| | শুক্রবার, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

ঝূকিপূর্ণে বসবাস আরো ৫ লক্ষাধিক চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে পাহাড়ের দেওয়াল ধসে ৪ জন নিহত

প্রকাশিতঃ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৪, ২০১৮

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামে গত ৩ দিন ভারী বর্ষনে পৃথক দুটি স্থানে পাহাড়ের দেওয়াল ধসে ৪ জন নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার দুপুর দেড়টায় নগরের পাঁচলাইশ থানার রহমান নগর এলাকায় দেয়াল ধসে নুরে আলম নান্টু (৩৫) নামে একজন নিহত হন।

তিনি গাইবান্ধার লাল মিয়ার ছেলে এবং রাত আড়াইটার দিকে নগরের ৯নং ওয়ার্ডের ফিরোজশাহ কলোনির ১ নং ঝিল এলাকায় পাহাড় ধসের পর পৌনে ৫টার দিকে ১ জন এবং ভোরে ২ জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। নিহতরা হলেন- নুরজাহান (৪৫), তার আড়াই বছরের মেয়ে ফয়জুন্নেসা এবং নুরজাহানের মা বিবি জোহরা (৬৫)। তাদের বাড়ি লক্ষীপুর জেলায়। পাঁচলাইশে দুর্ঘটনার বিষয়ে বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনামুল হক জানান, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় বড় একটি গাছ শিকড় ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এতে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা কয়েকটি কাঁচা-পাকা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধসে পড়ে দেয়াল।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর নুরে আলম নান্টু মারা যান বলে জানান চমেক পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া।

ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড় ধসের বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা আকবরশাহ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক লুৎফুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি সরে পাদদেশে থাকা দুইটি টিনশেড কাঁচাঘরের ওপর পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রেজাউল কবির বলেন, পাহাড় ধসে নিখোঁজদের মধ্যে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট। এদিকে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রহমান নগর এলাকায় নিহত নান্টুর মরদেহ চমেক হাসপাতাল থেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিরোজ শাহ এলাকায় নিহত ৩ জনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকেই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের পরিবারের কান্নার আহাজারী আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আসছে। স্থানীয় লোকজনের চোখে জল টলমল করছে। নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ৮০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এ সহায়তা অপ্রতুল্য মনে করেন নগর জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম রেজা।

গত ৩ দিন ভারী বর্ষণ ও ভৈরী আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ে ঝূকিপূর্ণ বসবাসরতদের মাইকিং করে চট্টগ্রাম জেলার প্রশাসন কর্তৃক সড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তা কেউ মানছে না। যার ফলে এ দূর্ঘটনা ঘটছে বলে সচেতন মহল মনে করেণ। এছাড়াও চট্টগ্রাম নগর-উত্তর, দক্ষিণ জেলার আওতাধীন পাহাড়ে বসবাসরত আরো ৫ লক্ষাধিক মানুষ ঝূকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে সূত্রে জানা যায়।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares