| |

চট্টগ্রামে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলওয়ের গতি ফিরে আসবে

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 10:41 pm | October 10, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী ॥ চট্টগ্রাম রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার নানা রকম প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে র্শীষে থাকবে রেলওয়ে।

বিষেশ করে, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, ঝাওতলা, ষোলশহর, জানালী হাট, গোমদন্ডী, বেঙ্গুরা, ধলঘাট, খানমোহনা, পটিয়া, চক্রশালা, খরনা, কাঞ্চননগর, হাশিমপুর, দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশনে যাত্রী যাতায়তের নিরিবিচ্ছিন্ন সুযোগ তৈরী হবে। অপরদিকে সরকারী উদ্যেগ নেওয়া প্রকল্পে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ পর্যন্ত রেলওয়ে যোগাযোগের জমি অধিগ্রহন সম্পন্ন করে কাজ ও আরম্ভ হয়েছে। যার ফলে, রেলওয়রে যাত্রী সেবার মান দ্রুত গতি ফিরে আসবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৪ হাজার ৮৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭৫ টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ৯০ হাজার ৯১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৩ টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২৯৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং ১১২৩ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার রেলপথ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া অনেকগুলো নতুন রেলপথের সমীক্ষা শেষ হয়েছে।

এডবিরি অর্থায়নে ২০ বছর মেয়াদী (২০১০-২০৩০) রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যানে ২৩৩৯.৪৪ বিলিয়ন টাকা ব্যয়ে আরও ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে।

রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন রেল লাইন নির্মাণ, পুরাতন রেল লাইন সংস্কার, লোকোমোটিভ, যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন সংগ্রহ এবং পুর্নবাসন, মিটারগেজ লাইন ডুয়েল গেজে রূপান্তর, ট্রেন সার্ভিস চালুতে এসেছে সাফল্য।
বাংলাদেশ রেলওয়েকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষে র্বতমান সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বরে পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলওয়েতে আমূল পরর্বিতন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রেলওয়েতে প্রতিদিনি ১৩২টি মেইল এক্সপ্রেস ও ডেমু ট্রেন, ১২৬টি লোকাল ট্রেন, ৮৮টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ৪টি আন্তঃদেশীয় ট্রেনসহ ৩৫০টি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ১১৬টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। আরো প্রায় ৭শ’ কোচ ও ইঞ্জিন আমদানির প্রকল্প রয়েছে।

নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় রেলওয়ের যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ই-টিকেটিং এবং অনলাইন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের টিকেট কেনা সহজ পদ্ধতি করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে ট্রেন ও ট্রেনের যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে রেল স্টেশনগুলোতে স্ক্যানার মেশিন বসানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া দেশে রেলওয়ে প্রকৌশল সংক্রান্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের সুপারিশও করেছে ওই কমিটি। রেলপথ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম রাউজানের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বলনে, রেলওয়ে সেক্টর র্দীঘদিন অবহেলিত ছিল। বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে গণপরিবহণ হিসেবে রেলওয়ের গুরুত্ব আছে।

তিনি বলনে, বাংলাদেশ রেলওয়েকে শক্তিশালী পরিবহণ নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে গতি আসবে রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায়।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!