স্থাপনাসহ অনেক প্রকল্পের কাজে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া মাথাপিছু ভোগ ২৬ কেজি থেকে ৫০ কেজিতে উন্নীত, আবাসন খাত চাঙা এবং ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোতে রফতানি বাড়লে ২০৩০ সালে ইস্পাতের চাহিদা দাঁড়াবে এক কোটি ৮০ লাখ টনে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানো লাগবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ খাতে আগ্রাসী বিনিয়োগ ঠিক হবে না বলে মনে করেন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে জড়িত একাধিক শীর্ষ নির্বাহী। তাদের মতে, দেশের ইস্পাত ও ইস্পাতসংশ্লিষ্ট খাতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এ খাতে উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যও। আগামী সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা ইস্পাত কারখানা সম্প্রসারণ ও নতুন নতুন মিল স্থাপনে আগ্রাসী বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎপর। আর বাজার চাহিদা ও বিনিয়োগ সঠিকভাবে কাজে লাগানো না গেলে এ খাতে নতুন করে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ছোট ছোট ইস্পাত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আনোয়ার গ্রুপের ডিএমডি মনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে আমাদের ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৫৫ লাখ টন। এ জন্য বিলেট আমদানি করতে হয়েছে শূন্য লাখ টন। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার। অথচ ২০০৮ সালে উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ১৬ লাখ টন। এজন্য বিলেট আমদানি করতে হতো ১২ লাখ টন। এতে কর্মসংস্থান ছিল ৬০ হাজার জন। এক দশকের ব্যবধানে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ৩৯ লাখ মেট্রিক টন। পাশাপাশি বিলেট উৎপাদন সক্ষমতা, মানবসম্পদ দক্ষতাসহ কর্মসংস্থান বেড়েছে এক লাখ ৯০ হাজার। আর আগামী কয়েক বছরে এ সক্ষমতা ৮৫ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়াবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares