| |

ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের তৎপর ও দৃশ্যমান হওয়ার নির্দেশ

প্রকাশিতঃ 4:30 pm | December 05, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনকালে শক্ত ও দৃশ্যমান অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের দিকে সারা জাতি নির্ভরতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তাই কমিটির সদস্যদের হতে হবে ‘প্রো-অ্যাক্টিভ (সক্রিয়) ও ভাইব্রেট (তৎপর)’। তিনি বলেন, কমিটির সদস্যদের সজাগ ও সতর্ক উপস্থিতি নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনাদের কাছে ভোটার, প্রার্থীরা আসবেন সমস্যার কথা বলবেন। আপনারা সমাধান দেবেন।

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কে এম নুরুল হুদা। এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘তাদের (ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্য) ওপর দায়িত্ব পড়েছে, যারা সংসদ পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে নির্বাচিত হন, তা দেখার। নির্বাচনী আচরণবিধি দেখভালের সুযোগও। বিচারকদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।‘

সিইসি বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির অর্থ হচ্ছে নির্বাচন-পূর্ববর্তী কমিটি। ৩০০ আসনের পূর্ববর্তী পরিস্থিতি, অনিয়ম দেখার জন্য ১২২টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আচরণ বিধির ১৭ ধারায় বিচারকদের দায়িত্ব বলে দেয়া হয়েছে।‘

২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি কাজ করার ভালো সুযোগ পেয়েছিল বলে মনে হয় না। তবে এবারই প্রথম ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘এতে স্পষ্ট যে, আপনাদের সঙ্গে ভোটারদের ও প্রার্থীদের পরিচয় নেই। পরিচিতি না হবার কারণে যেকোনো অভিযোগ সরাসরি নির্বাচন কমিশনে আসছে। আপনাদের কাছে যাচ্ছে না। এটা প্রত্যাশিত ছিল না। আপনাদের অভিযোগ আপনাদের কাছে যাবে। অভিযোগ শুনবেন। ব্যবস্থা নেবেন।‘

তিনি বলেন, ‘আপনাদের তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থী তার প্রার্থিতা হারাতে পারেন। যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না, তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডর ১৯৩ ধারা মতে ৭ বছরের জেল হবে, মিথ্যা তথ্য দিলে ও আদেশ না মানলে ২২৮ ধারায় তাদের বিচার হবে।‘

‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর ১৯০৮-এ সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে মাঠে শক্ত অবস্থান নেবার কথা বলা হয়েছে। এই মাঠ আপনাদের চেম্বারের বাইরে। একেবারে প্রার্থী, ভোটার ও সমস্যার মুখোমুখি। আচরণবিধি যারা লঙ্ঘন করবে তাদের মুখোমুখি। এটা অন্যরকম একটা দায়িত্ব।‘

সিইসি বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আপনারা ভিজিবল না। আপনারা কাজের মাধ্যমে তা এখনও করতে পারেননি। সুযোগ হয়নি। এখনও গুছিয়ে উঠতে পারেননি। আমাদের কাছে শত শত অভিযোগ আসছে। অথচ ওই অভিযোগগুলো আমাদের কাছে না এসে আপনাদের কাছে যাবার কথা ছিল।‘

কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) এর ধারা সংশোধনে সরকারের উদ্দেশ্যই ছিল বিচারকদের নির্বাচনে ইনভলভ (অন্তর্ভুক্ত) করা। প্রত্যেকটা মানুষের ও সমস্যার কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করা।‘

ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের সক্রিয় ও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, ‘৩০০ আসনে ১২২টি জায়গায় আপনাদের এরিয়া ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে লোকজন আপনাদের কাছে সমস্যা উপস্থাপন করলে সমাধান দেবেন। আমরা আশা করেছিলাম, গত ২৫ নভেম্বর ইনকোয়ারি কমিটি গঠনের পর অত্যন্ত ১২২টি তদন্ত হবে, কিন্তু হয়নি। ২২টিও হয়নি। আপনারা এবার ফিরে গিয়ে মানুষের অভিযোগ শুনবেন, সমাধান দেবেন। মানুষকে যেন ঢাকা পর্যন্ত আসতে না হয়।‘

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী(অব.) ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!