| | মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

খুবিতে জালিয়াতি, স্নাতকোত্তর শেষের আগেই সার্টিফিকেট

প্রকাশিতঃ ৭:৩০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

আতিয়ার রহমান খুলনা অফিস ; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) স্নাতকোত্তর কোর্স শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল প্রকাশ করে দুই শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধভাবে অংশগ্রহণে তাদেরকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে কোর্সের মেয়াদ (সর্বনিম্ন ১৮ মাস) শেষ হওয়ার পূর্বেই তড়িঘড়ি করে থিসিসের ডিফেন্স সম্পূর্ন করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী দুইজন হলেন-খুবির জীব বিজ্ঞান স্কুলের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের মাস্টার্স ১৭ ব্যাচের এলিজা সুলতানা এবং আফরোজা সুলতানা সোনিয়া। তাদের স্টুডেন্ট আইডি যথাক্রমে এমএস ১৭১০২১ ও এমএস ১৭১০০৯। তারা উভয়ে ০১.০৭.২০১৭ ইং তারিখে ৩টি টার্মে সংযুক্ত ১৮ মাস মেয়াদী স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হন। কিন্তু, তারা সর্বনিম্ন ১৮ মাসের এই স্নাতকোত্তর ডিগ্রী (যা আগামী ৩১শে ডিসেম্বর,২০১৮ ইং তারিখে ১৮ মাস পূর্ণ হবে) সম্পূর্ন না করে মাত্র ১৪ মাস ১৬ দিনের মধ্যে শেষ করে ফলাফল প্রাপ্ত হন যা নিয়মবহির্ভূত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও আদর্শের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের একাডেমিক জালিয়াতির বিরদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের বরাবর ওই ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এর ইনভাইরনমেন্টাল সাইন্স ডিসিপ্লিনের মাস্টার্স প্রোগ্রাম সম্পর্কিত ৩ নং ধারার উপধারা ৩.১ এবং ৩.২ (বি) তে বর্ণিত আছে যে, মাস্টার্স প্রোগ্রাম অবশ্যই ৩ টার্মে অন্তর্ভুক্ত হবে যার প্রতি টার্মের মেয়াদ অবশ্যই ৬ মাস হবে।
অনুসন্ধানীতে জানা যায়, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের মাস্টার্স ১৭ ব্যাচের অন্য কোন শিক্ষার্থীকে ফলাফল না দিয়ে অতি গোপানে ১৭.০৯.২০১৮ ইং তারিখে এলিজা সুলতানা এবং আফরোজা সুলতানা সোনিয়ার ফল প্রকাশিত হয় এবং তার একদিন পর ১৮.০৯.২০১৮ ইং তারিখে ডিসিপ্লিনের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় যা সম্পূর্ন উদ্দেশ্যমূলক ।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধভাবে অংশগ্রহণে তাদেরকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে কোর্সের মেয়াদ (সর্বনিম্ন ১৮ মাস) শেষ হওয়ার পূর্বেই তড়িঘড়ি করে থিসিসের ডিফেন্স সম্পূর্ন করে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার ঠিক আগের দিন নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে উক্ত দুইজন ছাত্রীর ফল প্রকাশ করা হয় যা সম্পূর্ন অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহার। তারা দুজনেই ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ডঃ সালমা বেগমের থিসিস স্টুডেন্ট। যার কারণে অভিযোগের তীর তার দিকেই উঠেছে।

