| |

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে চিন্তামুক্ত হলেন আগৈলঝাড়ার বীরযোদ্ধা মহেন্দ্র নাথ

প্রকাশিতঃ 10:14 pm | November 27, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : এত বড় পৃথিবীতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জায়গা এতদিন ছিল না। একটি ঘর পেয়ে আজ চিন্তা মুক্ত হলাম। নিজে আর বেশী দিন হয়ত বাঁচব না; তবে এখন মরে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর বদৌলতে পাওয়া ঘরে নিজের অর্ধাঙ্গিনী বাকী জীবন নিশ্চিন্তে কাটাতে পারবে জেনে আস্বস্ত হলাম।

যার জমি আছে; ঘর নেই, এমন গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মান করে দেয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত একটি পাকা ঘর পেয়ে এভাবেই আবেআপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডর টেমার গ্রামের বয়োবৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা মহেন্দ্র নাথ সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস এর তত্ববধানে নির্মিত ৯১টি পরিবারের পাকা ঘর নির্মান কাজ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে গেলে তার সামনেই এসব কথা বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুলা ভাই কৃষক কুলের নয়ন মনি ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতার সাথে শহীদ হওয়া আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর নিরাপত্তা কর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহেন্দ্র নাথ সরকার।

বয়োবৃদ্ধ মহেন্দ্র নাথ জানান, বাড়ির পাশের টেমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও টেমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। জীবনের বেশীর ভাগ সময় মানুষের হীত করার চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত রাখলেও জীবন সায়াহ্নে স্ত্রী’র বসবাসের জন্য চরম দুশ্চিন্তায় পরেন তিনি। কোন ছেলে না থাকায় দুই মেয়ে তাদের শ্বশুর বাড়ি। স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার ভাতায় কোন রকম স্বামী স্ত্রী খেয়ে থাকলেও বসবাসের ঘরটি এতটাই জীর্ণ যে, রোদ কিংবা বৃষ্টি ভিজলেও তা সংস্কারের কোন সঙ্গতি ছিল না তার। ফলে বাধ্য হয়ে ওই ঘরেই বসবাস করতেন তারা।

তাঁর দুঃখের কথা জেনে শহীদ রব সেরনিয়াবাতের ছেলে জাতির পিতার ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র নির্দেশে প্রধান মন্ত্রীর গৃহহীন পরিবারের তালিকায় টিনের বেড়া ও বারন্দাসহ চৌচালা টিনের ঘর, মেঝ পাঁকা, ঢালাই খুঁটির ঘর নির্মান করে দেয় সরকার। জীবন সায়াহ্নে এসে বসবাসের জন্য একটি পাকা ঘর পাওয়ায় “চিন্তা মুক্ত” হবার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান মুক্তিযোদ্ধা মহেন্দ্র নাথ।

নতুন পাঁকা ঘর পাওয়া মহেন্দ্র নাথ সরকারের কথায় সন্তোষ প্রকাশ করে দেশ সেবায় মুক্তিযুদ্ধ ও দুটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কবির উদ্দিন, বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস, সংশ্লিষ্ঠ গৈলা ইউপি ৯নং ওয়ার্ড সদস্য চাঁন সেরনিয়াবাত। এর আগে নির্বাহী কর্মকর্তা বাকাল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রতন দত্ত’র নতুন ঘর পরিদর্শন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯১টি গৃহহীন পরিবারকে বসবাসের জন্য একটি করে ঘর নির্মান কাজ চলমান রয়েছে।

চৌচালা টিনের ঘর, বেড়া, ঢালাই খুঁটিসহ খোলা বারান্দার নতুন পাঁকা ঘর বাবদ প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ রয়েছে ১লাখ টাকা। যা তিনি নিজেই সার্বক্ষনিক তদারকি করে বাস্তবায়ন করছেন। নীতিমালা অনুযায়ী, যার এক থেকে দশ শতক জমি রয়েছে কিন্তু বসবাসের ঘর নেই এমন ব্যক্তি বা ঘর আছে কিন্তু বসবাসের অনুপযোগী এমন দরিদ্র ব্যক্তিরাই প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পের নতুন ঘর পাচ্ছেন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!