| |

শীত মৌসুমে কক্সবাজারে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে উতলা মন, পর্যটকদের ভীড়

প্রকাশিতঃ 9:18 pm | November 20, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : শীতের আগমনি বার্তা নিয়ে এলো মানুষের মনের আনন্দের সীমাহীন গতি। আর এই গতি বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে পরিচিত দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এখানে রয়েছে অনেক নামী দামি হোটেল ও রয়েছে সুস্বাদু খাবারের মান। মানুষের নিরাপত্তা দিতেও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বিশেষ উদ্যেগ নিয়েছে।

এছাড়াও কক্সাবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমনের জন্য সারা বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লোকজন আসা ছাড়াও বাহিরের দেশ থেকে হাজার ভ্রমন পিপাসু লোকজন কক্সবাজার পর্যটন সমুদ্র সৈকত দেখার জন্য শীত মৌসুমে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। বিনোদন প্রিয় মানুষরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে, সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তারা ছুটি নিয়ে বছরে একবার হলেও এ শীত মৌসুমে কক্সবাজারে ভ্রমন করে থাকে।

মেধা ও মনন বিকাশে সমুদ্র সৈকতের সাথে মানুষ একাকার মিশে যায় সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়ার লোকজন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেশী ভ্রমন কারে থাকে বলে পটিয়া পৌর সাবেক কমিশনার নুরুল ইসলাম, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুদল খালেক, পৌর জাপার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির নেতা হাজী নজরুল ইসলাম জানান।

এছাড়াও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষরা দেখে আবিশাল সমুদ্রে যেন মিশেছে দূর আকাশের সীমানা। উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের পেছনে ফণা তুলে আসে ঢেউ। সাথে দুধ সাদা ফেনার উৎসব। বিরামহীন ঢেউয়ের নৃত্যে ঝংকার তুলে হুহু সুরের মূর্ছনা । সৈকতে আছড়ে পড়া সে ঢেউ পর্যটকদের পায়ে পরায় ফেনার নূপুর। সমূদ্রের মনভোলানো নানান রোমাঞ্চ মুহূর্তে ভুলিয়ে দেয় পর্যটকদের সব ক্লান্তি। শিস দিয়ে যেন আনাড়ি করে তুলে পর্যটকের মন। তাইতো দিন গড়াতেই তার বুকে জমে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়। বলছি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কথা। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এবং বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন স্পট এটি।

সন্ধ্যা গড়িয়ে এলে পৃথিবীর বুকে নামে নিকোশ কালো অন্ধকার। গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে দারুন গতিতে ছুটে চলে গাড়ি, মাঝে মাঝে সড়কের ভাঙা গর্তে পড়ে বুক ধুকধুকানি ঝাুকুনি!

চোখেমুখে তখন কক্সবাজার ভ্রমণের তীব্র উত্তেজনা। গাড়িতে কারো চোখে ঘুমের আবেশ কারোবা চোখে কক্সবাজার যাওয়ার উত্তেজনায় ঘুম নিরুদ্দেশ।
ভ্রমণ ক্লান্তি দূর করতে মাঝে মাঝে ব্রেক কষে গাড়ি। কড়া লিকারের চায়ে চলে মন চঙ্গা কারার আয়োজন। কখনো ভুরিভোজ। বাংলাদেশের অন্যতম এ দীর্ঘ সেতুকে ঘিরে জমে উঠেছে সকালের ব্যাস্ত নদী বন্দর। বন্দরে জাহাজ, মাছধরা ট্রলার আর সাম্পানের যেন মিলন মেলা, জেলেরা ঝাকে ঝাকে মাছ তুলছে পাড়ে। ইলিশের ঘ্রাণ যেন পাগল করে মন। এমন পরিস্তিতে কিছু সময় না দাড়িয়ে এবং মাছ আহরোনের এ দৃশ্য উপভোগ না করে গাড়িতো আর সামনে এগুতে দেয়া যায়না। এখানে কিছু সময় থেমে আবার ছুটে চলি সম্মুখে। সড়কের ছন্দে চলে গাড়ি। কোথাও চোখের সামনে ধরা দেয় ছায়া ঘেরা গাছের সারী, নদী, হাওর, ঘনজঙ্গল, পাহাড় কখনোবা শহরের অট্রালিকা ও জানালা দিয়ে কখনো দৃষ্টি চলে যায় দৃর সীমানায় ।

