| |

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে টাকা আদায় চক্রের ২ জন গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ 2:05 pm | September 26, 2018

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী, জলদস্যু, অস্ত্র ব্যবসায়ী, ডাকাত, কালোবাজারী, মানব পাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, জঙ্গী, প্রতারনাকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বজায় রেখেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, খুলনা মহানগরের খুলনা সদর থানাধীন নিরালা আবাসিক এলাকার কতিপয় ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বা কৌশলে তাদের কে নিয়ে মহিলা দ্বারা আপত্তিকর ছবি উত্তোলন করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এইরুপ সংবাদের ভিত্তিতে একটি চৌকস আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নান, কমান্ডার, সিপিসি স্পেশাল এর নেতৃত্বে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করিলে নি¤œলিখিত প্রতারকদের গ্রেফতার করেন।

আসামীদ্বয়কে গ্রেফতার কর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গত-০৪ বছর পূর্বে ভিকটিম ওয়াজেদ আলী নামক ব্যাক্তিকে উক্ত আসামীরা আলী ক্লাবের মোড়ে একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলা রুমের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজের কথা বলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি মেয়েকে দিয়ে নানা রকম আপত্তিকর ছবি ও প্রায় ২০ মিনিটের ভিডিও তুলে অপরাধীচক্র তাদের কাছে রাখে এবং উক্ত আসামীরা ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও গুলো বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছাড়বে বলিয়া টাকা দাবী করে এবং উক্ত ওয়াজেদ আলীর কাছ থাকা চেক বই জোড় পূবর্ক স্বাক্ষর করিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী কাজী আব্দুল মুনিম, পিতা মৃত-কাজী আব্দুর রউফ, সাং-করিম নগর, ছোট বয়রা, থানা-সোনাডাঙ্গা, কেএমপি, খুলনা এর মাধ্যমে তাৎক্ষনিক ভাবে ৮,০০০০০/- (আট লক্ষ) টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেয়।

পরে উক্ত ভিকটিমের ছেলে মোঃ তৌহিদুজ্জামান সুমনের নিকট থেকে ২,০০০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা আদায় করে । এছাড়া ভিকটিম ওয়াজেদ আলীর স্ত্রীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে আরো ২০,০০০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা আদায় করে অর্থ্যাৎ উক্ত পরিবারটিকে ব্ল্যাক মেইল করে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০,০০০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকা আদায় করে।

উক্ত আসামীরা ৩০,০০০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকা নেওয়ার পর কয়েক বছর চুপ থাকার পর গত-১৮/০৯/১৮ তারিখে মোবাইল নং-০১৭৭২-৭৮৭৫৩৯ ও ০১৬৭০-৪৬১৫৯৭ নম্বর থেকে পুনরায় ৫০,০০০/- (পঁঞ্চাশ হাজার) টাকা দাবী যোগাযোগ করে। পরিবারটি বার বার এতো টাকা দিতে পারবে না বলে বিধায় বিষয়টি স্থায়ী ভাবে সমাধানের কথা বলিলে রেশমা নামক একজন আসামী স্থায়ীভাবে বিষয়টি সমাধান করার জন্য আরো ২০,০০০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা দাবী করে বিকাশ নং-০১৭৩২-১৪৪১৬০ প্রদান করে। এরপর ১৮/০৯/১৮ তারিখ রাত্র অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় আমরা মোবাইল ০১৭৩২-১৪৪১৬০ নম্বরে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা করে দুইবার মোট ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা প্রেরণ করে। এর পরেও আসামীরা মোবাইল ০১৬৭০-৪৬১৫৯৭ ও ০১৭৭২-৭৮৭৫৩৯ নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক দাবীর বাঁকি ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা দাবী করতে থাকে।