এলিজা সুলতানা অনার্সে সিজিপিএ ৩.৫৫ পেয়ে ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করে এবং আফরোজা সুলতানা সোনিয়া সিজিপিএ ৩.৫২ পেয়ে ৭ম স্থান অধিকার করে এবং স্নাকোত্তর পর্বে তাদের ফলাফল যথাক্রমে সিজিপিএ ৩.৭৬ ও ৩.৫৮। এমতাবস্থায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমএস (ইএস ডিসিপ্লিনের) ডিগ্রীর অর্ডিন্যান্স বর্হিভূতভাবে দুই ছাত্রীর সর্বনিম্ন সময় ১৮ মাস সম্পূর্ন করার পূর্বেই থিসিস জমা দিয়ে রেজাল্ট প্রকাশ করা বড় ধরণের একাডেমিক জালিয়াতি। এতে করে, এ ধরণের জালিয়াতিতে যে কেউ উৎসাহিত হবেন এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি উক্ত ডিসিপ্লিনের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সব সময় আমাদের বিশ্বদ্যালয়কে নিয়ে গর্ব করে থাকি। আমাদের চিন্তা করতেই কষ্ট হচ্ছে যে আমাদের ডিসিপ্লিনে এ রকম একটা একাডেমিক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এতে করে প্রকৃত মেধাবীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

এ বিষয়ে ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ডঃ সালমা বেগম বলেন, দেখুন আমাদের মাস্টার্সের যে অধ্যাদেশটি আছে সেটা আপনি মনে হয় পড়েন নি। আপনি একটু ভাল করে পড়েন, পড়ে আমার সাথে কথা বলেন। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে যারা একাডেমিক সেকশনের রেজাল্ট করে তাদের সথে কথা বলেন। তার পর আমার সাথে কথা বলেন। আমি এ ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলব না। কারন হচ্ছে মাস্টার্সের যে অধ্যাদেশ আছে, যে নিয়ম কানুন আছে, সে নিয়ম কানুনের মধ্যে এটা না গেলে কন্টোলার সেকশন থেকেও এ রেজাল্ট করত না। এটা মাস্টার্সের নিয়ম অনুযায়ি হয়েছে। একাডেমিক সেকশন তার কমপ্লিট আছে এবং রেজিস্ট্রেশন সে থার্ড সেমিস্টারে করেছে। এসময় সে যদি তার রিসার্সের কাজ কমপ্লিট করতে পারে , সে যদি তার কোর্স কমপ্লিট করতে পারে এবং সে যদি তার কমিটি বোর্ডকে মাস্টর্সের যে ডিফেন্স রয়েছে তাতে এক্সসিলেন্ট পারফনেন্স শো করতে পেরেছে।

কাজেই যদি এমন হত তাদের মাস্টার্সের থিসিস রয়েছে তা তারা সম্পন্ন করতে পারে নি। এটা সম্পূর্ণ ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেরশের নিয়ম কানুনের ভিতর থেকে হয়েছে।

মাত্র দুই জনকে মাস্টার্সের রেজাল্ট দেওয়া হল কে এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, দুই জন চেয়েছে। দুই জন বলেছে তাদের কমপ্লিট হয়ে গেছে। অন্যরা যদি আসতো আমি অন্যদের টাও দেখতাম। আমি তো সবার কাছে চাই নি। তারা নিজেরা এসে বলেছে তাদের টা কমপ্লিট হয়ে গেছে। আমি তাদের কে বলছি আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। ইউনিভার্সিটিতে যারা সেকশন নিয়ে ড্রিল করে তার তাদের কে ও বলেছে । তারা তাদের কে এলাও করেছে । তারা তাদের রেজাল্ট পাবলিশ করেছে। এখানে আমার নিজস্ব কিছু করনীয় নেই। এটায় আমার নিজস্ব কোন হাত ও নেয়। এটা কমপ্লিটলি প্রোটকলের মধ্যে থেকেই হয়েছে। এখানে আমার কোন ইনটেনশন ও নাই। আমার কোন ইনভল্ব নেয়।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের কোথাও সময় শেষ হওয়ার আগে ফলাফল বা সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিগত দিনেও এধরণের কোন ঘটনা নেই।

খুবির ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে আছে। স্কুল সংশ্লিষ্ট ডীনের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, কোর্স শেষের আগেই সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ করে ওই ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে একটি আবেদনও করেছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares