| |

২১ আগস্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য হতে পারে কাল

প্রকাশিতঃ 7:42 pm | September 17, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা পৃথক মামলার রায় ও আদেশের তারিখ কাল মঙ্গলবার ধার্য হতে পারে।

আজ সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ কাজল।

এ মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসলি সৈয়দ রেজাউর রহমান।

এরপর পাঁচজন আসামির পক্ষে আইনজীবী মাঈনুদ্দিন আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ করেন। অপর আসামিদের পক্ষে আইনি পয়েন্টে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনি পয়েন্টের আলোকে সামগ্রিক যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। কাল আসামিপক্ষে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত হবে বলে জানান অ্যাডভোকেট শাহজাহান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ কাজল সাংবা‌দিক‌দের জানান, আসামিপক্ষে পেশ করা আইনি পয়েন্টের আলোকে কাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষে শেষবারের মতো তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও যুক্তি দেবেন। কাল মামলার বিচারকার্য শেষ হবে এবং রায় ও আদেশের দিন ধার্য হবে।

রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে বিচার চলছে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা পৃথক কয়েকটি মামলার।

আইনি পয়েন্টে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি পেশের সময় সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংগঠনে হাওয়া ভবনসহ ১০টি ষড়যন্ত্রের স্থানের নাম উল্লেখ করেন। ওই স্থানগুলোতে বসেই ২১ আগস্ট হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ছক করা হয় বলে তিনি যুক্তি দেন।

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ২১ আগস্ট হামলায় ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে অবিস্ফোরিত অবস্থায় ৪টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হলেও আদালতের অনুমতি ছাড়াই সেগুলো ধ্বংস করা হয়। তিনি হেয়ারস্ এভিডেন্স বিষয়ে রেফারেন্স পেশ করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্বলিত ২৫টি পত্রিকা ফিরিস্ত করে আদালতে দাখিল করেন তিনি।

এ মামলায় ৮ আসামি জামিনে রয়েছেন উল্লেখ করে প্রধান কৌঁসলি মামলার রায় ও আদেশের আগ পর্যন্ত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন দাখিল করেন। মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ- এ দাবি করে আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানান তিনি।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষে তিন কার্যদিবস আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল, বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ্ ভূঁইয়া ও আকরাম উদ্দিন শ্যামল আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ করেন।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফারহানা রেজা, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত জিহাদ, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ।

২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে তিনজন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এর মধ্যে ১৮ জন পলাতক। অন্য আসামিদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা জামিনে আছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!