| | মঙ্গলবার, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

জনবল সংকটে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগে ৪৪টি স্টেশন বন্ধ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার : জনবল সংকটের কারণে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগে ৪৪টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এই বিভাগে স্টেশন মাষ্টার ও পয়েন্টস্ ম্যানের ২৭০ পদ শূন্য। স্টেশন বন্ধ করে দেয়ায় ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ পদ্বতিতে পাকশী বিভাগে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকারণে ট্রেন চলাচলে সঠিক সময়সুচি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় বিপর্যয় হচ্ছে। এতে যেমন যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে, তেমনি নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনগুলো গন্তব্যস্থলে পৌঁছেতে পারছে না।

পাকশী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন হতে পাকশী বিভাগে স্টেশন মাষ্টার ও পয়েন্টস্ ম্যানের পদ শুন্য থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগদানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।

জানা গেছে, পাকশী বিভাগে অধীনে ১১৩টি অপারেটিং স্টেশন রয়েছে। স্টেশন মাষ্টার ও পয়েন্টসম্যানের পদ শুন্য হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ৪৪টি স্টেশন ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। ৬৯টি স্টেশন চালু রয়েছে । চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাষ্টার ছিল ৪৫ জন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মার্চ মাস হতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। স্টেশন মাষ্টারের পদ বেশী শুণ্য রয়েছে।

পাকশী বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই বিভাগে বিভিন্ন গ্রেডে স্টেশন মাষ্টারের মঞ্জুরীকৃত পদ ৩৬২ জন। মঞ্জুরী পদের অনুকূলে ১৩৭ জন স্টেশন মাষ্টারের পদ শুন্য রয়েছে। কর্মরত রয়েছেন ২২৫ জন। পয়েন্টস্ম্যানের মঞ্জুরীকৃত পদ ৪৬৩ জন। শুন্য ১৩৩টি আর কর্মরত রয়েছেন ৩৩০ জন। শুন্য পদে নতুন নিয়োগ না থাকার পাশাপাশি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় জনবল সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ট্রেন চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন মাষ্টার ও পয়েন্টসম্যান পদ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দুটিতে জনবল সংকটের কারণে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌছাতে পারছে না। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে যাত্রীবাহী সকল ট্রেনের সময়সূচিতে বিপর্যয় তীব্র আকার ধারণ করে। এক স্টেশন হতে আরেক স্টেশনে না পৌঁছানো পর্যন্ত ট্রেন ছাড়তে পারে না।

‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ পদ্বতিতে পাকশী বিভাগে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ পদ্ধতি হলো, একটি ট্রেন যখন কোন স্টেশন ত্যাগ করে, তখন সেটি পরবর্তী স্টেশনে না পৌঁছানো পর্যন্ত ওই লাইনে আর কোন ট্রেন চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বন্ধ স্টেশন অতিক্রম করার জন্য রেললাইন অবরোধ করে রাখা হয়। পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছালে লাইন অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, অবসরে যাওয়ার কারণে গত জানুয়ারীতে সাহাগোলা ও রাণীনগর স্টেশন বন্ধ হয়। স্টেশন দুটি বন্ধ ঘোষণা করায় বর্তমানে আত্রাই ও সান্তাহার রেল স্টেশনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। একইভাবে বিভাগীয় সদর দপ্তর পাকশী স্টেশনেটিও জনবল সংকটের কারণে অপারেশনাল কাজ বন্ধ রয়েছে। গত বছরের ১৬ মার্চ স্টেশনটি বন্ধ করা হয়। পাকশী স্টেশন বন্ধ থাকায় ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারার সাথে সমন্বয় করে সকল ট্রেন চলাচল করছে।

পাকশী বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শুন্যপদে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় ট্রেন পরিচালনায় কিছু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পাকশী বিভাগে জনবল নিয়োগের প্রস্তাব রেলভবনে পাঠানো হয়েছে। তবে চুক্তিভিত্তিক ৬৮ স্টেশন মাষ্টার ও ৩০ জন পয়েন্টসম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া জরুরীভাবে শুরু হয়েছে। মঞ্জুরীকৃত পদ অনুয়ায়ী লোকবল নিয়োগ করা হলে প্রতিটি ট্রেন সময়সূচি অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে এবং যাত্রী দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares