| |

চামেলীর দায়িত্ব নিল বিসিবি

প্রকাশিতঃ 12:00 am | November 01, 2018

অনলাইন ডেস্ক ঃ ২০১১ সালে নারীদের প্রথম বিশ্বকাপে অলরাউন্ডার হিসেবে দেশের হয়ে মাঠ মাতিয়ে রেখেছিলেন চামেলী খাতুন। নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও। দেশের হয়ে লড়াই করা এই নারী ক্রিকেটার এখন প্রায় বিনা চিকিৎসায় বিছানায় শয্যাশায়ী। শরীরের ডান পাশ অবশ। আর্থিক অনটনের সংসারে দশ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা করাতে পারা যেন ‘আকাশকুসুম কল্পনা’। তার পরও দেশের হয়ে আবারও মাঠে নামতে চান অদম্য এ ক্রিকেটার। এজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন চামেলী। বিভিন্ন মিডিয়ায় তার অসুস্থতার সংবাদটি নজরে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের। চামেলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া এলাকায় চামেলীর খোঁজে গিয়ে দেখা যায়, পৌনে এক কাঠা জমির ওপর জরাজীর্ণ ছোট্ট একটা বাড়ি। এ বাড়ির দুটি কক্ষে বাবা-মা, ভাই ও বড় বোনকে নিয়ে চামেলীর বসবাস। চামেলী ২০০৭ সালে আনসার বাহিনীর হয়ে খেলাধুলা শুরু করেন। ২০০৮ সালে ডাক পান জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে। ২০১১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। ২০১১ সালে নারীদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দেশের হয়ে অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। এরপর একই বছর ঢাকার আবাহনী মাঠে অনুশীলন করতে গিয়ে তার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ভেবেছিলেন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দিন দিন সমস্যা বাড়তেই থাকে। এভাবেই খেলা থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।

চিকিৎসায় অর্থাভাবে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় চলে গেছে যে, এরই মধ্যে দু’বার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। চামেলী বলেন, আমার মাথার ওপর ছাদ নেই। বৃদ্ধ বাবা থেকেও নেই। ভাইবোন তো আমার কাছ থেকেই টাকা চায়। আমি কার কাছে চাইব? আমি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। আমি যখন ফুটবল খেলতাম, ক্রিকেট খেলতাম, খুব দাপটের সঙ্গে খেলেছি। ফিল্ডিং করতে গিয়ে দু’বার ঠোঁট কেটেছে। আটটি করে সেলাই লেগেছে। তখনও কিছুই মনে করিনি। শরীর এতটা অবনতি হবে, তা ধারণার বাইরে ছিল।

চামেলী বলেন, আল্লাহ রোগ দিতেই পারেন। অন্য অসুখ হলে হাসতে হাসতে মৃত্যুকে বরণ করতাম। কিন্তু এখন এমন অসুখ হয়েছে যে, কিছু করতে পারছি না। পুরো শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে। দু’বার প্যারালাইসিস হয়েছে। আর একবার হলে আর উঠে দাঁড়াতে পারব না। জীবিত থেকেও মরে যাওয়ার মতো। একটা সময় মনে করি কিছু একটা করে ফেলব, যখনই আবার মায়ের মুখটি ভেসে ওঠে, তখন মনে হয় উঠে দাঁড়াতে হবে।

চামেলীর এখন দিন কাটে জীর্ণঘরের একটি বিছানায়। তবে আবারও মাঠে ফিরতে চান তিনি। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে হবে দেশের বাইরে। এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করাতে হবে দ্রুত।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!