| |

সিনহার বিরুদ্ধে হুদার দুর্নীতি মামলার এজাহার দুদকে

প্রকাশিতঃ 8:27 pm | October 02, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার দায়ের করা দুর্নীতির মামলার এজাহার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা সিএমএম আদালতের দুদকের জেনারেল রেকর্ডিং (জিআর) শাখা থেকে দুদকের সচিব বরাবরে এই এজাহার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের হওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালতের শাহবাগ থানার জিআর শাখায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে মামলাটি দুর্নীতির অভিযোগের হওয়ায় দুদক জিআর এ পাঠানো হয়।

শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সাবেক বিএনপি নেতা বর্তমানে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। মামলার এজাহারে তিনি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করার অভিযোগ করেন।

মামলায় বলা হয়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। যার মধ্যে দুর্নীতির একটি মামলা ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ হাইকোর্ট বাতিল করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ৭ জুন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দুদকের লিভ টু আপিল খারিজ করেন। এমনই পরিস্থিতিতে একটি পত্রিকায় ‘জামিন ছাড়াই বছর পার নাজমুল হুদা ও স্ত্রীর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে দুদকের লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আপিল বিভাগে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, দুদকের লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়েছে।

এরপর নাজমুল হুদা বুঝতে পারেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা তার জমাদারের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ডেকে নিয়ে যান এবং বলেন, একজন সংসদ সদস্য তাকে নগদ দুই কোটি টাকা দিতে চেয়েছেন, যদি একটি মামলায় নাজমুল হুদার সাজা নিশ্চিত করেন। যাতে করে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হন। দুই কোটি টাকা এবং আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার হুদার প্রদত্ত আড়াই কোটি টাকার একটি ব্যাংক গ্যারান্টির রিলিজ আবেদনের বিপরীতে ব্যাংক গ্যারান্টির এক কোটি ২৫ লাখ টাকা দিলে তিনি ও তার স্ত্রীর মামলাগুলোয় মুক্তির ব্যবস্থা নেবেন। টাকা না দিলে ব্যাংক গ্যারান্টিতে উল্লিখিত হাইকোর্টের মামলার পুনঃশুনানি করবেন এবং ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজের পথ বন্ধ করে দেবেন। এই প্রস্তাবে তিনি সম্মত না হওয়ায় রায় পাল্টে দিয়েছেন।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যখন প্রধান বিচারপতি তখন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা হয়। আর এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আইন, শাসন ব্যবস্থা, সংসদ নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত বছরের ১৩ অক্টোবর এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশে যান সিনহা। ১০ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন তিনি সিঙ্গাপুর দূতাবাস থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

সম্প্রতি সিনহা আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যেখানে তিনি দাবি করেন, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে ভয় দেখিয়ে।

সিনহা বিদেশ যাওয়ার পরদিনই সুপ্রিমকোর্ট থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বিদেশে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ আনা হয়। আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতি সিনহাকে এসব অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে ওই বিচারকরা তার সঙ্গে এজলাসে বসতে রাজি হননি।

সিনহা অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যদিও তাকে চার কোটি টাকা দেয়ার বিষয়ে দুইজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares