| |

চট্টগ্রামে ১৬ আসনে আওয়ামীলীগসহ শরীক দল সক্রীয়, মাঠে নেই বিএনপি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 11:41 pm | November 07, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামে নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে। নানাভাবে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্টের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। এ ছাড়া দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকে এরইমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে বিএনপির কোনো প্রার্থীকে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের পর গণসংযোগ করবেন বলে জানালেন ২০ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনই আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলের দখলে। তাই ১০ বছরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন ও সাফল্যের কথা জনগণের কাছে তুলে ধরে আসনগুলো পুনরুদ্ধারের আশায় দলটির বর্তমান এমপি ও শরীকরা। অপরদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে আছে বিএনপি। মাঠে আওয়ামী লীগ থাকলেও দেখা নেই বিএনপির। তা ছাড়া সম্ভাব্য বেশিরভাগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অনুকূল পরিবেশ সাপেক্ষে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে জানায় দলটি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম ফজলুল হক বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ যদি আমার ব্যাপারে চিন্তভাবনা করেন বা মনোনয়ন সুনিশ্চিত করেন, তবে আমরা বিপুল ভোটে জিতব। হাটহাজারীতে নিজেকে বিএনপির প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে জানিয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যদি মুক্তি পান, তিনি যদি আমাকে টিকেট দেন, আমি নির্বাচন করব। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীনরা। সুযোগ পেলেই গণসংযোগ করেছেন প্রার্থীরা। হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি টিকেট প্রত্যাশী অনেক নতুন মুখও প্রচার চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১ আসনে যথারীতি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমাকে যদি প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দেন, যেখান থেকে আমি ছয়বার নির্বাচিত হয়েছি। এবার দিলেও আমি আবার প্রধানমন্ত্রীকে আমার সিটটা উপহার দিতে পারব।

চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে মনোনয়নপ্রার্থী বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, মানুষের কাছে যাব এবং আমি বিশ্বাস করি অন্যান্য বারের মতো এবারও জনগণ আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। কেননা আমি হাটহাজারীতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি।

চট্টগ্রামে সংসদীয় আসনের সংখ্যা ১৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১৪ দলের শরিকদের চারটি ছাড়া বাকি সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। চট্টগ্রাম-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রাম-২ আসনে তরীকত ফেডারেশনের নেতা নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, চট্টগ্রাম-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা তবে ঐ আসনে মনোনয়ন চায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ইউপি চেয়ারম্যান এম সালাম, চট্টগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগের এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ছাড়াও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব সাকে মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল থাকলেও ঐ আসনে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ মনোনয়নের জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের ডা. আফসারুল আমীন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আওয়ামী লীগের এম এ লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ আসনে আওয়ামী লীগের শামসুল হক চৌধুরী এমপি ছাড়াও এ দলের মনোনয়ন বিজিএমই সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, জেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী বেগম চেমন আরা তৈয়ব, যুবলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম ব্যাপক মনোনয়ন প্রত্যাশায় ব্যাপক গনসংযোগ করছেন তাছাড়াও পটিয়া আসনে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকা রয়েছেন এরশাদের শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা পটিয়ার সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র সামশুল আলম মাষ্টার, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম.এ.মতিনের নাম জোর আলোচনায় রয়েছে, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও একই দলের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবছার উদ্দিনও মনোনয়নে জোর লভিং চালাচ্ছেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নাদভী ছাড়াও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম, মাঈনুদ্দিন হাসান, শিল্পপতি এম. এ মোতালেব মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী তবে ঐ আসনে ভাগ বসাতে চান সাবেক ৩ বারের এমপি চসিক সাবেক মেয়র জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

১৬টি আসনের বেশির ভাগ প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। ১৬টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৫৬ লাখ ৪১ হাজার ২১৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৪ জন এবং ২৭ লাখ ২৭ হাজার ১৬৫ জন মহিলা ভোটার।
আওয়ামী লীগের সাথে শরীক দল জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্টের সাথে বিরোধ না মিটালে আসনগুলো হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!