| | বুধবার, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪১ হিজরী |

এবারও নির্বাচনী আলোচনায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু

প্রকাশিতঃ ৯:৫০ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : কেউ বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে ছয় মাসে, কেউ বলেন, এক বছরের মধ্যে, আবার অন্যরা বলেন, প্রথম কাজ হবে বোয়ালখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণ। কালুরঘাট সেতুকে উপলক্ষ করে এখন সরগরম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালী অংশের নির্বাচনী মাঠ।

প্রার্থীরা দিচ্ছেন প্রতিশ্রতির পর প্রতিশ্রুতি। ভোটাররা বলছেন, এটা ভোট আদায়ের পুরনো কৌশল। এভাবে তো কেটে গেল ত্রিশ বছর। আর কত? এলাকাবাসী জানান, একসময় বোয়ালখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, বান্দরবান-কক্সবাজারবাসীর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল কর্ণফুলী নদীর উপর ১৯৩০ সালে নির্মিত কালুরঘাট রেল সেতু। এর মেয়াদকাল ফুরিয়ে যায় ৮০ দশকের দিকে। মেয়াদোত্তীর্ণের এক পর্যায়ে ২০১০ সাল থেকে হযরত শাহ আমানত সেতু (তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু) চালু হওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের যাতায়াতে কালুরঘাট সেতুর গুরুত্ব না কমলেও সরকার কিংবা সংল্লিষ্ট বিভাগের কাছে গুরুত্ব হারাতে থাকে। ফলে অযতœ আর অবহেলায় ৮৮ বছরের পুরনো এ সেতুর অবস্থা এখন একেবারে নাজুক।

জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় দিন দিন গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে এখানে। একমুখী এই সেতুর কারণে যানজটে আটকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহান হাজারো মানুষ।

এলাকাবাসী জানান, আশির দশকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর থেকে পরবর্তী সব সরকারের আমলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে এটি। ৯০ পূর্ববর্তী সময়ে এরশাদ সরকার ও তার সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি ছিল এটি। একানব্বইয়ের নির্বাচনে কালুরঘাট রেলসেতুর পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। উপজেলা সদর গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই সেতু আলোর মুখ দেখেনি। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতুর পাশে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। তা-ও হয়নি।

২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নদীর ওপারে পটিয়ার শিকলবাহায় জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত হযরত শাহ আমানত সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সরকারের (২০০৮-২০১৩) প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কর্ণফুলী নদীর ওপর আরেকটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের আশ্বাস ছিল তাঁর।

তবে আশার বাণী হচ্ছে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। তাঁর সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করার পর অনেক মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সেতু নির্মাণের নতুন স্বপ্ন দেখিয়ে আসছিলেন। সরকারের শেষ সময়ে একনেক সভায় উঠেছিল প্রকল্পটি। কিন্তু বিধি বাম। অধিকতর সমীক্ষার জন্য প্রকল্পটি একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হলে ঝুলে যায় কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি।

২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর কালুরঘাট সেতুর লাগোয়া দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছিলেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। ওই সময় তিনি বলেছিলেন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ডিজাইন, নকশা ও ডিপিপি অনুমোদনের কথা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রার্থী কালুরঘাট সেতু নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গত দুই বারের সংসদ সদস্য এবং এবার মহাজোটের প্রার্থী জাসদ নেতা মঈনউদ্দিন খান বাদল তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের শীর্ষে রেখেছেন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত হলে এক বছরের মাথায় কালুরঘাট সেতু গড়তে না পারলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব।

অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান এবং সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থী মো: সেহাব উদ্দিনসহ অন্য প্রার্থীরাও তাদের অঙ্গীকারের শীর্ষে রেখেছেন কালুরঘাট সেতুকে। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছ থেকেও এসেছে একই প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতায় এলে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হবে। গত ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

গত ৬ ডিসেম্বর বোয়ালখালীর এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি ও বাদল সাহেব দুজনই অনেক চেষ্টা করে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে এনেছি। এখন শুধু দৃশ্যমান হওয়া বাকি। তবে আবার সরকার গঠন করতে পারলে ৬ মাসের মধ্যে কালুরঘাট সেতু করা হবে বলে জানান তিনি। আর প্রতিশ্রুতি নয়, বোয়ালখালীবাসী এবার বাস্তবে দেখতে চায় কালুরঘাটে নতুন একটি সেতু। তাদের বিশ্বাস, একটি সেতু নির্মাণ করা হলে বোয়ালখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এই বিষয়ে বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো: আব্দুল মোমিন বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে এই দাবি এখন প্রাণের দাবিতে পরিণত করেছে। চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল প্রায় সব প্রার্থী কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছেন। আমাদের প্রত্যাশা, শুধু অঙ্গীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেতুর কাজ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন সবাই।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares