| | সোমবার, ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

পটিয়ায় পানি নিষ্কাশন পথ অবরুদ্ধ চলতি মৌসুমে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়নি

প্রকাশিতঃ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৩, ২০১৮

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : পটিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের ৫ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন পথ অবরুদ্ধের কারণে চলতি আমন মৌসুমে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়নি। ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে বড়লিয়া, কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের ২টি ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে এবং সময়মতো ব্রীজ ও কালভার্টের কাজ শেষ না করায় পানি নিষ্কাশন পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে এই ৩ ইউনিয়নের অধিকাংশ জমি আমন আবাদ থেকে বঞ্চিত হয়।

এছাড়া শোভনদন্ডী, জঙ্গলখাইন, কেলিশহর, ধলঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনেক চাষী এ বছর আমন আবাদের চাষ করেনি। কিছু কিছু ইউনিয়নে ধানী জমিতে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো চাষের অনুপযোগী হওয়ায় অনেক জমি আবাদহীন হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন চাষী থেকে জানতে চাইলে তারা জানান, কৃষি উপকরণ, সার কীটনাশক ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষাবাদে চাষীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।

শোভনদন্ডীর ইদ্রিস নামক একজন কৃষক জানান, সে প্রতিবছর প্রায় ৫-৬ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করতো। এবছর শ্রমিকের অভাব ও সার-কীটনাশক মূল্য বৃদ্ধির জন্য আমন ধানের চাষ করতে পারেনি। জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ আহমদ জানান, যে সব জমিতে সে আমন ধানের চাষ করতো সেখানে শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানের চাষও করতো। ফলে সে সব জমিতে সহজে আমন ধানের চাষ হতো।

বিগত বোরো মৌসুমে পানি সংকটের কারণে বোরো চাষ করতে না পারায় সেখানে অধিক হারে ঘাস ও কচুরীপানা সৃষ্টি হয়। এতে আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে চাষাবাদের খরচের চেয়ে অন্য খরচ বেশি হওয়ার আশঙ্কায় আমন আবাদ থেকে সে বিরত থাকে। পটিয়া পৌর সদরের শেয়ানপাড়া এলাকার চাষী ইদ্রিস জানান, বাজারে চিকন দানা সার পাওয়া যাচ্ছে না।

মোটা দানার সার দিয়ে সে সবজি চাষ করতে পারছে না। সারের সরবরাহ তেমন নেই। তাই পটিয়া বিলে এবার আমন ধানের চাষ হয়নি।এছাড়াও পটিয়ার ছনহরা ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ কৃষি জমিতে চাষাবাদ হয়নি বলে ছনহরা ইউপি চেয়ারম্যান এড. আবদুর রশিদ দৌলতি জানান।

বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দিন থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পটিয়ায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়। চলতি মৌসুমে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়নি। তবে এ বছর পটিয়া ও কর্ণফুলী এবং পৌরসভা সহ ১২ হাজার ৬শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১ শত ৫০ হেক্টর উপশী ও ৫ শত হেক্টর স্থানীয় জাতের ধানের চাষ হয়েছে।

জিরি ইউনিয়নের মালিয়ারা, আশিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ব্রীজ নির্মাণের কারণে বিশাল অংশে আমন আবাদ হয়নি। বাজার প্রদর্শনী ফরিদ-১, দৌলতপুর, জিরি, মালিয়ারা এলাকায় আউশ মৌসুমে রাজস্ব প্রদর্শনী ২০টি। আমন মৌসুমে ৩০টি প্রদর্শনী হয়েছে। এর মধ্যে ৮ শত ৪০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার দেওয়া হয়েছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares