| |

চট্টগ্রাম- ৮ আসনে কে পাচ্ছেন নৌকা!!

প্রকাশিতঃ 11:11 pm | November 17, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির সমীকরণে বোয়ালখালী ও নগরীর চান্দগাঁও নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম- ৮ সংসদীয় আসন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জোর লভিং চালাচ্ছেন।

সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বর্তমান এমপি জাসদ একাংশের সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল কাদের সুজনের নাম জোর আলোচনা চলছে। এমনকি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।

এর আগে মোছলেম উদ্দিন গত ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পটিয়া আসনে নির্বাচন করেছিলেন। জীবনের শেষ বয়সে নির্বাচনী এলাকা বোয়ালখালী থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে মরিয়া।

এই আসনে মহাজোট থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মাইনুদ্দিন খান বাদল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমানুল্লাহ আমনকে হারিয়ে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন।

কিন্তু আসনটিতে দুইভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ এবার অনেকটা প্রকাশ্যেই বাদলের বিরোধিতা করছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী মোছলেম উদ্দিন ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আবুল কালামকে নিয়ে বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

মোছলেম উদ্দিন আহমদ গ্রুপের দাবি, দলের জন্য ত্যাগী নেতা মোছলেম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি জয়ী হতে পারবেন। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) এর নিবন্ধন না পাওয়ায় বাদলকে নৌকা প্রতীক না দেয়ার কথা দাবী তুলেছেন তারা।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় মঈনউদ্দিন খান বাদলকে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী এবং বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা মনোনয়নপত্রে ‘জাসদ’ প্রার্থী উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মাইনুদ্দিন খান বাদল এমপি সাংবাদিকদের জানান, মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আমি নৌকা মার্কায় নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী অনিবন্ধিত দলগুলো জোটের নিবন্ধিত দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলীয় মনোনয়ন কার্যক্রম শেষ করে জোটের বিষয়টি দেখবেন।

বঙ্গবন্ধুর সহচর মোছলেম উদ্দিন আহমদ মহানগর যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বলেন, আশা করছি জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়ন পেয়ে আমি বিজয়ী হতে পারবো।

এদিকে সাবেক মন্ত্রী বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বিএসসিও এই আসন থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাঁকে নিয়ে। যদিও তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আন্তরিকতায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং টেকনোক্রন্ট কোটায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামেরও আগ্রহ আছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রতি। এবার মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানালেন তিনি। অবশ্য চট্টগ্রাম-৯ আসনের মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ওয়েল গ্রুপ অফ ইন্ডাষ্ট্রিজ এর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। ২০০৮ সালেও তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরে জোটের প্রার্থীকে দেয়া হয় মনোনয়ন।

পাশাপাশি এ আসনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, এমপি মাইনুদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান বাদল। সেলিনা খান বাদল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আহমদুল্লাহ-যর্তুমা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!