| |

আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে : ফখরুল

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 6:45 pm | November 01, 2018

নিউজ ডেস্কঃ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায় করা হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোট দিয়ে পছন্দের সরকার নির্বাচন করবে। কিন্তু সরকার পরিস্থিতিকে জটিল করছে। আমাদের চেয়ারপারসনের সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া হলো। বিষয়টি নেত্রীকে জানানোর পর তিনি বলেছেন, ‘সাজা যত দেয়ার দিক। তবুও মাথা নত করবো না।’, ‘আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করবো।’বৃহস্পতিবার (০১নভেম্বর) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির গণঅনশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বন্ধুগণ, আমরা মাথা নত করবো না। আমরা নিজেদের অধিকারের আন্দোলন ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তা আদায় করবো আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার। ১৯৭১ সালের যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম, সেই অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবোই করবো।’রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণে এখন বিচার ব্যবস্থা চলছে। তার প্রমাণ গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার মামলার রায় হয়ে গেছে। সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে দেশ আর গণতান্ত্রিক দেশ নেই, স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে।’গণতন্ত্রের সঙ্গে খালেদা জিয়া ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছেন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র মানেই খালেদা জিয়া। তাই আজকে তার মুক্তির দাবিতে অনশন করছি।’

গণঅনশনে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ৭ দিনের মধ্যে ধূলোর মতো উড়ে যাবে।’‘খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করা হয়েছে। নতুন করে আরেকটি মামলায় ৭ বছর সাজা দেয়া হয়েছে। এসব টিকবে না।’ সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা যাবে না। সংলাপের নামে কোনো ধাপ্পাবাজি চলবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘শুধু স্লোগান দিলে কি আমাদের নেত্রীর মুক্তি হবে? (এসময় নেতাকর্মীরা না সূচক উত্তর দেন, নেতাকর্মীরা আন্দোলন আন্দোলন বলে স্লোগান দেন) তাহলে আন্দোলনের জন্য শারীরিক ও মানুসিকভাবে আন্দালনের প্রস্তুতি নিন। সেটি করলেই নেত্রী মুক্তি পাবেন।’

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে মওদুদ বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমাদের নেত্রীর মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘সারা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। এটিকে আরও জোরদার করতে হবে। সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলে ব্যাপকভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে, অন্যদিকে আমাদের নেত্রীর সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করেছে। এগুলো আমাদের কাছে ভালো আলামত বলে মনে হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আমাদের নেত্রী খালাস পাবেন। কিন্তু যা হয়েছে সেটি নজিরবিহীন। আমরা এটা গ্রহণ করি না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা সাতদফা দিয়েছি। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে জনগণের কল্যাণে। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক কথা হচ্ছে। লোক দেখানো সংলাপ, আমাদের ফাঁদে ফেলানোর সংলাপ। অনেক দিন যাবত রাজনীতি করি। যারা বসবেন তাদেরকেও আমরা চিনি। তাই আপনারা আমাদের ফাঁদে ফেলবেন, ধোঁকা দিবেন আর এটা সম্ভব হবে না।’‘আমাদের পরিষ্কার কথা। আগামী নির্বাচন যদি করতে হয় সাত দফাকে মানতে হবে। আমাদের আজকে সংলাপে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো আমাদের সাত দফা উপস্থাপন করব। সাত দফাকে বাস্তবায়ন না করে এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেব না, সম্ভব হবে না।’

নেতাকর্মীদেরকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগকে চেনেন। তারা আমাদের কথায় সংলাপের ছক দিয়ে দেবে, এটা মনে করার কারণ নেই। পরবর্তিতে আপনাদের কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।’খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, হাইকোর্টে আওয়ামী লীগ নেতাদের বেঞ্চে বসিয়ে বিচারপতি সাহেবের নাম করে বেগম খালেদা জিয়াকে যেসব মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছেন, সাজা বৃদ্ধি করেছেন দেশের জনগণ এই বিচার মানে না।’‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন প্রধান বিচারপতি হয়ে তিনি ন্যায় বিচার পাননি, দেশের মানুষ তো বিচার পাবেই না। অতএব এই বিচার আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণ এটা মানে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক,আমান উল্লাহ আমান, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা আব্বাস, শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

গণঅনশনে বিএনপি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল, শ্রমিকদল কৃষকদল, ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও শাখার হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক যোগ দিয়েছেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং সাজা বাতিলের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দেন। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক মহানগর নাট্যমঞ্চের সামনের চত্বরে অনশন পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ শীর্ষ নেতাদের পানি পান করিয়ে এই অনশন ভাঙান।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!