| |

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির আশঙ্কা কর্ণফুল নদী সহ সমুদ্রগর্ভে ১০ বর্গকিলোমিটার জমি

প্রকাশিতঃ 7:03 pm | November 22, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে চট্টগ্রামে অবস্থিত কর্ণফুলী নদীর ১২ বর্গকিলোমিটার জমি সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে গেছে। এর প্রভাবে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রাম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে গত ৪০ বছরে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে ১২ বর্গকিলোমিটার জমি সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ১.৭৩ বর্গকিলোমিটার এবং ফেনী জেলায় প্রায় ৬৫ বর্গকিলোমিটার চর জেগে উঠেছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নোয়াখালী, ফেনী, বরগুনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা ও কক্সবাজার জেলার বঙ্গপোসাগরেরর সমুদ্র সৈকত এলাকা গত কয়েক বছরে প্রায় ৩ ফুট দেবে গেছে।

স্যাটেলাইটের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, জলবায়ু পরিবর্তনের সমীক্ষা নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় পতেঙ্গার নেভাল কলোনী এলাকা, কক্সবাজার সৈকত তীরবর্তী জমি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ফেনী নদীর মোহনা, খুলনা ও বরিশালের উপকূলবর্তী অঞ্চল নিয়ে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পতেঙ্গাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় ১৯৯২ ও ২০০২ সালে প্রায় দেড়’শ হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে ঝাউ বনায়ন করা হয়। এসব ঝাউ গাছ ৫০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় বেড়ে ওঠে। এগুলো সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস-বন্যা থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছে। অথচ অপরিকল্পিতভাবে সৈকতের বালু উত্তোলন এবং বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকায় গাছগুলোকে বাঁচানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয় বসবাসকারীদের অভিযোগ।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের কারণে বছরে গড় হারে তাপমাত্রা বাড়ছে ১ থেকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভবিষ্যতে বছরে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে বেশি নিচে নেমে যাবে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান ১৮ শতাংশের নিচে নামবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় বনের পরিমাণ কমে আসায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও ভূমি ধসের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে কৃষি খাস জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার একর। ১৯৯০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে প্রতিবছর ৯ শতাংশ হারে বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে। এখানে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২ হাজার ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮০০ মিলিমিটার। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের সময় নগরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ভবিষ্যতে উপকূলীয় আরও কিছু এলাকা সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চুয়েট প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর রিভার, হারবার অ্যান্ড ল্যান্ডস্লাইড রিসার্চ (সিআরএইচএলআর) এর চেয়ারম্যান ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক জনশ্রুতি আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে। আমরা বিগত ৩০-৩৫ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বড় কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। যদিও সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ভূমি তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায় নি, তবে এ নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!