| |

ধর্মঘটের ২য় দিনও মীরসরাইয়ে ব্যাপক ভোগান্তি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 8:19 pm | October 29, 2018

সানোয়ারুল ইসলাম রনি। মীরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে আজ সকাল থেকে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ২য় দিন রোববর ( ২৯ অক্টোবর) প্রথম দিনের মত ২য় দিনও সকাল থেকে অচল থাকতে দেখা গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকা।

সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কের বারইয়াহাট এলাকায় অবস্থান করে কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি। দূরপাল্লার বাস ট্রাক সহ সকল বড় বাহনই রাস্তায় নামেনি। শুধুমাত্র কার মাইক্রো চলাচল করার চেষ্টা করলে ও বারইয়াহাট পৌরবাজার এলাকায় শ্রমিকরা এতে বাধা দেয়। যার জন্য কোন যানবাহন আর রাস্তায় বের হবার সাহস করেনি। শুধূমাত্র সিএনজি অটো রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে প্রায় হাটবাজার সহ কোন কোন এলাকায়।

বারইয়ারহাট, মীরসরাই, মিঠাছরা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে অফিসগামীদের অনেকেই গাড়ির অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে আবার বাড়ী ফিরে গেছে অনেকে। কেউ কেউ সিএনজি অটোরিক্সায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে গন্থব্যে যেতে দেখা গেছে। গাড়ি না পেয়ে তাদের অনেকেই পায়ে হেঁটে ও গন্থব্যে যেতে দেখা গেছে। মীরসরাইয়ে সকাল থেকে কোন পরিবহন সকাল থেকে চলতে দেখা যায়নি। এই সুযোগে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা দুই তিন গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মীরসরাই থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ফরহাদ হোসেন তারেক জানান, আমার ক্লাস ১০টা থেকে এখন ৮টা কিন্তু কোন গাড়ি পাচ্ছি না। সাপ্তাহে এই একটা দিন আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থাকলেও আমি কতক্ষনে কিভাবে চট্টগ্রাম যাবো বুঝতেছি না। এমন অবস্থায় হটাত একটা ট্রাক পেতে দেখা গেল সেইখানে, পরে সে ট্রাকে করে চট্টগ্রাম যেতে দেখা যায়।

এই সময় তার কাছে ৩০০টাকা ভাড়া চাওয়া হলেও দেখা গেলে সে কিছু বলে নি। কারন এখন একটা (ট্রাক) গাড়ি যেন সোনার হরিণ।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবিতে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিল ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিক নেতাগন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে রোববার ভোর ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত, ধর্মঘটের প্রথম দিনে রাস্তায় সাধারণ পরিবহনের কোনো গাড়ির দেখা মেলেনি। ২য় দিন এসে ও সেই অবস্থা দেখা যায়, ফলে অফিসগামী ও সাধারণ জনগণকে পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

প্রাইভেট কার চালক রফিক উদ্দিন বলেন, যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অনেক ভয়ে ভয়ে বারইয়ারহাট থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছি। ভাটিয়ারি থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। অতিরিক্ত ভাড়া কেন নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীরাতো আপত্তি করছে না। গন্থব্যে যেতে পারছেন এতেই তারা খুশি।

মীরসরাই সীতাকুন্ডের দূরপাল্লার বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সাথে কথা বলে জানা গেছে সকাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস চট্টগ্রাম থেকে চলাচল করছে না। ৪৮ ঘন্টার টানা পরিবহন ধর্মঘট চলার কারণে বন্ধ আছে দূরপাল্লার বাসগুলো।
এই বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন শ্রমিক ধর্মঘটের নামে কেউ কোন প্রকার বিশৃংখলা করার সুযোগ নিচ্ছে কিনা এই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকা উচিত, তবু ও মীরসরাই থানার সকল পুলিশ সদস্য এই বিষয়ে সচেষ্ট আছে বলে জানান তিনি।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!