| |

চট্টগ্রামে সারা বছর জুড়ে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি জনজীবন অতিষ্ঠ

প্রকাশিতঃ 7:42 pm | November 25, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামে নগর উন্নয়নে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সারা বছরজুড়ে ধুলার ও পানির কর্দমাক্তর নগরবাসীকে বসবাস করতে হচ্ছে। বাসা থেকে বের হয়ে যে কোনো কাজে গেলে বর্তমানে সর্বত্রে ধুলা-বালি মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন-এই তিন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ধুলা থেকে মিলছে না নগরবাসীর মুক্তি। এতে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে একাধিক অভিভাবকরা জানান। তাছাড়া শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষা বলছে, বাতাসে ধুলিকণার সহনীয় মাত্রা ১৬০ এসপিএম। সম্প্রতি ধুলিকণার পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ৩৩৫ এসপিএম।

অধিদপ্তরের পরিমাপক অনুযায়ী, বাতাসের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মাত্রা ১৫০ এর ওপরে উঠলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একিউআই’র মাত্রা ১৫০ থেকে ২০০ পিপিএম হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’। ২০১ থেকে ৩০০ পিপিএম ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং মাত্রা ৩০১ থেকে ৫০০ পিপিএম ‘চরম পর্যায়ের অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ির পর দায়সারা সড়ক সংস্কারের কারণে প্রায় প্রতিটি অলি-গলিতে বেড়েছে ধুলা-বালীর রাজত্ব।

নগরীর বহদ্দারহাট, কর্ণফুলী ব্রীজ সংলগ্ন, বাদুরতলা, কামাল বাজার, রাহাত্তরপোল, ইপিজেড সড়ক, নিমতলা, বিশ্বরোড, মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন, চান্দগাঁও হয়ে আরাকান সড়ক, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কুয়াইশ সড়ক, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, হেমসেন লেইন, নন্দনকানন সর্বত্রই শুধু ধুলা আর ধুলা।

এ অবস্থায় সড়কগুলোতে চলাচল করা মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পর্যায়ে পৌছেচে। বর্তমানে সড়কের বেহাল দশায় রাস্তার পাশের দোকানিদের ব্যবসা লাটে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে সড়কে ধুলার দাপট কমাতে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সুইপিং গাড়ি কেনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ২০১৩ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দেয়া আরো একটি গাড়ি যুক্ত হয় কর্পোরেশনের বহরে। প্রতিটি গাড়ির দাম পড়ে ৮৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। দুটি গাড়িই এখন অচল হয়ে পড়ে আছে বলে সূত্রে প্রকাশ।

নগরের সৌন্দর্যবর্ধনে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ফোয়ারা, ক্রিকেটারের ভাস্কর্য, ম্যুরাল, বাঘ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুলায় ধূসর হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামশুদ্দোহা জানান, সড়কের ধুলাবালি পরিষ্কারের জন্য দুটি সুইপিং গাড়ি আছে। এগুলো ডিজেলচালিত হওয়ায় খরচও দ্বিগুণ। গাড়িগুলো উন্নত দেশের বাস্তবতায় তৈরি হওয়ায় এই ধুলাবালির দেশে পরিচালনা খুবই ব্যয়বহুল। তাই নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না এ গাড়িগুলো।

বাতাসে ভাসমান ধুলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!