| | শুক্রবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী |

মাদারীপুরের হাট-বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব

প্রকাশিতঃ ৭:২৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমানে পদ্মা নদীর মাদারীপুর অংশে তিনটি ইউনিয়নের কয়েকশ জেলেদের জালে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পরছে। এর ফলে মাদারীপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ পাওয়ায় যাচ্ছে। বাজারে মাছের সরবরাহ বিগত কয়েক মাসের তুলনায় অনেক বেশি দেখা গেছে। বাজারে এখন ডিমওয়ালা ইলিশ বেশি ওঠায় ক্রেতারাই আনন্দের সাথে ক্রয় করলেও অনেকেই আবার হতাশার কথা বলছেন। এই ডিমওয়ালা মাছ না ধরার পক্ষে মত দিয়েছেন মাদারীপুরের সচেতন মহল।

মাদারীপুরের বেশ কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মানদী বেষ্টিত বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাত এ তিনটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের কয়েকশ জেলে এখন পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছে।

জেলারা প্রতিদিন হাজার হাজার ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ ধরছে। যা বিক্রি করছে উপজেলার পাঁচ্চর আড়তে, মাওয়া ঘাটের আড়তে ও জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে। সরবরাহ বেশি থাকার পরও দামের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন চোখে পরছে না। চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে এ সব মাছ।

শহরের ইটেরপুল বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, বাজারে মাছের পরিমাণ ভালো। কিন্তু সে অনুযায়ী দামও বেশি। গত বর্ষা মৌসুমের তুলনায় বর্তমানে মাছের দাম অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি মাছে ডিম রয়েছে। সরকার যদি ডিমওয়ালা মাছগুলো এখন থেকেই ধরা নিষিদ্ধ করতো তা হলে আগামী বছরে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যেতে। সাধারণ মানুষও কম দামে কিনতে পারতো।

মস্তফাপুর বাজারে মাছ কিনতে আসা হাবিব হাওলাদার বলেন, ৫/৬ পিচ মাছে ১ কেজি হয়, এরকম ইলিশের দাম কিছুটা কম হওয়ায় নি¤œ আয়ের মানুষেরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে। এছাড়াও বড় ইলিশের দাম বেশি। তবে অন্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে ইলিশের দাম একটু কম। এই সময়টায় বড় ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। প্রায় প্রতিটি ইলিশ মাছের ভিতরে ডিম রয়েছে।

মাছের খুচরা বিক্রেতা বাচ্চু খন্দকার বলেন, মোকামে ইলিশ মাছ এখন বেশি। প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আসছে আড়ৎগুলোতে। আগের চেয়ে দাম কিছুটা কম। হাট-বাজারগুলোতে এখন অন্য মাছের চেয়ে যেমন বেশি উঠছে ইলিশ মাছ, তেমনই বিক্রিও বেশি হচ্ছে। বেশির ভাগ মাছের ভিতরে ডিম রয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পুরান বাজার মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী দিদার হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ইলিশ মাছের ব্যবসা করে আসছি। শহরের সবচেয়ে বড় মাছের বাজার হচ্ছে এটা। এখানে পদ্মার ইলিশ বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে যে মাছগুলো বাজারে আসছে তার বেশির ভাগ মাছের পেটে ডিম রয়েছে। অন্য সময়ের তুলনায় মাছ বেশি উঠলেও দামও অনেক বেশি। পদ্মার মাছ ছাড়াও বরিশাল ও চাঁদপুর অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ আসে।

মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অভ নেচারের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, এখন বাজারে যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগ মাছের পেটে ডিম রয়েছে। তাই সরকার যদি মাছ ধরা বন্ধ রাখার সময়টা আরো কয়েকদিন বাড়িয়ে দিতো, তা হলে আগামী বছরে এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুন / তিনগুন মাছ বেশি পাওয়া যেত। সাধারণ মানুষ সহজেই মাছ কিনে খেতে পারতো।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহম্মেদ বলেন, ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাজারে যে সব ইলিশ মাছ পাওয়া যায় তার বেশির ভাগ মাছে ডিম রয়েছে। সরকার মাছ ধরা নিষেধ রাখছে অক্টোবর মাসের প্রথম দিক থেকে। আমার দৃষ্টিকোন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে পুরো অক্টোবর মাস পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলে সামনের মৌসুমে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। এ বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো, মাছ ধরা নিষেধের সময়টা বৃদ্ধির জন্য ।

মাদারীপুর জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, মাদারীপুরের বাজারগুলোতে ইলিশের বেশ সরবরাহ রয়েছে। তাছাড়া পদ্মানদীতেও জেলেদের জালে বেশ ইলিশ ধরা পরছে। আর একারণেই বাজারগুলোতে ইলিশের দামও তুলনামূলক কম। প্রতি বছর অক্টোবর মাসে ২২ দিন সকল ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ থাকে। তবে এ ব্যাপারে এখনো আমাদের কাছে কোন চিঠি আসেনি।

তিনি আরও বলেন, এখন যে মাছে ডিম পাওয়া যায়, সেই মাছের পরিপূর্ণভাবে ডিম ছাড়ার সময় আসেনি। আর ডিমওয়ালা মাছ ধরা কবে থেকে নিষেধ করবে তা নির্ধারণ করে মৎস গবেষণা কেন্দ্র।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares