| |

খুলনা রূপসায় সরকারী অনুদান ছাড়াই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে চলছে প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় ও পূর্ণবাসন কেন্দ্র

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 11:31 pm | October 14, 2018

আতিয়ার রহমান খুলনা অফিস : খুলনা রূপসায় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পূর্ণবাসন কেন্দ্র নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি উদ্যোগে চালু করেছে ডা: খাঁন মো. শফিকুল ইসলাম। নিজের জমির উপর গড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাদান করানো হচ্ছে।

সরকারি অনুদান বা প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবারের নিকট থেকে আর্থিক অনুদান না নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন এলাকার কয়েকজন যুবক। বিষয়টি জানার পর খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুশের্দী এবিদ্যালয়ে একটি ভবন করে দেবার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

জানা যায়, খুলনার রূপসা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ডা: খাঁন মো. শফিকুল ইসলাম স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ৮ জন শিক্ষীত যুবককে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। সে বর্তমান সরকারের সমাজ কল্যান মন্ত্রাণালয় পরিচালিত রূপসা প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে অডিও মেট্রিশিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন। শফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালে ৫ জন প্রতিবন্ধি শিশুদের নিয়ে তার নিজ এলাকায় গড়ে তোলেন শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়।

বিদ্যালয় করার নিজস্ব জায়গা না থাকায় পৈত্রিক জমির উপর ৭টি (রূম) শ্রেণীতে শুরু হয় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। এখানে শিক্ষা ও চিকিৎসা বঞ্চিত শিশু ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে শিক্ষাদান। চিত্ত বিনোদনসহ নানা কৌশলে শিশুদের লেখা-পড়ায় আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে ব্যতিক্রধর্মী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

ব্যক্তি প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা স্কুলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পাঠদান করাচ্ছেন ৮ জন শিক্ষক। গত তিন বছর ধরে এর কার্যক্রম চললেও সরকারী ভাবে পাওয়া যায়নি সহযোগিতা। ভবনের অভাবে শিক্ষা দান করাতে ব্যহত হচ্ছে। বৈদুতিক পাখার ব্যবস্থা না থাকায় গরমে শিশুরা হাফিয়ে উঠছে। টিনের বেড়া ও ছাউনি থাকার কারনে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন। পাঠ্য-পুস্তকসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ এবং দুপুরে মিড-ডে (খাবার) ব্যবস্থা করা হয়েছে। রূপসা, তেরখাদা ও মোল্লাহাট উপজেলার ১১০ জন প্রতিবন্ধি শিশুদের এখানে পড়াশুনা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের এসব ব্যয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের স্ব-ইচ্ছায় প্রদানকৃত অর্থে চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যার মধ্যে অত্র উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াছুর রহমান বিশেষ নজরে রেখেছে বিদ্যালয়টিকে। তার ব্যক্তি উদ্যোগে শিশুদের দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিত্ত বিনোদনসহ নানা কৌশলে এ স্কুলে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় আগ্রহী করে গড়ে তুলে বছরের প্রথম দিকে ভর্তি করে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্বল্প পরিসরে রূপসা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পূর্ণবাসন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলেও এখন তা বৃহৎ রুপ ধারণ করেছে।

গত তিন বছরে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়মূখী করা হয়েছে। পর্যবেক্ষনে রয়েছে আরো অনেক শিশুদের। কারিগরি প্রশিক্ষন ও সেলাই মেশিনে হস্ত শিল্পের উপর ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। এ স্কুল থেকে ভর্তি করা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা উপকরণ এবং ফ্রি-টিউশন দেয়া হয়। দেয়া হয় স্বাস্থ্যসেবা। এমনকি যেসব শিশুদের জন্ম নিবন্ধন নেই, তাদের জন্ম নিবন্ধন করানো হয় এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত প্রতিবন্ধি শিশু রাজু (১১) জানায়, আমরা অসুস্থ থাকায় পড়াশুনা করতাম না।

এ স্কুলে এখন পড়াশুনা ও চিকিৎসা দেয় আমাদের। শিক্ষার্থী ফাতেমা, বলেন, এখানে আমরা দুপুরে খাবার পাই, লেখাপড়া করতে পারি। বায়জিদ (১০) জানায়, সবাই পড়াশুনা করলেও আমি পড়তে পারতাম না। এখন নিয়মিত পড়াশুনা করতে পারি। স্কুলের আসতে ভাল লাগে। স্থায়ী ভাবে বিদ্যালয়টি সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এলাকার সচেতন ও শিক্ষার্থীদের অভিবাবকরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা: শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের চিকিৎসা করি। আমার স্বপ্ন ছিল আশপাশ উপজেলার প্রতিবন্ধি শিশুদের নিয়ে একটা প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় ও পূর্ণবাসন কেন্দ্র তৈরী করবো। তাই পৈত্রিক সূত্রে যত টুকু জমি পেয়েছে সবটুকু প্রতিবন্ধি শিশুদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছি। সমাজের অসহায় অবহেলিত প্রতিবন্ধি শিশুদের সাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিবন্ধি শিশুদের শিক্ষার মুল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করেছি।
অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা খুবই নি¤œ পরিবারের। তাদের পরিবার অসুস্থ শিশুদের দিকে খেয়াল রাখতে পারে না। এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পর তারা তাদের শিশুদের পড়াশুনা করাতে পারছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধি শিশুরা আমাদের সমাজের বোঝা নয়।

সামাজিক ভাবে তাদেরকে প্রকৃত মানুষের মত গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। সমাজের প্রত্যেকেই তাদের সহযোগিতা করার আহবান জানান। প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবন্ধি শিশুরা ভবিষ্যতে যাতে কাজের জন্য ভোগান্তির শিকার হতে না হয় সে জন্য তাদেরকে বিভিন্ন হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলা হচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাথরুম করা হয়েছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!