| | মঙ্গলবার, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

খুলনা অঞ্চলে ঝিমিয়ে পড়েছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ বিরোধী অভিযান : চক্র ফের সক্রিয়

প্রকাশিতঃ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

খুলনা অফিস : খুলনা অঞ্চলে ঝিমিয়ে পড়েছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ বিরোধী অভিযান। গেল বছরের তুলনায় চলতি বছর অভিযান পরিচালিত হয়েছে অনেক কম। এতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুশের সাথে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এ সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান না চাললে অচিরেই সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে সচেতন মহলের আশঙ্কা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরের পুশ বিরোধী যে অভিযান পরিচালিত হয়েছে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সে সংখ্যা অনেক কম। চলতি বছর গত ২ এপ্রিল কোস্ট গার্ড, মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের যৌথ অভিযানে পূর্ব রূপসা এলাকার ভাই ভাই ফিস ও রিয়াদ ফিসে অভিযান চালায়।

অভিযানে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ ও মৎস্য ডিপোর লাইসেন্স না থাকার অপরাধে মেসার্স ভাই ভাই ফিসের মালিক নজরল ইসলামকে নগদ এক লাখ এবং মেসার্স রিয়াদ ফিস মালিক মোঃ মনিরজ্জামানকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ডিপো থেকে পাতিল, সিরিঞ্জ, গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার ও জেলী জব্দ করা হয়। জব্দকরা চিংড়ি রূপসা নদীতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। এ অভিযানে মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম, লিপ্টন সরদার, এমএম ইফতেখার হাসান, প্রণব দাশ, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনে দায়িত্বরত তৎকালীন রূপসা স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কামান্ডার মজিবুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৩ আগস্ট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে পূর্ব রূপসার একটি মৎস্য ডিপোতে অভিযান চালিয়ে অপদ্রব্য পুশকরা দশ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করে। পরবর্তীতে মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন ডিপো মালিককে নগদ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জব্দকরা চিংড়ি রূপসা নদীতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া চলতি বছর উল্লেখযোগ্য আর কোন অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। অথচ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, ডিবি, এপিবিএন এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক অন্তত ৮টি অভিযানে দুই সহস্রাধিক কেজি অপদ্রব্যপুশকৃত চিংড়ি জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। জরিমানা করা হয় কয়েক লক্ষাধিক টাকা। পাশাপাশি পুশের অপরাধে অনেক মৎস্য ডিপো সিলগালা এমনকি কয়েকজনের সাজাও দেয়া হয়।

এদিকে পুশ বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় অসাধু ব্যবসায়ী চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। খুলনার নতুন বাজার, পূর্ব রূপসা এলাকার বিভিন্ন চিংড়ির ডিপোসহ বিভিন্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন মোকামে দেদারছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা হচ্ছে বলে বলে জানা গেছে।

আর এসব চিংড়ি ক্রয় করছে বিভিন্ন মাছ কোম্পানি। আর অপদ্রব্য পুশ করা এসব চিংড়ি কিনতে বিদেশিরা আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে চিংড়ি শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares