| | বুধবার, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

আরও ৯টি খাত যুক্ত করে নতুন পরিবেশ নীতি

প্রকাশিতঃ ১২:৫১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৪, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার : আরও নয়টি খাত যুক্ত করে নতুন ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি-২০১৮’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘১৯৯২ সালে প্রথম জাতীয় পরিবেশ নীতি প্রণয়ন করা হয়। ২৬ বছরে পরিবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক অগ্রগতি আছে। আমরা নিজস্ব ট্রাস্ট ফান্ড করেছি, সেখানে অনেক ইনভেস্টমেন্ট করেছি। পৃথিবীর অনেক দেশই এটা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘এই নীতিতে বড় একটা পরিবর্তন হল আগে এতে ১৫টি খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল, আরও ৯টি খাত যুক্ত করে ২৪টি খাত করা হয়েছে। ২৪টি খাতের বিস্তারিত এখানে দেয়া আছে।’

শফিউল আলম বলেন, ‘আগে ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ভারসম্য বিধান ও সার্বিক উন্নয়ন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে কমাতে অভিযোজন কার্যক্রম, দেশে স্বল্প কার্বন নিঃসরণ প্রযুক্তির আহরণ ও প্রচলনকে উৎসাহিত করা, পরিবেশের সব ধরনের দূষণ ও অবক্ষয়মূলক কার্যক্রম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ, সব ক্ষেত্রে পরিবেশ সম্মত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।’

‘সব প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশসম্মত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; বিশ্ব পরিবেশ উন্নয়নে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সহযোগিতা করা; পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ শিক্ষা, সক্ষমতা, জনসচেতনতা ও জনমত গড়ে তোলা; পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ; টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশ নীতি ও কৌশলকে মূল ধারায় নিয়ে আসা; জলবায়ু পরিবর্তনসহ সব ধরণের পরিবেশ ও পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা; প্রয়োজনীয় সব ক্ষেত্রে এনভাইয়রমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং স্ট্র্যাটেজিক এনভাইয়রমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট সম্পাদন নিশ্চিতকরণ।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নীতিমালা আরও রয়েছে- বিদেশি ও আগ্রাসী জাতের প্রাণি ও উদ্ভিদের কৃত্রিম অনুপ্রবেশ নিরুৎসাহিত করা, প্রয়োজনে যথেষ্ট গবেষণার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিবেশ সংক্রান্ত সব আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সাথে যথাসম্ভব সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকা, পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ, পরিবেশ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা যথাযথ প্রতিপালন।’

এগুলোকে আরও বিস্তৃত করে ২৪টি করা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘ভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ খাদ্য ও সুপেয় পানি, কৃষি জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য সেবা, আবাসন, গৃহায়ণ ও নগরায়ন, শিক্ষা ও জনসচেতনতা, বন্য ও বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য, পাহাড় ও প্রতিবেশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, উপকূলীয় সামুদ্রিক প্রতিবেশ, পরিবেশ বান্ধব পর্যটন, শিল্প উন্নয়ন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, যোগাযোগ ও পরিবহন, জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরির্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি, অভিযোজন।’

‘এছাড়া পরিবেশ নীতিমালায় আন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- দুযোগ ব্যবস্থাপনা; বিজ্ঞান, গবেষণা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ; পরিবেশ বান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন ও ভোগ’ বলেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অর্থাৎ এমন কোন সেক্টর বাকি নেই যেটা পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সবগুলোকেই নিয়ে আসা হয়েছে।’

কাস্টমস আইন চূড়ান্ত অনুমোদন

‘কাস্টমস আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৭০ সালের আইন। কাস্টমস আঙ্গিনায় অনেক পরিবর্তন হওয়ায় এটাকে হালনাগাদ করা হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগের আইনকে বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে। তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।’

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও জানান শফিউল আলম।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares