| |

কী হবে গণভবনে?

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 6:53 pm | November 01, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক সারাদেশের চোখ এখন গণভবনে! কী হবে? কে কার থেকে কী রাজনৈতিক স্বার্থ আদায় করে নেবেন। চায়ের দোকান থেকে রাজনীতি পাড়ায় সব যায়গায় সংলাপের সৌরভে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন বিমোহিত। আজ (০১নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে হবে এই সংলাপ। শেখ হাসিনার সঙ্গে সরকার বিরোধী নেতারা আজ একটেবিলে।

কয়েকদিন আগেও কেউ ভাবতে পারেননি চির বৈরী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা একসঙ্গে বসবেন। যদিও সরকারি দলের ভাষ্য,তাঁরা বিএনপির সঙ্গে বসছে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করছে। আবার এও অস্বীকার করা যাচ্ছে না বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতাই এ সংলাপে থাকছেন। তবে আজকের সংলাপের পর পরবর্তী পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প ধারা বাংলাদেশ অন্যতম নেতা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যদের সঙ্গে বসবেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। সংলাপে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও। সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি রূপরেখা আজকের সংলাপ থেকে আসবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ জনতা।

তবে এরই মধ্যে সরগরম হওয়া আজকের সংলাপটি নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। রাজনৈতিক পাড়ায় নেতাদের ধারণা সরকার নিজের ছক মতোই নির্বাচন করবে। কারও মতে, সরকার দেশের মানুষ ও বহির্বিশ্বকে দেখাতে চাইছে যে তাঁরা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনে আগ্রহী। পরপর দুবার নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির বিষয়। এ ছাড়া আরও একটি মত রয়েছে, বর্তমান অবস্থা ও ব্যবস্থায় নির্বাচন হলে ‘নেতৃত্বহীন’ বিএনপি খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই জয়ী হবে। কেননা বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দন্ডিতহ হয়ে জেলে, বিকল্প নেতা তারেক রহমান বিদেশে। পরের পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাও সম্প্রতি আটক হয়েছেন।

তবে অবশেষে সংলাপ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসছেন। সংলাপ ফলপ্রসূ হবে এমনটিই আশা দেশের সাধারণ মানুষের। এর আগে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেয় ঐক্যফ্রন্ট। সেখানে ৭ দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় গণফোরাম-বিএনপিসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত এ জোট। এতে সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওবায়দুল কাদের জানান, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেয়া সংলাপ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এরপর মঙ্গলবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। ঐক্য ফ্রন্টের ১৬ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের মোকাবেলায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

মূলত একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে হচ্ছে এই সংলাপ। জাতীয় নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল বিকল্প হচ্ছে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সরকার, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ জন্য সবার আগে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ, নির্ভরশীলতা কমিয়ে কমিশনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে; যাতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

কী পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিংবা ক্ষমতায় থাকা না থাকার ইস্যুগুলোই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। সমঝোতার পরিবর্তে বৈরিতাই স্থান করে নিচ্ছে রাজনীতিতে। এ অবস্থা দেশকে এক সঙ্কটজনক অবস্থায় নিপতিত করছে। কিন্তু এ অবস্থা তো কারও কাম্য হতে পারে না। তাই জনকলাণ্যের রাজনীতিই সকলের প্রত্যাশা। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে এমনটিই জনপ্রত্যাশা।

সংলাপে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের আরো ৫ নেতা
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শুরুর শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে যুক্ত হলো আরো পাঁচজন নেতার নাম। আগের ১৬ জনকে মিলিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে এই সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২১ জনে দাঁড়ালো। তালিকায় যুক্ত হওয়া নতুন পাঁচ নেতা হলেন- বিএনপির ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ ও ম শফিক উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (০১নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই আলোচনা শুরু হবে। ফলে সারা দেশের দৃষ্টি এখন গণভবনের দিকে। কামালের দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মহসীন মন্টু বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে পাঠানো এক চিঠিতে সংলাপের প্রতিনিধি দলে নতুন পাঁচজনকে যুক্ত করার কথা জানান। মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাড়াও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহর নাম রয়েছে সেখানে।

চিঠিতে মন্টু বলেন, “অনিবার্যকারণবশত উক্ত তালিকার সঙ্গে আরো ৫ জন নেতার নাম যুক্ত করা একান্তভাবে আবশ্যক। আপনার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের সাথে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে।” সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে থাকছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার চেয়ারম্যান কামাল হোসেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাসের নাম আগের তালিকাতেই জানানো হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সক্রিয় জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদও যাচ্ছেন গণভবনে।

এছাড়াও যাচ্ছেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। অন্যদিকে সংলাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকবেন ২০ জন, তার মধ্যে আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর নেতারাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে থাকছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, মো.আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান ও দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসছেন। থাকছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নেতা শ ম রেজাউল করিমও। ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদল, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াও উপস্থিত থাকবেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় যা আছে
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল, নির্বাচনের ১০ দিন আগে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রেখে নতুন কোনো মামলা না দেওয়া।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!