| | শনিবার, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী |

রাজনীতির সমীকরণে মহাজোটের নতুন চমক হতে পারে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশিতঃ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০১৮

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট-মহাজোট, ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট সহ রাজনৈতি সমীকরণে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাকি মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, চসিক সাবেক মেয়র ও তিন বারের নির্বাচিত এমপি জনপ্রিয় মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মহাজোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন খবর রটেছে সর্বত্রে।

এ নিয়ে তার সমর্থিত লোকজনের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। বিষয়টি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী কোনো অবস্থাতে ছাড় দিতে নারাজ। এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ১৩ জন দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এরমধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও মুজিবুর রহমান এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের কথাই ভাবছেন অধিকাংশ ভোটাররা।

দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাদের নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও আবদুল্লাহ কবির লিটন বাঁশখালীতে পৃথকভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসলেও মুজিবুর রহমান আলাদাভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মহাজোটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরই জাতীয় পার্টির অবস্থান। একক প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জাপার পক্ষে একক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া।

এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে আরও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতানুল কবির চৌধুরীর ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব, ড. জমির উদ্দিন সিকদার, আবুল হোসেন মো. জিয়া উদ্দিন, অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম শরিফী, মুজিবুল হক চৌধুরী, নিগার সুলতানা ও এসএম রিয়াজউদ্দীন চৌধুরী সুমন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় সকলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন রয়েছে। যেহেতু সংসদ নির্বাচনে জোটের একটি বিষয় আছে, সবকিছু বিবেচনা করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

বাঁশখালীর উত্তর সীমানা আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ সেতুর পর থেকে দক্ষিণ বাঁশখালীর নাপোড়া-প্রেমবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।
পাশাপাশি বাঁশখালীর একমাত্র হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিন, আদালত ভবন ও উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ, ইকোপার্কের উন্নয়ন, ফায়ার সার্ভিস ভবন উদ্বোধন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বেশ কিছু স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ভিশন ভিক্ষাবৃত্তি দূরীকরণ ও স্বাবলম্বী করতে বাঁশখালীর ২০০ গরিব পরিবারকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্যান গাড়ি দিয়েছেন তিনি। এমনকি নিজের প্রতিষ্ঠিত ১৯টি শিল্প-কারখানায় প্রায় ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন মুজিবুর রহমান।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। এমনকি প্রথম পর্যায়ে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হলেও দলীয় নির্দেশনায় সরে যান লিটন।

বাঁশখালীতে লিটনের আছে আলাদা গ্রুপ। আওয়ামী লীগের একাংশ ও তরুণ নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে এটি ‘লিটন গ্রুপ’নামে পরিচিত। গত রমজান মাস জুড়ে বাঁশখালীর প্রায় সব ইউনিয়নে আখতারুজ্জামান চৌধুরী স্মৃতি সংসদের ব্যানারে ইফতার মাহফিল করে বাঁশখালীর সাধারণ মানুষের মন জয় করার চেষ্টা চালান।

তবে আওয়ামী লীগ মহাজোটগতভাবে এবারও নির্বাচন করলে একক প্রার্থী হিসেবে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মাঝে আলোচনায় আছে। পারিবারিকভাবে ঐতিহ্য, উন্নয়ন, ক্লীন ইমেজ এ নেতা শিক্ষার উন্নয়নে এলাকায় মহিলা কলেজ, মাদ্রাসা ও টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করেন তিনি। বাঁশখালীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মন্তব্য করে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

এর আগে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ব্যানারে বাঁশখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ৭ মে ও ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ব্যানারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

তবে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ফুল) মার্কা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মাত্র ৮৬ ভোটে সুলতানুল কবির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ঐ সময় যদি তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করলে বিজয়ী হতেন বলে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দাবী।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares