| | বুধবার, ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী |

জামালপুরে চাঞ্চল্যকর দুই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেলন পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার সীমা রানী

প্রকাশিতঃ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১০, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিন পর জামালপুরের দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেলন জামালপুর জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার। একটি হচ্ছে ইসলামপুরের যমুনার দুর্গম চরের জিগাতলা গ্রামের সাবেক মেম্বার ছমেদ আলী হত্যা। তার মাথায় পিস্তল ও বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অন্যটি হচ্ছে ইসলামপুর উপজেলার মরাকান্দি পোড়াবাড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিজান হত্যা। তার হাত-পা বেঁধে গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার পুরুষাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে পেট্রোল দিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মামলা দুটির তদন্ত কার্যক্রম ও চার্জশিট নিয়ে তদন্ত সংস্থার ওপর বাদী পক্ষ ছিল অসন্তুষ্ট। ফলে মামলা দুটি তদন্তে যায় জামালপুর পিবিআইর কাছে। আর এতেই জেলার চাঞ্চল্যকর এ দুটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচিত হয় যায়। বের হয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য।

২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় চরবরুলের আবু তালেবের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় দুই ব্যক্তি ছমেদ আলীর দুই হাত ধরে ফেলে। অন্য দুই ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ও বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ ঘটনায় মৃতের ছেলে সুজুর উদ্দিন ১২ ফেব্রয়ারি কুখ্যাত ছাত্তার ডাকাত ও তার দুই ছেলেসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি থানা পুলিশ তদন্তকালে চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই ময়মনসিংহ তদন্তভার গ্রহণ করেন। সংস্থাটি ২৮৮ দিন তদন্ত শেষে ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্ত পায় জামালপুরের পিবিআই। গত ৬ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআইর এসআই রফিকুল ইসলাম। মামলাটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সংস্থার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার। সম্প্রতি মামলার দুই আসামি নূর নবী ও জুব্বারকে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা ও আদিতমারী থানা থেকে গ্রেফতার করে তারা।

পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার জানান, গ্রেফতারকৃতরা জামালপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেয়। জবানবন্দিতে তারা বলে, জিগাতলা গ্রামের শামছুল হক ও মিন্টু মেম্বার জোর করে চরের জমি দখল করে বেচাকেনা করত। এর প্রতিবাদ করায় ছমেদ মেম্বারকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। ঘটনার আগে আসামি সদার মরিচ ক্ষেতে শামছুল হক, মিন্টু মেম্বার, ছাত্তার ডাকাতসহ আসামিরা ছমেদ মেম্বারকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

এ সময় শামছুল ও মিন্টু মেম্বার ছাত্তার ডাকাত এবং তার ছেলেদের সঙ্গে ছমেদ মেম্বারকে হত্যার জন্য দেড় লাখ টাকার চুক্তি করে। ঘটনার রাতে ছাত্তার ডাকাতের ছেলে ইসমাইল ছমেদ মেম্বারের মাথায় পিস্তল ও আসামি চান মিয়া বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে। এ সময় আসামি সদা ও ইউসুফ তার দুই হাত ধরে রাখে। আসামি জুব্বার ফালা নিয়ে বাইরে পাহারায় থাকে। আসামি নূর নবী ও আওয়াল দোকানের ভেতরে ক্যারাম বোর্ড খেলতে থাকে। এ মামলায় ১৬ জনের নামে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

অন্যদিকে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারেরচর মাস্টারপাড়ার দুলাল হাজীর গম ক্ষেতে থেকে ভাড়াটে হোন্ডাচালক মিজানুর রহমানের ক্ষত-বিক্ষত অগ্নিদগ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে মিজানের বন্ধু শামীমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিনহাজ তিনজনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জামালপুরের পিবিআইর এসআই শামীম কবীর মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করেন। পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকারের নির্দেশনায় তিনি ইসলামপুরের মরাকান্দি হাজিপুটি গ্রামের হুদা নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে আনেন। গ্রেফতারকৃত হুদা পুলিশ ও আদালতের কাছে মিজান হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা বর্ণনা করে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares