| |

বড়াইগ্রামে ১৪ দলের জনসভাকে কেন্দ্র করে হামলা ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলর সহ আহত ১২

প্রকাশিতঃ 4:58 pm | October 11, 2018

নাহিদ হোসেন নাটোর প্রতিনিধি ; নাটোরের বড়াইগ্রামে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের জনসভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামীলীগের কোন্দল বেড়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও গুরুদাসপুর পৌর মেয়র সমর্থকদের সাথে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের এমপি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছে।

সর্বশেষ বুধবার বিকেলে ও রাতে পৃথক তিন স্থানে ১৪ দলের সমম্বয়ক স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের জনসভাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হামলায় আহত হন নগর ইউপি চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন ডালু (৪২), বনপাড়া পৌর কাউন্সিলর ও মহিলা আ’লীগের সভাপতি শরীফুন্নেছা শিরিণ (৪০), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায়হান (২৭), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিল্লুর রহমান জিন্নাহ (৩৪), জোনাইল যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল করিম (৩৫), ওয়ার্ড সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন প্রামাণিক (৪৭), মহিলা আ’লীগ কর্মী জুলেখা বেগম (৩৫), সখিনা বেগম (৫০), সুমি আক্তার (৩২)সহ ১২ নেতা-কর্মী।

আহতরা বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে রেজাউল করিমের অবস্থা গুরুতর। তিনি বনপাড়াস্থ পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, বিকেলে বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৪ দলের সমাবেশে যাওয়ার সময় লক্ষীকোল এলাকায় বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী সমর্থিত মিছিলের মধ্য দিয়ে এমপি কুদ্দুস অনুসারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হয় ৪/৫ জন।

এসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পৌর গেটে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয় এমপি কুদ্দুস অনুসারী ইউপি চেয়ারম্যান ডালু, ছাত্রলীগ নেতা মানিক ও জিন্নাহ এবং ডা. সিদ্দিকুর অনুসারী পৌর কাউন্সিলর শিরিণ ও তিন মহিলা আ’লীগ কর্মী। অপরদিকে রাত ১০টার দিকে জোনাইল চৌমহান বাজারে ডা. সিদ্দিকুরের মিছিলে যোগ দেয়ার অপরাধে এমপি কুদ্দুসের অনুসারীরা সিদ্দিক সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এ সময় আহত হয় যুবলীগ নেতা রবিউল, আ’লীগ নেতা আলাউদ্দিন, কর্মী গোলাম রাব্বানী ও মোহাব্বত আলী।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস জানান, থানায় এ ব্যাপারে এখন কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইন মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের স্বাস্থ্য-জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ১৪ দলের সমাবেশের আগের দিন আমার সমর্থনে সকল ফেস্টুন প্রতিপক্ষরা ভেঙ্গে ফেলেছে। ৫১ টি বাস যোগে ২৫ হাজারেরও বেশী মানুষ নিয়ে আমি সমাবেশে প্রবেশ করতে চাইলে প্রধান গেটে বাধাপ্রাপ্ত হই। আর তখন কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হলে সমাবেশ সফল করার লক্ষে আমার নেতৃত্বে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু রাতে আবারও পরিকল্পিতভাবে আমার ফেস্টুন ভেঙ্গে ফেলা, নেতা-কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোটা উচিত হয়নি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস জানান, লাখো মানুষের ঢল দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা সমাবেশ পন্ড করার চেষ্টা করায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। আমার জানা মতে আমার সমর্থকরা কারো উপর হামলা করেনি। বরং হামলার শিকার হয়েছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!