| | বৃহস্পতিবার, ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

৪১০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় ৪৮৮৬ কোটি

প্রকাশিতঃ ১:০৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ব্যাপকহারে। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ৪১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। হাতিরঝিলের আদলেই গড়ে তোলা হবে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক। এ কারণেই সময় ও ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর আগেও একবার প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিলো রাজউক। তবে একাধিক প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ব্যয় কমানোর জন্য নির্দেশ দেয় পরিকল্পনা কমিশন। এরপরেই আকাশচুম্বি ব্যয় বাড়িয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি পাঠিয়েছে রাজউক। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

রাজউক সূত্র জানায়, মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এবারের সংশোধিত ডিপিপি’তে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে ২০২২ সাল পর্যন্ত।

তবে নতুন পরিকল্পনায় ৮৬ দশমিক ৪২ একরের পরিবর্তে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ৮০ দশমিক ১০ একর। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। লেকের পাড়ের জমি কেউ যাতে নিজের বলে দাবি না করেন সেই পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুর রহমান বলেন, প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আসছে। ভূমি অধিগ্রহণের কারণেই এত বেশি ব্যয় বাড়ছে। তবে ২০২২ সালের মধ্যেই আমরা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। হাতিরঝিলের পাশেই এটি হবে আরও একটি হাতিরঝিল। আশা করছি এবার বৃদ্ধি করা সময় ও ব্যয়ের মধ্যে আমরা লেকের উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবো। হাতিরঝিল ৩০০ একর ভূমি নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে, এটাও ৩০০ একর ভূমি নিয়ে বাস্তবায়িত হবে। হাতিরঝিলের থেকে কোনো অংশে কম নয় এই প্রকল্প।

চূড়ান্ত নকশার ওপর বিস্তারিত ব্যয় প্রাক্কলন, মাটি ভরাট এবং কড়াইল বস্তিবাসীর একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজউক।

সূত্র জানায়, হাতিরঝিল প্রকল্পের কোল ঘেঁষে অবৈধ দখল থেকে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উদ্ধার, লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং পানির গুণগত মান রক্ষাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের চারদিকের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে লেকের পরিবেশের উন্নয়ন করা হবে।

লেকের ৯টি স্থানে হাতিরঝিলের মতোই নান্দনিক সেতু ও সেগুলোর ওপরে চারটি ওভারপাস তৈরি করা হবে। এর মধ্যে গুলশান ও বাড্ডার মধ্যে একটি এবং গুলশান-২ থেকে বারিধারা যেতে একটি সেতু নির্মাণ ছাড়াও নিকেতনে বিদ্যমান সেতুটি ভেঙে বড় সেতু তৈরি করা হবে। এছাড়া, শাহজাদপুরের ঝিলপাড়ে একটি, বনানী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে একটি, গুলশান-১ নম্বরের কাছে একটি, পুলিশ প্লাজা থেকে নিকেতন এবং বনানী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প এলাকায় ২৪ হাজার ৬২২ দশমিক ১৬ মিটার রানিং মিটার ওয়াকওয়ে, ২ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ মিটার ওয়াকওয়ে এবং ১১ হাজার ৬৪ মিটার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে দেড় হাজার রানিং মিটার তীর সংরক্ষণ, ৬৯ হাজার ৬১ বর্গমিটার টার্ফিং ও ২ হাজার ৪৮০ মিটার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণসহ ৭৫০টি পিট ও তিন হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।

২ দশমিক ১০ একর আয়তনের পার্ক, দুই হাজার মিটার ওয়াল, ২২ হাজার ১১৮ রানিং মিটার আরসিসি পাইপ স্থাপন ও পরামর্শকসেবা নিয়োগ দেওয়া হবে। লেকের চারপাশে সাধারণ মানুষের হাঁটা-চলার ব্যবস্থা থাকবে ২৪ হাজার ৬২২ দশমিক ১৬ রানিং মিটারজুড়ে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজন অনুসারে তিনটা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও বাড্ডা এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনারও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares