| |

মীরসরাইতে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানো হচ্ছে

প্রকাশিতঃ 8:22 pm | October 29, 2018

সানোয়ারুল ইসলাম রনি, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : মীরসরাই উপজেলার বারইয়াহাট, জোরারগঞ্জ, বড়তাকিয়া বাজার সহ বিভিন্ন বাজারের কলার আড়তগুলোতে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা। কখনো কখনো ভেজাল বিরোধী অভিযান হলে ও ফলের হাটগুলোতে এখানে অভিযান পরিলক্ষনীয় নয়। তবে প্রশাসন বলছে এখন থেকে অভিযান হবে।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে বড়তাকিয়া বাজারের কলার আড়তদার আক্তার হোসেন বললেন আগের থেকে বিক্রি এখন অনেক কম, আগে বছরে ৪-৫ লাখ টাকার কলা ও বিক্রি করেছি। গেল দু বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার চালান করা ও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এসব কচি ও কাঁচা কলা কি মেডিসিন দিয়ে পাকানো হয় তা তিনি কোন ভাবে স্বিকার করতে নারাজ। অথচ আড়তের এক পাশ্বে ঠিকই কালো প্লাষ্টিক পলিথিন মোড়ানো অর্ধশতাধিক কলার ছড়া মেডিসিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে তখনো। অদূরেই তার মেডিসিন দেয়ার বালতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দেখা যাচ্ছিল। কোন মেডিসিন ই দেয়া হয়না জানালেন অপর আড়তদারের অপর পার্টনার মামুন মিয়া ও।

কিন্তু সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা কলা সংগ্রহ করে আনে এইসব পাইকাররা। মীরসরাই উপজেলার মীরসরাই সদর, বারইয়াহাট বাজার, মিঠাছরা, আবুতোরাব সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল বাজারেই এই ভাবেই বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা। পরে বাজার থেকে ইথিফন রাসায়নিক কিনে তা এক বালতি পানির সঙ্গে মিশিয়ে তাতে কলার ছড়াগুলো চুবিয়ে রাখেন। এর পর কলাগুলো প্লাস্টিকের ঝুড়িতে রেখে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। দুদিনেই কলাগুলো পেকে সুন্দর রঙ ধারণ করে । শুধু মীরসরাই নয় চট্টগ্রামের সর্বত্র ও সারা দেশেই অপরিণত কলা পাকাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকর এই রাসায়নিক ইথিফন ব্যবহার করছেন। এ রাসায়নিক থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।

জানা গেছে, বিভিন্ন ফল পাকাতে ইথিফন ব্যবহার হলেও এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা এসব নিয়ম মেনে চলছেন না। দ্রুত পাকাতে তারা ফলে সরাসরি ইথিফন প্রয়োগ করে থাকেন। এতে সংশি¬ষ্ট ফলের পুষ্টিগুণ লোপ পায়। এছাড়া অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন পরিপাক তন্ত্র-সংক্রান্ত্র রোগ এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে এ রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোনো মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি এখনো। অথচ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কলায় ইথিফনের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল পাড়ার পর তাতে সরাসরি ইথিফন প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এটি করা হলে রাসায়নিকটি ফলটিতে থেকে যায়। বিশেষ করে সরাসরি প্রয়োগের ফলে কলায় ইথিফন থেকে এক ধরনের অ্যালডিহাইড উৎপন্ন হয়। কলার মাধ্যমে এ রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে তা মানুষের মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহনে বিঘœসৃষ্টি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, কলা একটি পুষ্টিকর ফল। পরিণত কলা ঘরে তিন-চারদিন রাখার পর প্রাকৃতিক নিয়মে পেকে যাবে। কিন্তু একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত মুনাফার লোভে পরিণত হবার আগে কেটে এনে সেসব কলা ইথিফনের সাহায্যে পাকান। এসব ইথিফন মিশ্রিত কলায় কোনো পুষ্টিগুণ থাকে না। এর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ইথিফন দিয়ে পাকানো কলা খেলে অ্যাসিডিটি বাড়ার পাশাপাশি বদহজমের আশঙ্কা থাকে। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা নেই, তারাও নতুন করে এতে আক্রান্ত হতে পারেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মানুষের যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবল আহমেদ বলেন, ইথিফন ফল পাকাতে ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে ফল গাছে থাকা অবস্থায়ই স্প্রের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করতে হয়। এর পর নির্দিষ্ট সময় পর ওই ফল গাছ থেকে পাড়তে হয়। এ নিয়ম কলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত মুনাফা লাভের আশায় অপরিণত কলা গাছ থেকে পেড়ে তাতে ইথিফন প্রয়োগ করছেন। এটি একেবারেই উচিত নয়।

নির্দিষ্ট সময়ের আগে ইথিফন ব্যবহৃত ফল খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত ইথিফন ব্যবহার রোধে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বর্তমানে ইথিফন বাজারজাতের লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে। অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে নতুন করে কাউকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রন কি হবে না জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে এই বিষয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করবো।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!