এছাড়াও আসামীরা ভিকটিমের পুত্রবধু শ্রাবনীর ফেইস বুকের মাধ্যমে অশালীন ভাষা এবং আপত্তিকর স্টীল ছবি আপলোড দিয়ে ভিডিও ইউটিউবে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। ফলে ভিকটিমের পরিবার বিষয় সম্পর্কে খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করে। যাহার নং-১২৪০, তারিখ-২০/০৯/১৮ এবং উক্ত ডায়েরীর কপি সহ র‌্যাব-৬ খুলনার নিকট একটি অভিযোগ দাখিল করে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা র‌্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে তথ্য ও প্রযুক্তি ও বিকাশ অথরিটির সহায়তায় বিষয়টি যাচাই করতে থাকি এবং এক পর্যায়ে আসামী ০১। মোসাঃ তানজিলা হাসান ঝুমা (২৪), স্বামী-কাজী আব্দুল মুনিম, সাং-করিম নগর, ছোট বয়রা, থানা-সোনাডাঙ্গা, কেএমপি, খুলনা। ০২। কাজী আব্দুল মুনিম, পিতা মৃত-কাজী আব্দুর রউফ, সাং-করিম নগর, ছোট বয়রা, থানা-সোনাডাঙ্গা, কেএমপি, খুলনা গ্রেফতার করি। আসামীদের তাৎক্ষনিক দাবীকৃত বাকি ৩০,০০০/- টাকার মধ্যে আসামীদের ২০/০৯/১৮ তারিখে মোবাইল নং-০১৭২১১৩১৫৯৩ -তে ১২২৪০/- (বার হাজার দুইশত চল্লিশ) টাকা প্রদান ভিকটিম পরিবার প্রদান করে এবং মোবাইল নং-০১৭৩৪৯৪৩০৯৭ নম্বরে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা প্রেরণ করে।

উক্ত মোবাইল নম্বর গুলি আসামী মোসাঃ তানজিলা হাসান ঝুমার নম্বর বলিয়া জানা যায়। এছাড়া আসামী ঝুমার মোবাইল নম্বর ০১৭২১১৩১৫৯৩ -তে প্রেরিত ১২২৪০/- (বার হাজার দুইশত চল্লিশ) টাকা হইতে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা তাহার অন্য একটি মোবাইল নম্বরে ০৭৯১৬৮৬৬৬৮ বিকাশ একাউন্টে ট্রাংজেকশন হয়; যাহা আসামী ঝুমার নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত বলে জানা যায়। এছাড়া আসামী ঝুমার মোবাইল ০১৭৩৪৯৪৩০৯৭ নম্বর থেকে প্রেরণকৃত ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা হইতে ৯০০০/- (নয় হাজার) টাকা মোবাইল ০১৭৫৫৯০০০০৭ এ প্রেরন করে। যাহা ১নং আসামী মোসাঃ তানজিলা হাসান ঝুমার নামে রেজিস্টেশন আছে বলিয়া জানা যায়।

উক্ত মোবাইল নম্বর হইতে মোবাইল নং ০১৭৯১৭৪১৫৮৫ তে ৩৫০০/- (তিন হাজার পাঁচশত) টাকা প্রেরণ করা হয় এবং উক্ত মোবাইল নম্বরটি আসামী ঝুমার ফুফুর নামে রেজিস্ট্রেশন আছে বলিয়া জানা যায়। মোবাইল নম্বর ০১৭৫৫-৯০০০০৭ হইতে মোবাইল ০১৭৯১৬৮৬৬৬৮ নম্বরে ১২৮৫/- (এক হাজার দুইশত পঁচাশি) টাকা প্রদান করে বলিয়া জানা যায়। যাহার রেজিস্টেশন আসামী ঝুমার নামে বলিয়া জানা যায়।

আসামীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে বাদী ও বাদীর পরিবারবর্গদেরকে ফেইস বুকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছাড়ার হুমকি প্রদান করে এবং কিছু ছবি ফেইস বুকে ছেড়ে নানাবিধ ভয়ভীতি মূলক কথা ফেসবুকে জানায় ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ৩০,৪২০০০/- (ত্রিশ লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার) টাকা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ী সমস্যা সমাধানের নামে আরো ২০,০০০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বর্ণিত ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!