| |

আজ আইয়ুব বাচ্চুর দাফন ঠিকানা শুধু একশ ভাগই সাড়ে তিন হাত মাটি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 2:53 pm | October 20, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : ঠিকানা শুধু একশ ভাগই সাড়ে তিন হাত মাটি। আইয়ুব বাচ্চু জনপ্রিয়তা পাওয়া গানের অন্যতম গান এটি। তার গাওয়া গানের বাস্তবতার নিরিখে মায়ের কবরের পাশে সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর স্থান করে নিচ্ছে আইয়ুব বাচ্চু। আজ শনিবার বাদে জোহর জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে চট্টগ্রামের চৈতন্য গলির বাইশ মহল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা গ্রামে আইয়ুব বাচ্চু’র গ্রামের বাড়ি। ঐ বাড়ীতে তিনি একটি হাসপাতাল করতে চেয়েছিলেন। তার সে আশা পূর্ণ হলো না। আইয়ুব বাচ্চু’র পিতা সহ পরিবারের সকলেই কওমী আকিদা ভুক্ত। তার বাবা-মা ছিলেন ফরহেজগার মানুষ। তার বাবা ইসহাক এক সময় তাবলীগ জামাতের আমির ছিলেন। আইয়ুব বাচ্চু’র দাদা (পিতামহ) হাজী নুরুজ্জামান সওদাগর ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও খরনা গ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার দাদার নামে রয়েছে মুজাফ্ফরাবাদ নুরুজ্জামান যাত্রামোহন উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী নুরুজ্জামান সওদাগর হাট। তার দাদা খরনা ইউপি ভবন, খরনা ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের খরনা রেল ষ্টেশন প্রতিষ্টাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্টাতা ও জমিদাতা। তার দাদা হাজী নুরুজ্জামান সওদাগরের খরনা গ্রামে ছিল প্রায় অর্ধ শত একর জমি (১০০ বিঘার উপরে)। তার ছিল ৫ পুত্র।

যথাক্রমে মুছা, ইয়াকুব, ইসহাক, ইউসুফ, হারুন। বর্তমানে তার বাবা ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। ৯০ দশকের পর আইয়ুব বাচ্চুর বাবা ইসহাক সহ তাঁর অন্য চাচা, জেটুরা গ্রামের বাড়ির অধিকাংশ জায়গা জমি বিক্রয় করে দেয়। তাই বর্তমানে তাদের গ্রামের বাড়ীতে কোন জায়গা জমি নাই বললেই চলে। পিতা ও পিতামহের জায়গা জমি’র স্বাদ গ্রহন করতে পারেনি আইয়ুব বাচ্চু ও তার অন্য চাচাতো ভাইয়েরা। তাই তিনি অভিমান করে গান লিখেছেন “এক পুরুষে করে ধন, তিন পুরুষে খায়, আর এক পুরুষ এসে দেখে খাওয়ার কিছু নাই”। ৮০ দশকের পর থেকে বাবার সাথে রাগ করে আইয়ুব বাচ্চু চলে যায় ঢাকা।

সেখানে ব্যান্ডের সাথে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে কোন সময় গ্রামের বাড়ীতে আর যায়নি। চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজারের নুরুজ্জামান কলোনীতে আইয়ুব বাচ্চু’র শৈশব কাটে। ঢাকায় যাওয়ার পর থেকে প্রায় সময় মামার বাড়ী মাদারবাড়ীতে, মাঝে মধ্যে দাদার বাড়ী এনায়েত বাজারে যেতেন তিনি। ঢাকায় তার ব্যান্ড দল সোলস নাম পরিবর্তন করে এল আর বি নামকরণের পর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তিনি দেশের বিখ্যাত ব্যান্ড গায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২০০৭ সালে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত টিআইবি আয়োজিত দূর্নীতি বিরোধী সমাবেশে, দূর্নীতিবিরোধী কনসার্টে একক শিল্পী হিসেবে গান করেন আইয়ুব বাচ্চু। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার (অব:) হাসান মাস উদ। গ্রামের বাড়ীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে তাদের বাপ-দাদার বাড়ী ভিটে। বর্তমানে সেখানে একটি সেমিপাকা ঘরে তাদের বাবার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে আবদুল আজীজ পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন। আইয়ুব বাচ্চু’র মৃত্যুর খবরে সারা বাংলাদেশের ন্যায় তার গ্রামের বাড়ী পটিয়াতেও নামে শোকের ছায়া।

তার হৃদয় ছোঁয়া উল্লেখযোগ্য গান গুলোর মধ্যে ছিল ‘এ রূপালী গিটার ফেলে একদিন চলে যাবো বহুদূরে’, ‘আমি বারো মাস’, ‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেব আকাশে’, ‘চলো বদলে যায়’, ‘ফেরারী এ মন আমার’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘সুখের এ পৃথিবীতে’, ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি তাই তোমার কাছে ছুটে আসি’ এ গানগুলো অমরণ হয়ে থাকবে বলে অভিজ্ঞ মহল অভিমত ব্যক্ত করে বলেন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু গাওয়া গান গুলো হৃদয় ছুঁয়েছে। তার মৃত্যুতে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!