| | বৃহস্পতিবার, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

রাণীনগরে আমন ধানে পাতা মোড়া রোগের আক্রমন

প্রকাশিতঃ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার : নওগাঁর রাণীনগরে আমন ধানে পাতা মোড়া (বিএলবি) রোগে শতশত বিঘা জমির ধান মরে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শেও রক্ষা করা যাচ্ছে না ধান পাতা মরা রোগ থেকে। এতে দিশেহারা হয়ে গেছেন কৃষকরা। ক্ষতিরহাত থেকে রক্ষা পেতে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ ও নির্দেশণা চেয়েছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস চলতি মৌসুমে রাণীনগর উপজেলায় ১৫ হাজার ৪শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। ধানের মধ্যে রয়েছে বিনা সেভেন, বিআর-৪৯, বিআর-৫১, বিআর-৫২ ও আতবসহ বিভিন্ন প্রজাতের ধান। দিন পনেরো আগে হঠাৎ করে রাণীনগর, পারইল, কালীগ্রাম, বড়গাছা ও একডালা ইউনিয়নে আমন ধান গাছের পাতা হলুদ হওয়া অর্থাৎ পাতা মোড়া (বিএলবি) রোগ দেখা দেয়। পাতা হলুদ হওয়া দেখা দেয়ার ৫ দিন থেকে ৮ দিনের মধ্যে জমির সমস্ত ধান মরে যাচ্ছে। প্রতি দিনই নতুন নতুন জমি এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ধানগুলোর মধ্যে স্বর্ণা, বিআর-৪৯ এবং কাটারি ভোগ জাতের। কৃষকরা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কিটনাশক বিক্রেতাদের থেকে পরামর্শ নিয়ে রক্ষা করতে পারছেন ধানের জমি।

উপজেলার কৃষকদের আয়ের উৎস্যই ধান থেকে। ধানের টাকা দিয়েই সংসারের সমস্ত খরচ করে থাকেন। সেই ধান পাতা মোড়া রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে দু:শ্চিন্তাই রয়েছেন। রাণীনগরে আমন ধানের পাতা হলুদবর্ণ হয়ে ধান মরে যাওয়ায় ইত্যে মধ্যে শতশত কৃষক আবারও আক্রান্ত জমিতে নতুন করে ধান লাগিয়েছেন। এতে তাদের বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে।

রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে আমন ধান গাছের পাতা হলুদ হয়ে মারা যাওয়ায় স্থানীয় কোন ভাবেই ধান রক্ষা করতে পারছেন না কৃষকরা। কৃষকদের ধান রক্ষায় উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষে পরামর্শ ও নির্দেশণা চেয়েছেন।

সিংগারপাড়া গ্রামের কৃষক মো: দুলাল হোসেন জানান, আমি ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি। আমার আড়াই বিঘা জমির ধানে পাতা মোড়া রোগে ধানের পাতা হলুদ হয়ে মরে গেছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কিটনাশক বিক্রেতাদের থেকে পরামর্শ নিয়ে রক্ষা করতে পারছি না জমির ধান গুলো। নতুন করে আবার জমিতে ধান লাগাতে হচ্ছে। এতে আমাদের বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে। আমার মত আরো কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ক্ষতিরহাত থেকে রক্ষা পেতে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ ও নির্দেশণা চেয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় রোপা আমন ধানে কিছু এলাকার জমিতে ধানের পাতা হলুদ হয়ে গিয়েছিল। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আক্রান্ত ধান গাছগুলো আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে আক্রান্ত ধান গাছগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares