| |

সৌদি নাগরিক খালাফ হত্যা: সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রকাশিতঃ 8:12 pm | October 07, 2018

ঢাকার সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সাইফুলের করা আবেদন খারিজ করে দেন। এ রায়ের ফলে এ মামলার সব আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।

সংবিধান অনুযায়ী, সাইফুল এখন কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। সেই আবেদনও খারিজ হয়ে গেলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ঘটনার সাড়ে চার মাস পর ‘ছিনতাইকারী’ পরিচয়ে সাইফুলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তাতে গ্রেপ্তার চারজনের সঙ্গে সেলিম চৌধুরী নামে পলাতক আরেকজনকে আসামি করা হয়।

২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন মামলার রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। কিন্তু আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ে সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। বাকি চার আসামির মধ্যে আল আমীন, আকবর আলী ও রফিকুল ইসলামের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পলাতক সেলিম চৌধুরী খালাস পান।

সেলিমের বিরুদ্ধে তেমন কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে তখন জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর আপিল খারিজ করে দেন। ওই রায়ের ফলে সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন সাজার আদেশ বহাল থাকে। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে চলতি বছর সাইফুল আবেদন করেন। গত বৃহস্পতিবার যার শুনানি শেষ হয়।

রিভিউ আবেদনের শুনানিতে সাইফুলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আখতার হামিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সাইফুল বাগেরহাট জেলার শরণখোলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!