পাহাড়, নদী, ঘনজঙ্গল, শহরের কোলাহল আর খোলা প্রান্তরের প্রদর্শনী উপভোগ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গাড়ি থামে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি কক্সবাজার সমুদ্র পাড়ে। কলাতলি বিচ স্টেন্ডে গাড়ি পার্কিং করে টানা ভ্রমণ থেকে মিলে নিস্তার।

একটানা ভ্রমনের ক্লান্তি ভর করে সবার উপর। তাই চোখ কচলাতে কচলাতে বিশ্রামের জন্য হোটেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ভ্রমন পিপাসুরা। অনেক সময় সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাই কিছু সময় বি¯্রাম নিয়ে ছুটে চলা উচিত সমুদ্র পানে। নগ্ন পায়ে সৈকতের নরম বালুচরে দাঁড়াতে মানুষের সমস্ত ক্লান্তি যেন মুহূর্তে ধুয়ে নিয়ে যায় সমূদ্রের উচ্ছ্বাস। রাতের সমূদ্র একেবারে অন্যরকম। ব্যস্ত নগরীর ক্লান্ত নাগরীকের নাক ডাকা সুরে যেন ঘুমিয়ে যায় পুরো পৃথিবী। কিন্তু সদা জাগ্রত সমূদ্রের উত্থাল ঢেউ যেন উতলা করে তুলে সবার মন। এ দৃশ্য সবার জন্য একটি অসাধারন মুহুর্ত। রাতকে বিদায় দিতে সমূদ্রের বুকে জোয়ার এসে যেন চলে ভোরের আমন্ত্রণ। আকাশে আলো ফোঁটলে চোখে ধরা দেয় বালুচরে লাল কাঁকড়ার লুকুচুরি খেলা। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া নানা রঙ্গের শামুক-ঝিনুক।

ঢেউয়ে পিঠ ঠেকিয়ে উপুড় হয়ে পড়া, ঢেউয়ে ভেসে কিংবা লাফ দিয়ে শূন্যে উঠে ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দেওয়ার সে এক অসাধারণ মুহূর্ত গুলো যেন মানুষের জীবনের স্মৃতিময় একটি অংশ। যেন ফিরে যাই সবাই শৈশবে। ঢেউয়ের সাথে চলে অবিরাম ছেলেখেলা। এখানে কোনে বয়সের ব্যবধান নেই। চলে ওয়াটার বাইক, মোটর বাইক, সার্ফিংয়ের এডভেঞ্চার।

ছাতার নিচে বসে এ দৃশ্য উপভোগের স্বাদ একেবারে ভিন্ন। বিচে ছাতায় বসে, পাড়ে দাড়িয়ে কিংবা সমুদ্র ঢেউয়ে ভিজে জুবুথুবু হয়ে চলে ক্লিক ক্লিক ছবি তোলার ধুম। ভ্রমণের এ সেরা সময়টুকু হয় ক্যামেরাবন্দি। কলাতলি, সুগন্ধা, লাবনী বিচ সহ আরো কয়টি বিচ, ঢেউ আর গর্জন মিলে সমুদ্র সাজিয়ে বসেছে রোমাঞ্চিত সৌন্দর্যের পসরা। এ যেন মনোমুগ্ধকর এক নতুন পৃথিবীর আর্বিভাব।

শেষ বিকেলে আসে জোয়ার, পৃথিবীর বুকটাকে লালা রঙ্গে সাজিয়ে লাল থালার মতো সূূর্য ঢুবে পশ্চিম সমুদ্রে। দিনের ক্লান্তিতে বিদায় হয় ঢেউয়ের সাথে পাঞ্জা লড়ার রোমাঞ্চ।

কিন্তু সমুদ্র প্রেম যেন পিছু টানে ভ্রমন পিপাসুদের মন। মানুষের অজান্তে লুকিয়ে থাকা তার মনের ভিতরের বিরহ, বেদনা, ভালোবাসা সব টুকু উজার করে দেয় সমুদ্রে বুকে একটু সুখের ছোঁয়া পায় ভ্রমন প্রিয় মানুষেরা।

মুগল স¤্রাট শাহ সোজা এ মুগ্ধাতা ফেলে যেন যেতে চাননি অন্য কোথাও। তাই স¤্রাটের নির্দেশে তার সাথের প্রায় এক হাজার পালংকি অবস্থান নেয় এখানে। যার ফল¯্রুুতিতে এলাকার নাম হয়ে যায় পালংকি। মুগলদের পর অনেক হাত হয়ে এটি যায় ব্রিটিশের দখলে। ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নামানুসারে পালংকি হয় কক্সবাজার।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!